‘ভাত দেয়ার মুরোদ নেই কিল মারার গোসাই’ প্রবাদের মতোই ভোক্তাদের সঙ্গে আচরণ করছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)। বছরের পর বছর ধরে গ্যাস সংকট। রাজধানীর গৃহিনীদের গভীর রাতে রান্নার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। সে সব এলাকায় দিনে চুলায় গ্যাস পাওয়া যায় তাতেও গ্যাসের চাপ কম। ফলে গ্যাস সংকটে নাগরিক দুর্ভোগ চরমে। কিন্তু পেট্রোবাংলা গ্যাসের দান বাড়িয়েই চলছে। হঠাৎ করে প্রতি ইউনিট গ্যাসের দাম ৩০ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে দেড়গুণ বাড়িয়ে ৭৫ টাকা ৭২ পয়সা করার প্রস্তাব করেছে। শিল্পখাতে গ্যাসের দাম আবারও বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)।
জানতে চাইলে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ম. তামিম জানান, প্রতিবছর শীত আসলেই গ্যাস থাকে না। গ্যাস না থাকার কারণে চুলা জ্বলছে না। আবার গ্যাসের দাম দেড়গুণ বাড়ানোর প্রস্তাব। এ সিদ্ধান্ত আগে নিলে ভুল হবে। সরকার আবাসিকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রেখেছে, তবু বিতরণ অবকাঠানো উন্নয়নে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প কেন নেওয়া হচ্ছে এর জবাব নেই। দেশের অধিকাংশ এলাকায় গ্যাস পাইপলাইন বসানো হয় রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নেই। কিন্তু গ্যাহকের সমস্যা সমাধন হচ্ছে না। এ দিকে নজর দিতে হবে।
নিত্যপণ্যের মৃল্যবৃদ্ধির সঙ্গে গ্যাসের যন্ত্রণা থামছে না। বাসা-বাড়িতে এবং শিল্পকারখানয় গ্যাস না থাকলেও গ্রাহকদের প্রতিমাসে বিল দিতে হচ্ছে। শিল্পখাতে গ্যাসের দাম আবারও বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)। এতে প্রতি ইউনিট গ্যাসের দাম ৩০ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে দেড়গুণ বাড়িয়ে ৭৫ টাকা ৭২ পয়সা করার প্রস্তাব করেছে প্রতিষ্ঠানটি। জ্বালানি বিভাগের অনুমোদনের পর গত সোমবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে এ প্রস্তাব দিয়েছে পেট্রোবাংলা। কমিশন সভায় বিইআরসি বাড়তি দামের অনুমোদন দিলেই বাড়বে গ্যাসের দাম। গ্যাসের দাম দেড়গুণ বাড়ানোর প্রস্তাব, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার বলে জানা গেছে।
গত ১৬ বছর পতিত শেখ হাসিনা সরকার গ্যাসের দাম কমানো প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগনের সাথে প্রতারনা করেছে, আবার প্রতি বছর গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করেছে। এ কারণে তাকে ভারতে পালাতে হয়েছে। আবার অন্তর্বর্তীকালন সরকার ক্ষমতায় আসার ৫ মাস পরে গ্যাসের সরবরাহ ঠিক না করে উল্টা গ্যাসের দাম বাড়নোর চেষ্টা করছে। তার বাস্তবায়ন করলে এ সরকার বড় ভুল করবে বলে মনে করছেন সাধারণ গ্রাহকরা। তাদের দাবি অন্তর্বতীকালীন সরকার জ্বালানি সেক্টরের দুনীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করলে গ্যাস সংস্কটের আসল রহস্য উৎঘটন হবে। গতকাল রাজধানী শ্যামলী, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডী, যাত্রাবাড়ী, ফার্মগেট আবাসিক এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।