Sunday, May 31, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

তওবার গুরুত্ব

তওবা শব্দের অর্থ হলো ফিরে আসা। অর্থাৎ মানুষ প্রতিনিয়ত ভুল করে, অন্যায় করে, পাপ করে, গুনাহ করে, এসব যাবতীয় কাজ করে সে যখন অনুতপ্ত ও লজ্জিত হয়ে সেসব নিন্দনীয় কাজ আর ভবিষ্যতে না করার সংকল্প নিয়ে আল্লাহর দরবারে দৃঢ় সংকল্প করে আল্লাহর পথে ফিরে আসে তার নামই ‘তওবা’। 

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহতায়ালার ওপর শুধু তাদের তওবাই কবুলযোগ্য হবে, যারা অজ্ঞাতসারে গুনাহর কাজ করে অতঃপর জানা মাত্রই তারা দ্রুত তা থেকে ফিরে আসে, মূলত এরাই হচ্ছে সেসব লোক যাদের ওপর আল্লাহতায়ালা দয়া পরবশ হন।’ (সুরা নিসা, আয়াত ১৭)। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেন, আল্লাহর কসম, আমি দৈনিক সত্তরবারের বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই। সুবহানাল্লাহ।

তওবা ইস্তিগফার পাপ থেকে মুক্তির সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় মানুষ প্রতিদিনই গুনাহর কাজ করে যাচ্ছে। এ গুনাহ বা পাপ করা অস্বাভাবিক কিছু নয়। এ পাপ হয়ে গেলেও ইসলাম ধর্মে তা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার পথও বাতলে দেওয়া হয়েছে। যখন কোনো ব্যক্তি পাপ করে ফেলে তখন তাকে অত্যন্ত বিনয় ও আন্তরিকতার সঙ্গে আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে। 

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, হে ইমানদার ব্যক্তিরা তোমরা গুনাহ খাতার জন্য আল্লাহর দরবারে তওবা কর, একান্ত খাঁটি তওবা। আশা করা যায় এর ফলে তোমাদের রব তোমাদের গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেবেন এবং এর বিনিময়ে পরকালে তিনি তোমাদের জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। (সুরা আত তাহরিম, আয়াত ৮)।

তওবা কবুলের জন্য ইসলাম ধর্মে বেশ কয়েকটি দিকনির্দেশনা রয়েছে। আমাদের তা পরিপালন করতে হবে। এতে আশা করা যায় আল্লাহ আমাদের তওবা কবুল করবেন। জেনেবুঝে অন্যায় ও পাপ কাজে জড়িত হওয়া যাবে না। পাপ বা অন্যায় কাজ করে ফেলার পরপরই আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। দেরি করা যাবে না। নিজের ভুল স্বীকার করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। মৃত্যুযন্ত্রণা শুরু হওয়ার আগেই ক্ষমা চাইতে হবে। দোয়া কবুলের ব্যাপারে তাড়াহুড়া করা যাবে না। এক্ষেত্রে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। 

আয়শা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেছেন, যখন বান্দা গুনাহ স্বীকার এবং অনুতপ্ত হয়ে তওবা করে, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়, আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন এবং তাকে ক্ষমা করে দেন। সুবহানাল্লাহ। একজন তওবাকারী বান্দার জীবনে এর চেয়ে বড় সৌভাগ্যের আর কী হতে পারে?

অপরাধ, অন্যায় ও পাপ করার পর বান্দা যখন আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে তওবা করে আল্লাহর কাছে তা অধিক প্রিয় বলে বিবেচিত। আল্লাহ বলেন, হে ইমানদারগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। (সুরা আন নুর, আয়াত ৩১)। 

আমাদের মনে রাখতে হবে ভালো কাজের জন্য যেমন পরকালে রয়েছে আল্লাহর কাছে পুরস্কার তেমনি মন্দ কাজের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। আর সেই কঠিন শাস্তি থেকে বাঁচতে হলে আমাদের সামনে একটি মাত্র পথ খোলা আর তা হলো তওবা করে ফিরে আসা। তওবার মূল উদ্দেশ্য হলো- আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিজের পাপ মোচন করে তাকে খুশি করানো। তওবা করলে আল্লাহ খুশি হন। বান্দাকে তিনি ক্ষমা করে দেন। 

আল্লাহ বলেন, ‘তারা যখন কোনো অশ্লীল কাজ করে বসে কিংবা নিজেদের ওপর জুলুম করে ফেলে তারা আল্লাহকে সঙ্গে সঙ্গে স্মরণ করে এবং নিজেদের গুনাহর জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে। আল্লাহতায়ালা ছাড়া আর কে আছে যে তাদের গুনাহ মাফ করে দিতে পারে?।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত ১৩৫)। 

মানুষ প্রতিনিয়ত শয়তানের প্ররোচনায় পড়ে জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আল্লাহতায়ালার আদেশ-নিষেধ লঙ্ঘন করে গুনাহ, অন্যায় আর পাপ কাজ করে ফেলে। তাই আল্লাহতায়ালা সেই গুনাহ থেকে তার বান্দাকে মুক্তি দেওয়ার জন্য তওবার ব্যবস্থা রেখেছেন। 

আদম (আ.) আল্লাহর কাছে এই বলে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন, হে আমাদের রব, আমরা আমাদের নিজেদের ওপর জুলুম করেছি, যদি তুমি আমাদের মাফ না কর এবং আমাদের ওপর দয়া না কর তাহলে আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব। (সুরা আরাফ, আয়াত ২৩)। 

আল্লাহ রব্বুল আলামিন আমাদের সবাইকে গুনাহর হাত থেকে রক্ষা করুন এবং প্রতিনিয়ত তওবা করার মাধ্যমে তাঁর প্রিয় বান্দা হওয়ার তৌফিক দান করুন।

লেখক : অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

one × 5 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য