সম্প্রতি বিবিসি এমন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যা পড়ে মনে হতে পারে যে তালিবানের ভাঙন হয়ত সন্নিকটে। এরপর সেই প্রতিবেদনের আলোকে প্রথম আলো থেকে আরেকটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নাস্তানাবুদ করে দেওয়া এই অপরাজেয় গোষ্ঠীটি কি এতো দ্রুতই ভেঙে যাচ্ছে?
গত ১৬ জানুয়ারি “তালেবানের শীর্ষ পর্যায়ে ভাঙন, ইন্টারনেট বন্ধের পেছনে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব উন্মোচন করল বিবিসি”-এই শিরোনামে বিবিসি বাংলা থেকে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পুরো প্রতিবেদন জুড়ে অনেক সংবেদনশীল শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। মূলত সেখানে বলা হয়েছে যে তালিবান ভেতর থেকে দুই ভাগে বিভক্তঃ কান্দাহার গোষ্ঠী ও কাবুল গোষ্ঠী। আর এই বিভক্তির কারণ হলো নিজেদের ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার করতে চাওয়ার মানসিকতা।
দাবির দুর্বলতা ও পূর্বের ন্যারেটিভ
প্রতিবেদনটির শুরুতে বলা আছে যে বিবিসির আফগান সার্ভিস অনুসন্ধান চালিয়ে ১০০টির বেশি সাক্ষাৎকার নিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছেন তালেবানের বর্তমান ও সাবেক সদস্য, স্থানীয় সূত্র, বিশেষজ্ঞ ও সাবেক কূটনীতিক। আরও বলা হয়েছে, এই প্রতিবেদনের সংবেদনশীলতা বিবেচনায় ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তার স্বার্থে বিবিসি কারও নাম প্রকাশ না করতে সম্মত হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করা হলেও কিছু বিষয়ের উপর নজর দিলেই অনেক কিছু পরিষ্কার হয়ে যাওয়ার কথা। তালিবান এমন একটি ঐক্যবদ্ধ সামরিক গোষ্ঠী, যারা কিনা পৃথিবীর বড় বড় দুটি পরাশক্তির বিরুদ্ধে বিজয় লাভ করেছিল। নানা কারণেই এই গোষ্ঠীটির অনেক নেতা আত্মগোপনে থেকেছেন বহুদিন যাবৎ, এমনকি সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদাকেও সরাসরি খুব কম মানুষই দেখতে পেয়েছেন। এই নেতার ছবি তোলা পর্যন্ত নিষেধ।
যেখানে তালিবানের বহু নেতা কঠোর গোপনীয়তা বজায়ে রেখে চলেন, সেখানে তাদেরই ভাঙনের ব্যাপারে কীভাবে স্থানীয় সূত্রের উপর নির্ভর করা যায়? এখানে স্থানীয় সূত্রের সংজ্ঞা কী? পূর্ববর্তী সরকারের মদদপুষ্ট কোন গোষ্ঠী বা বাস্তবতা সম্পর্কে জ্ঞাত নন, এমন কারও মতামত কি স্থানীয় সূত্রের অন্তর্গত? এই প্রশ্নগুলোর কোনো স্পষ্ট জবাব নেই প্রতিবেদনটিতে।
এছাড়াও কিছু বিশেষজ্ঞ ও সাবেক কূটনীতিকের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সমস্যা হলো, এসকল বিশেষজ্ঞরা অধিকাংশই গোঁড়া লিবারেল আদর্শ ধারণ করেন, যারা কিনা ওয়ার অন টেররের বয়ানকে ফেরি করে থাকেন। আর এই পশ্চিমা আদর্শের বিশেষজ্ঞদেরকেই যে মিডিয়া তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহার করে আসছে, সেটার প্রমাণ আমরা পাই মাইকেল শইয়ার এর লেখা Osama Bin Laden বইটিতে। তাই এখানেও স্পষ্ট না যে কোন ঘরানার মানুষজনের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে পুরো ঘটনাটা দেখা হচ্ছে।

এছাড়াও তালেবানের বর্তমান ও সাবেক সদস্যদের কথা বলা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই দ্বন্দ্বের ব্যাপারে সকল দাবিকে নাকচ করে দিয়েছেন। সাবেক সদস্যদের মধ্যে একজনের কথা বিশেষভাবে প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তার নাম না বলা হলেও উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি পরে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত আফগান সরকারেও কাজ করেছেন। তিনি বলেন, “(আখুন্দজাদা) শুরু থেকেই নিজের একটি শক্তিশালী গোষ্ঠী গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। যদিও প্রথম দিকে তেমন সুযোগ ছিল না, কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর তিনি খুব দক্ষতার সঙ্গে তা করেন, নিজের কর্তৃত্ব ও অবস্থান ব্যবহার করে ধীরে ধীরে নিজের বলয় বাড়ান।”