তাদের এক কথা, গ্যাস পাচ্ছেন না, কিন্তু গ্যাসের বিল দিতে হচ্ছে। নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে হাঁসফাঁস অবস্থার সঙ্গে যোগ হয়েছে গ্যাসের যন্ত্রণা। শীতকাল বলে বিদ্যুতের বাড়তি দাম দিতে হলেও ভোগান্তি টের পাওয়া যাচ্ছে না, গরমে এ ভোগান্তির মাত্রা কতটুকু বাড়বে, তা ভেবেই একেকজন আঁতকে উঠছিলেন।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সচিব ব্যারিস্টার মো. খলিলুর রহমান খান সাংবাদিকদের বলেন,চলতি মাসের কমিশন সভা হয়েছে। আগামী ফেব্রুয়ারির ২ তারিখ পরবর্তী কমিশন সভা বসবে। সেখানে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর আগে গত সোমবার বিইআরসিকে পাঠানো পেট্রোবাংলার প্রস্তাবে বলা হয়, পুরোনো গ্রাহকের ক্ষেত্রে অনুমোদিত লোডের বাড়তি ব্যবহৃত গ্যাসের বিল হবে নতুন দামে। যেসব শিল্পকারখানা নতুন সংযোগের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে অনুমোদিত লোডের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত আগের দাম দিতে হবে। এর বাইরে বাকি খরচের জন্য নতুন দাম প্রস্তাব করা হয়েছে। শিল্পে গ্যাস ব্যবহারের এক চিত্র তুলে ধরেছে পেট্রোবাংলা। গত ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে গত অক্টোবর পর্যন্ত হিসাবে দেখা গেছে, শিল্পে অনুমোদিত লোডের চেয়ে ১৪ কোটি ৭৮ লাখ ঘনমিটার গ্যাস বাড়তি ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া ক্যাপটিভে ৫ কোটি ৭৬ লাখ ঘনমিটার গ্যাস বাড়তি ব্যবহার করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুসারে পুরোনো কারখানায় বাড়তি এমন ব্যবহারের ক্ষেত্রে গ্যাসের বিল হবে নতুন দামে।
পেট্রোবাংলা বিভিন্ন কোম্পানি থেকে দেশে উৎপাদিত গ্যাস কিনে নেয়। এতে প্রতি ইউনিটে তাদের গড়ে খরচ হয় ৬ টাকা ৭ পয়সা। এছাড়া তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করতে খরচ হচ্ছে প্রতি ইউনিটে ৭৫ টাকার বেশি। এতে লোকসানে আছে সংস্থাটি। তবে নতুন করে ভর্তুকি দিতে রাজি নয় সরকার। ফলে এখন এলএনজি আমদানির খরচ পুরোটাই শিল্পের ওপর চাপাতে চাইছে পেট্রোবাংলা। এলএনজি আমদানি করে চলতি অর্থবছর (২০২৪-২৫) ১৬ হাজার ১৬২ কোটি টাকা ঘাটতি হতে পারে বলে হিসাব দেখিয়েছে পেট্রোবাংলা। গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কেনা এলএনজির খরচ হিসাব করে প্রতি ইউনিটের দাম প্রস্তাব করেছে ৭৫ টাকা ৭২ পয়সা। এর মধ্যে আমদানি খরচ ৬৩ টাকা ৫৮ পয়সা। বাকিটা শুল্ক, কর ও পরিচালন খরচ হিসেবে দেখানো হয়েছে। ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাহী আদেশে গ্যাসের দাম গড়ে ৮২ শতাংশ বাড়ানো হয়। তখন শিল্পে গ্যাসের মূল্য ১১ টাকা ৯৮ পয়সা থেকে বাড়িয়ে করা হয় ৩০ টাকা। ক্যাপটিভে ১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ টাকা করা হয়েছিল। পরে ক্যাপটিভে আরেক দফা গ্যাসের দাম বাড়িয়ে করা হয় ৩০ টাকা ৭৫ পয়সা। গত বছরের ২৮ আগস্ট গণশুনানি ছাড়াই বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিইআরসির নির্বাহী ক্ষমতা বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। আইন মন্ত্রণালয়ের জারি করা গেজেটে বলা