মবক্রেসি শুধুমাত্র রাস্তায় জমায়েত হওয়া পাবলিকেরাই করে না, মবক্রেসি ইনস্টিটিউশনাল/প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতিতেও হতে পারে। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে, গণমাধ্যমের চর্চার মধ্য দিয়ে কিংবা সরকারি আয়োজনে প্রচারণায় কিছু মানুষের গায়ে অপরাধের ট্যাগ লাগিয়ে দিয়ে এক-পক্ষীয় হুজুগ তৈরি করে তাদেরকে ‘নিষিদ্ধ, আতঙ্কিত ও অস্পৃশ্য’ মানুষে পরিণত করাটাও মবক্রেসি। প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে অপরিকল্পিতভাবে দুই পত্রিকা অফিসের সামনে ভাঙচুর চলাকালে হাজির হয়ে কিংবা দূরে বসে ফেসবুকে একটা পোস্ট দিয়ে যারা বিপদে পড়েছে, তারাও এখন একটা মবক্রেসির মধ্যে আছে। চারদিক থেকে ঘেরাও ঘেরাও ভাব; কোনঠাসা না-মানুষে পরিণত হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে অনেকে। কেউ কেউ ধরা পড়ে কোনো কথা বলতে পারছে না। যতটুকু দূর থেকে শুনতে পাচ্ছি, সামাজিক মাধ্যমে দেখতে পাচ্ছি, সেখান থেকেই বলা।
প্রতিবাদ, ক্ষুব্ধতা, উত্তেজনা, হঠাৎ পরিস্থিতির শিকার হওয়া এবং ষড়যন্ত্র/পরিকল্পনা এ বিষয়গুলোকে আলাদা আলাদা করার সক্ষমতা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও গণমাধ্যমের অর্জন করা উচিত। এটা তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কিংবা ভিডিও ফুটেজে চেহারা চলে আসা সবাইকে সমান অপরাধী হিসেবে ট্রিট করার কোনো সুযোগ আছে বলে মনে হয় না। পুলিশি ও মিডিয়াগত মবক্রেসির মধ্য দিয়ে প্রতিবাদী জনতাকে ঢালাও অপরাধী হিসেবে সাব্যস্ত করাটা চরম অনুচিত এবং অন্যায় কাজ। এসবের ফল কখনো ভালো হয় না।
© মাওলানা Sharif Muhammad