এই দাবিটা মৌলিকভাবে প্রথমেই গ্রহণযোগ্যতা হারাবে। কারণ যে তালিবান থেকে বের হয়ে তালিবান বিরোধী শক্তিতে যোগ দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যার দহরম-মহরম সম্পর্ক রয়েছে, সে স্বাভাবিকভাবেই পশ্চিমা স্বার্থ অনুসারে কাজ করবে। এক্ষেত্রে তার মন্তব্য কতটুকু গ্রহণযোগ্য বা সে কোন প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখে মন্তব্য করেছে তা অবশ্যই ঘোলাটে। এক্ষেত্রে বিবিসি কীভাবে তার মন্তব্যকে প্রাথমিক সূত্র হিসেবে ব্যবহার করে তাও প্রশ্নবিদ্ধ।
আরও গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, ইসলামি ইমারাহের অভিভাবক হিসেবে একজন আমির অবশ্যই তার বলয় বৃদ্ধি করবে এবং নিজের ক্ষমতাকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করবেন। কারণ তালিবান সবশেষ যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি পরাশক্তির সাথে লড়াই করেছে। এমতাবস্থায় আমির যদি নিজেই ক্ষমতাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে না পারেন তবে ইমারাহেরও কোনো অস্তিত্ব থাকবে বলে মনে হয় না।
প্রতিবেদনটিতে বারবার বলা হয়েছে যে নারীশিক্ষা নিয়ে নাকি তালিবানের দুই অংশের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে। এক জায়গায় সাবেক উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী শের মোহাম্মদ আব্বাস স্তানিকজাইয়ের কথা বলা হয়েছে। তিনি গত বছর ফেব্রুয়ারিতে নারীদের শিক্ষাব্যবস্থার ‘নিষেধাজ্ঞার’ (বাস্তবে পুরোপুরি নিষিদ্ধ নয়) বিরোধীতা করেন এবং পরে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। এই ব্যক্তিকে স্পষ্ট করে কোনো বিশেষণে আখ্যায়িত না করা গেলেও জেমসটাউন এর ডকুমেন্ট অনুসারে কিছু সন্দেহজনক ব্যাপার লক্ষ্য করা যায়।
যদিও তিনি বহুদিন যাবত তালিবানের সাথে কাজ করেছেন, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ এবং পাকিস্তানের আইএসআই এর সাথে তার ভালো সম্পর্ক ছিল বলে জানা যায়। এমনকি একাংশের মত হলো, স্তানিকজাই তালেবানের নয়, বরং পাকিস্তানের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করতেন। এসব দাবি কতটা গভীর সেটি নিয়ে একদিকে যেমন দ্বিমত এবং প্রশ্ন রয়েছে, তেমনি অন্যদিকে তার দেশ ছাড়া নিয়েও আছে ভিন্নমত। গার্ডিয়ানের সংবাদ অনুসারে, তিনি স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেছেন যে তিনি স্বাস্থ্যগত কারণে দুবাই চলে গেছেন।
নারীশিক্ষা নিয়ে তালিবানের নেতৃবৃন্দ কোনো প্রকার বিবাদেই জড়াননি আসলে। যেখানে তারা একই বাংকারে থেকেছেন বছরের পর বছর, লড়েছেন একসাথে সেখানে শরিয়াহর একটা মৌলিক ব্যাপারে তারা একমত হতে পারবেন না এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। তারা প্রত্যেকেই একটি জায়গায় একমত যে সহশিক্ষা হারাম এবং এমন পরিবেশে নারীর শিক্ষাগ্রহণ চলতে পারে না।
কিন্তু নারীর শিক্ষাগ্রহণের ব্যাপারটাকে কীভাবে দেখা হবে সেটা নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে তালিবানের মধ্যে। এ ধরণের মতপার্থক্য আবু বকর (রা) এবং ওমর (রা) এর মধ্যেও ছিল। কিন্তু ওমর (রা) কখনোই খলিফা আবু বকর (রা)কে শত্রুর চোখে দেখেননি কিংবা তাঁরা স্পষ্ট বিবাদে জড়াননি। এমনকি সালাহউদ্দিন আইয়ুবী (রাহিঃ) এর শাসনামল কিংবা উসমানী সালতানাতেও এমন বহু ঘটনার নজির পাওয়া যায়। এগুলোকে সর্বোচ্চ ‘ফিকহি ইখতিলাফ’ বলা যেতে পারে।
একই সমস্যা ইন্টারনেট বন্ধ নিয়েও হয়েছে। তবে এ ব্যাপারটা তুলনামূলক জটিল। বিবিসির প্রতিবেদন বলছে এ আখুন্দজাদা নাকি মনে করেন ইন্টারনেটের বিষয়বস্তু ইসলামি শিক্ষার পরিপন্থী এবং এ কারণে তার নির্দেশে ইন্টারনেট বন্ধ হয়। এখানে কিছু বিষয় বুঝার আছে। যেকোনো বিচক্ষণ আলিম এ ব্যাপারে একমত হবেন যে ইন্টারনেটে অনেক নীতি-ধর্ম পরিপন্থী বিষয় রয়েছে। সুতরাং, আখুন্দজাদার ধারণাকে ভুল বলার উপায় নেই। আর এতো বড় বাহিনীর সর্বোচ্চ নেতা এবং পুরো ইমারাহের অভিভাবক হয়ে তিনি কীভাবে ভাবতে পারেন যে ইন্টারনেট বন্ধ করে দিলেই সব সমাধান হয়ে যাবে এবং এর কোনো পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া থাকবে না? এটা কি বিশ্বাসযোগ্য?