হয়, এই সংশোধনীর মাধ্যমে বিইআরসি আইন ২০০৩ এর ৩৪ (ক) ধারা বিলুপ্ত হবে। এতে গণশুনানি ছাড়াই নির্বাহী ক্ষমতার মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য নির্ধারণের ক্ষমতা সরকারকে দিয়ে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ৩৪ (ক) ধারা প্রবর্তন করেছিল, সেটি বাতিল হয়। এর আগে ২০২২ সালের ১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন ২০০৩ এর সংশোধন করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। আইনটির ৩৪ (ক) ধারায় সংশোধন করা হয়। শিল্পখাতে গ্যাস ব্যবহারের এক চিত্র তুলে ধরেছে পেট্রোবাংলা। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে গত অক্টোবর পর্যন্ত হিসাবে দেখা গেছে, শিল্পে অনুমোদিত লোডের চেয়ে ১৪ কোটি ৭৮ লাখ ঘনমিটার গ্যাস বাড়তি ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়াও ক্যাপটিভে ৫ কোটি ৭৬ লাখ ঘনমিটার গ্যাস বাড়তি ব্যবহার করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুসারে, পুরোনো কারখানায় বাড়তি এমন ব্যবহারের ক্ষেত্রে গ্যাসের বিল হবে নতুন দামে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাহী আদেশে গ্যাসের দাম গড়ে ৮২ শতাংশ বাড়ানো হয়। তখন শিল্পে গ্যাসের দাম ১১ টাকা ৯৮ পয়সা থেকে বাড়িয়ে করা হয় ৩০ টাকা। ক্যাপটিভে ১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ টাকা করা হয়েছিল। পরে ক্যাপটিভে আরেক দফা গ্যাসের দাম বাড়িয়ে করা হয় ৩০ টাকা ৭৫ পয়সা।
গত বছর প্রকল্পে যাচাই-বাচাই না করেই খুলনা-যশোর অঞ্চলে গ্যাস দিতে প্রায় ১২শ কোটি টাকা খরচায় নির্মাণ করা হয়েছিল সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামো। পরে গ্যাস সংকটের মুখে ওই প্রকল্প বাতিল করে সরকার। এই বিপুল বিনিয়োগ এখন পড়ে আছে মাটির নিচে। ঋণ করে নেওয়া এই অর্থের ঘানি টানছে সংশ্নিষ্ট কোম্পানিগুলো। কাজে না লাগলেও সঞ্চালন ও বিতরণ পর্যায়ে এ ধরনের অপ্রয়োজনীয় ও অপরিকল্পিত প্রকল্প এখনও থেমে নেই। গ্যাস সংকটে কাজে লাগবে না জেনেও এসব প্রকল্প নেওয়া হয় মূলত রাজনৈতিক কারণে। বর্তমানে গ্যাসের চাহিদা দৈনিক ৩৮০ কোটি ঘনফুট। পেট্রোবাংলা দিচ্ছে ২৭৪ কোটি ঘনফুট। বছরে ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকার গ্যাস আমদানি করেও শিল্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি মেটানো যাচ্ছে না। এর মধ্যে নতুন এলাকায় গ্যাস দেওয়ার প্রকল্প পুরোপুরি অপচয়। অযাচিত এসব খরচ পরে গ্যাসের দাম বাড়িয়ে ভোক্তাদের পকেট থেকেই তুলে নেওয়া হবে। সর্বশেষ গত ২৮ জানুয়ারি গ্যাসের দাম গ্রাহকভেদে ১৭৯ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞরা। অপরিকল্পতিভাবে নেওয়া গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি-জিটিসিএলের ৯ হাজার ৬৮৭ কোটি টাকার পাইপলাইন এখন পূর্ণসক্ষমতায় ব্যবহূত হচ্ছে না। আরও ৩ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সংস্থাটি। এর মধ্যে ১ হাজার ৩৭৮ কোটি টাকায় দেশের উত্তরাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহে ১৫০ কিলোমিটার বগুড়া-রংপুর-সৈয়দপুর সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। ঢাকা ও এর আশপাশের শিল্পকারখানাই গ্যাস পাচ্ছে না, সেখানে উত্তরাঞ্চলে গ্যাস দেওয়া পাইপলাইন নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা। ৮২৩ কোটি টাকায় ধনুয়া-এলেঙ্গা-নকলা পাইপলাইন নির্মিত হয়েছে। গ্যাস সংকটে এটিও খুব বেশি কাজে লাগবে না বলে মনে করছেন সংশ্নিষ্টরা।