মানুষের স্বভাবজাত কৌতূহল ও জিজ্ঞাসা থেকেই আজ জ্ঞান-বিজ্ঞানের এই উত্তরণ। ইসলামে মানুষের এই জিজ্ঞাসা ও কৌতূহল প্রশংসনীয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা জ্ঞানীদের কাছে জিজ্ঞাসা কোরো যদি না জানো।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ৪৩)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, উত্তম প্রশ্ন হলো ইলমের অর্ধেক।’ (ফাতহুল বারি : ১/১২৫)
সাহাবিদের প্রশ্ন শুনতেন নবীজি (সা.) : আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর সাহাবিদের মাঝে বসতেন। কোনো বিদেশি এলে সে চিনতে পারত না কোন ব্যক্তি আল্লাহর রাসুল। অতঃপর সাহাবিরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে অনুমতি চাইলেন, আমরা আপনার জন্য এমন একটি আসন তৈরি করি, যেন বিদেশি কেউ এলে আপনাকে চিনতে পারে। সাহাবিরা বলেন, আমরা তাঁর জন্য একটি মাটির আসন তৈরি করেছিলাম, যার ওপর তিনি বসতেন। (ফাতহুল বারি : ১/১১৬)
প্রশ্নে থাকবে বিনয় : ইমাম নববি (রহ.) বলেন, প্রশ্নকারীর উচিত তার শিক্ষকের সামনে আদব রক্ষা করা এবং নম্র হয়ে প্রশ্ন করা। তিনি ইয়াহিয়া বিন ইয়ামারের বর্ণনা দ্বারা এর পক্ষে প্রমাণ পেশ করেন। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমি কি নিকটবর্তী হব? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর তিনি নিকটবর্তী হলেন এবং দাঁড়ালেন। আমরা তাঁর প্রতি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সম্মান প্রদর্শনে আশ্চর্য হলাম। আবার তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমি কি কাছে আসব? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, হ্যাঁ। এরপর তিনি এতটা নিকটবর্তী হলেন যে তাঁর হাঁটু রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাঁটুর ওপরে রাখলেন। ইমাম আহমদ (রহ.)-এর বর্ণনায় পাওয়া যায়, তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে এ ব্যক্তি অপেক্ষা কোনো মানুষকে অধিক সম্মান করতে দেখিনি। (সাবউ ওয়া সাবউনা ফায়েদাতুন শারইয়্যাতুন তারবাবিয়্যাতুম মিন হাদিসিন ওয়াহিদিন : ১/৯)
প্রশ্ন জ্ঞানার্জনের মাধ্যম : আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) সম্পর্কে বলা হয় যে তাঁকে প্রশ্ন করা হলো কিসের দ্বারা ইলমের প্রচার হয়? উত্তরে তিনি বলেন, প্রশ্নকারী জিহ্বা ও বুঝমান অন্তরের দ্বারা। (মাজমুউল ফাতাওয়া, ৯/৩০৩)
ইমাম জুহুরি (রহ.) বলেন, ইলম বা জ্ঞান হচ্ছে ভাণ্ডার আর প্রশ্ন হচ্ছে তার চাবি। (আত তারবিয়াতুজ জাতিয়াতু মিনাল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ : ১/৮৯)
উসামি (রহ.)-কে প্রশ্ন করা হলো, আপনি যা অর্জন করেছেন, তা কিভাবে অর্জন করেছেন? তিনি বললেন, অধিক প্রশ্ন এবং পলায়নরত প্রজ্ঞাকে খপ করে ধরার দ্বারা। (প্রাগুক্ত)