মাওলানা জাবিউল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছিলেন যে ইন্টারনেট বন্ধ নিয়ে গুজব ছড়ানো হয়েছে। সে সময়ে পুরানো অপটিক্যাল ফাইবারের প্রতিস্থাপনের কাজ চলছিল বলে জানান তালিবানের এই মুখপাত্র। এমনকি তালিবান সরকার জানায় যে মানবিক কোনো কাজে বাধা দেওয়ার কোনো উদ্দেশ্য তাদের নেই। যদি ইন্টারনেট বন্ধ করা নিয়ে কান্দাহার ও কাবুল গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদ হতোই, তবে সবকিছু স্বাভাবিক হওয়ার আগেই স্পষ্ট বিবৃতি আসতো না। যদিও ইন্টারনেট বন্ধ হওয়া বা ফাইবার অপটিক ক্যাবলের প্রতিস্থাপন নিয়েও বিভিন্ন উড়ো কথা আছে, তবে সেখানে কোনোভাবেই ক্ষমতার দ্বন্দ্বকে টেনে আনার প্রশ্নই আসে না।
প্রতিবেদনটির সবচেয়ে বেশি ‘আকর্ষণীয়’ দিক হলো ফাঁস হওয়া অডিওটি। দাবি করা হয়েছে যে এটি হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার বক্তব্য। সেখানে তিনি বলছেন যে অভ্যন্তরীণ এই মতবিরোধ একসময় তাদের সবাইকে ডুবিয়ে দিতে পারে। এই কথাকেই বিবিসি ‘ক্ষমতার দ্বন্দ্ব’ বানিয়ে দিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই দুই ছেলে যখন কোনো একটা বিষয়ে দুইটা আলাদা মত দেয় এবং নিজেদেরকেটাই সঠিক বলে মনে করে, তখন একজন আদর্শ পিতা অবশ্যই সতর্ক করে দিবেন যেন এই মতপার্থক্য দ্বন্দ্বে রূপ না নেয়, তাই না?