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর বসিলা এলাকায় বাসিন্দার ফাতেমা বেগম পেশায় একজন শিক্ষক। একচিলতে বারান্দায় দুটি চুলা রাখা। একটি চুলা বিদ্যুৎচালিত, আর গ্যাসের দুইটি ছুলা রয়েছে। সকাল সাড়ে ৬ টায় দিকে ও গ্যাস পাচ্ছে না। না খেয়ে সন্তানকে নিয়ে প্রতিদিন স্কুলে যেতে হয়। আবার কোনো দিন বিদ্যুৎচালিত চুলায় রান্না করতে হচ্ছে। যাত্রাবাড়ীর এলাকায় চারতলা ভবনের নিচতলায় স্বামী-সন্তান নিয়ে থাকেন নাসরিন। একচিলতে বারান্দায় দুটি চুলা রাখা। একটি চুলা মাটি দিয়ে, আরেকটি টিনের কৌটা কেটে বানানো। রান্নাঘরে ঢুকে দেখা গেল, দুটি গ্যাসের চুলার ওপরে হাঁড়িপাতিল বসানো। গ্যাসের চুলা থাকতে লাকড়ি দিয়ে কষ্ট করে কেন মাটির চুলায় রান্না করছেন, এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে নাসরিন ম্যাচের কাঠি দিয়ে গ্যাসের চুলা জ্বালানোর চেষ্টা করলেন। তিনটি কাঠি জ্বালানোর পর গ্যাসের চুলায় যেটুকু আগুন দেখা গেল, তা নিবু নিবু মোমের বাতির চেয়ে কম তেজের। তার মতো রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা এমনই গ্যাস-সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। দিনের বেশির ভাগ সময় গ্যাস থাকে না। গভীর রাতে গ্যাস এলে তাঁদের রান্না করতে হচ্ছে। তবে গ্যাসের চুলায় আগুন থাকুক বা না থাকুক, রান্না হোক বা না হোক, মাস শেষে নির্ধারিত গ্যাস বিল দিতেই হচ্ছে। গ্যাস-সংকটে নাসরিনের মতো লাকড়ি বা ইলেকট্রিক চুলা, রাইস কুকার, স্টোভ বা সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করে বিকল্প উপায়ে রান্না করছেন। এতে তাঁদের বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। কৃষিকাজ করা আবদুল মানান বলেন, রাত একটা-দেড়টার দিকে যখন গ্যাস আসে, তখন গ্যাসের লাইনে পানি থাকে। ভবনের বাইরে বিশেষ চাবি ঘুরিয়ে লাইন থেকে প্রথমে হাওয়া বের করে পরে পানি বের করে দেওয়ার কাজ করছেন। দিনের বেলা ঝিমুনিতে কাটে। অনেক সময় রুটি, কলা খেয়ে কাটাতে হয় বলে পেটের খিদেও মেটে না। এলাকার অনেক বাসা, দোকান ও হোটেলে সিলিন্ডার গ্যাসের ব্যবহার বেড়েছে। অনেক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন, সিলিন্ডারের দামও বাড়িয়ে দিয়েছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে বেশি দামে।
কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম জানান, যাচাই-বাছাই ছাড়া কোম্পানিগুলো প্রকল্প নেয়। ঋণ করে নেওয়া এসব প্রকল্পের বিনিয়োগ উসুল হয় না। ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে লোকসান গুনে কোম্পানিগুলো। যার দায় চাপানো হয় গ্রাহকের ওপর। ক্ষতি সামলাতে বারবার বাড়ানো হয় দাম। গ্যাস না পেলেও এখন বাসাবাড়ির গ্রাহকদের দুই চুলায় মাসে ১ হাজার ৮০ টাকা বিল দিতে হচ্ছে।