আফগানিস্তানের পুরো পরিবেশ এখনও জটিল। ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা আসার পথ সুগম হলেও পশ্চিমা শক্তি সবরকম প্রোপাগান্ডা ও ষড়যন্ত্র নিয়ে লড়াই করে যাচ্ছে আজও। এমতাবস্থায় যদি কান্দাহার-কাবুলের মতপার্থক্য কোনো বড় ইস্যুতে রূপ নেয়, তবে শত্রুপক্ষ সেটার সুযোগ নিবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। এমতাবস্থায় আমির হিসেবে সবাইকে একতাবদ্ধ থাকার ব্যাপারেই কঠোরভাবে মন্তব্য করেছেন তিনি। আর এতদিন ধরে যদি বিভাজন থাকতোই, তাহলে কাবুলের অন্যতম নেতা সিরাজউদ্দিন হাক্কানি, আবদুল গণি বারাদার কিংবা মোহাম্মদ ইয়াকুব মুজাহিদ আখুন্দজাদার আনুগত্য মেনে রাষ্ট্র পরিচালনা করতেন না।

বিবিসির এই প্রতিবেদনটি প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার পেছনে আরও দুইটি প্রতিবেদন রয়েছে। গত বছর ১৮ সেপ্টেম্বর বিবিসি থেকে Taliban ban books written by women from Afghan universities শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, যেখানে দাবি করা হয় তালিবান সরকার নারীদের লেখা বই নিষিদ্ধ করে দিয়েছে। ৬৮০টি (কোনো কোনো সূত্রানুসারে ৬৭৯টি) বইয়ের মধ্যে মহিলাদের লেখা প্রায় ১৪০টি বই ছিল। নিষিদ্ধ হওয়া বইগুলোর মধ্যে প্রায় ২০.৫% বই ছিল নারীদের লেখা। তাহলে বাকি ৭৯.৫% ছিল পুরুষদের। নারীদের লেখা যতগুলো বই নিষিদ্ধ হয়েছে, তার চাইতেও ৪ গুণ বেশি পুরুষদের লেখা বই নিষিদ্ধ হয়েছে। এরপরেও বিবিসি প্রোপাগান্ডার আশ্রয় নিয়েছিল এবং শিরোনাম-ভিত্তিক ন্যারেটিভের দিকে ঝুঁকেছিল।
দ্বিতীয় আরেকটি প্রতিবেদনের কথা বলব, যেটির শিরোনাম Taliban release female athlete, 22, after 13 days in jail। এখানে এমনভাবে ব্যাপারটাকে তুলে ধরা হয়েছে যেন শুধু খেলার কারণেই একজনকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং ১৩ দিন হয়ত তার উপর নির্যাতন চলেছে। কিন্তু বাস্তবে তার বিরুদ্ধে সঠিকভাবে হিজাব না পরা, মিউজিক বাজানো এবং তার জিমে ফ্রী-মিক্সিং এর অভিযোগ ছিল। তাকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়। এরপরেও যখন সে তোয়াক্কা করেনি, তখনি তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। যদিও এটা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু এটাই যে মূল ব্যাপার তা ফুটিয়ে তোলেনি বিবিসি।
আরও চমকপ্রদ ব্যাপার হলো, ২য় প্রতিবেদনটির একজন লেখক হলেন ফ্লোরা ড্রুরি, যিনি কিনা তালিবানের মধ্যকার তথাকথিত দ্বন্দ্ব বিষয়ক প্রতিবেদনটিও লিখেছেন। একদিকে বিবিসির প্রতিবেদনে একটা একই শৃঙ্খল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে, অন্যদিকে তারা মিসলিডিং শিরোনামের প্রতিবেদন প্রকাশ করলেও সেটার জন্য ক্ষমা চাওয়া বা অনুরূপ কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।
এমতাবস্থায় বিবিসি তালিবানের ব্যাপারে যেই প্রতিবেদনগুলো প্রকাশ করছে, সেগুলো প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
মন্তব্য
ইতিমধ্যে সবগুলো মৌলিক যুক্তিই খন্ডন করা হয়েছে এবং বিবিসির কয়েকটি দাবির দুর্বলতা তুলে ধরা হয়েছে। তালিবানের ব্যাপারে প্রতিবারই পশ্চিমা মিডিয়াগুলো একপেশে বয়ান হাজিরের চেষ্টা করে যায়। কারণ তাদের টার্গেট যতটা না তালিবানের নেতৃবৃন্দ তার চাইতেও বেশি ইসলামি ইমারাহ।
তবে তালিবান সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করার মতো বা প্রশ্ন তোলার মতো জায়গা আছে। তবে সবকিছুকে পশ্চিমা চশমায় দেখার নাম সমালোচনা নয়। তাদের নিজেদের মধ্যেও জাতিসংঘ, নারীশিক্ষা ইত্যাদির ব্যাপারে মতপার্থক্য আছে। হতে পারে দ্বীনের স্বার্থে এটা নিয়ে তাদের মধ্যে এক সময় স্পষ্ট মেরু তৈরি হয়েছে, কিন্তু তা কোনোভাবেই ক্ষমতার জন্য নয়। কারণ ইমারাহের মর্যাদা সবকিছুর ঊর্ধ্বে।

এখনো পর্যন্ত তালিবান ঐক্যবদ্ধ এবং এ ব্যাপারে তারাও সংকল্পবদ্ধ যে তারা তাদের ঐক্য ধরে রাখবেন। বাকিটা এবং ভবিষ্যৎ একমাত্র আল্লাহ জানেন। তবে মিডিয়ার উদ্দেশ্য একেবারেই ভিন্ন এবং সেই প্রোপাগান্ডামূলক একপেশে আচরণ নিঃসন্দেহে মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে।
