Sunday, May 24, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরতৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন ও ব্যবহারে সামিটের সাথে চুক্তি

তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন ও ব্যবহারে সামিটের সাথে চুক্তি

কক্সবাজারের মহেশখালীতে দৈনিক ৬০০ এমএমসিএফ ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন ও ব্যবহারে পেট্রোবাংলা ও সামিট অয়েল অ্যান্ড শিপিং কোম্পানি লিমিটেডের মধ্যে সম্পাদিতব্য টার্মিনাল ইউজ অ্যাগ্রিমেন্ট এবং ইমপ্লিমেনটেশন অ্যাগ্রিমেন্টের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এছাড়া ভারতীয় গ্রিড ব্যবহার করে নেপাল থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ৪০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ আমদানিসহ পিপিপি’র আওতায় দু’টি রাষ্ট্রায়ত্ত বস্ত্রকল চালুর লক্ষ্যে সম্পাদিতব্য চুক্তির খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ও অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ভার্চুয়াল সভায় এসব অনুমোদন দেয়া হয়।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান এক ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের জানান, মহেশখালীতে তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন ও ব্যবহারে পেট্রোবাংলা ও সামিট অয়েল অ্যান্ড শিপিং কোম্পানির মধ্যে সম্পাদিতব্য দু’টি চুক্তির খসড়াসহ ক্রয় কমিটির বৈঠকে মোট ১৬টি প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে ৯ হাজার ৪৪০ কোটি ৮৫ লাখ ৪৮ হাজার টাকা।

তিনি জানান, ক্রয় কমিটির বৈঠকে তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন ও ১৫ বছর মেয়াদে ব্যবহারে টার্মিনাল কোম্পানিকে রিগ্যাস চার্জ বাবদ ট্যাক্স ও ভ্যাট ব্যতীত দৈনিক ফি ৩ লাখ ডলার (বাংলাদেশী মুদ্রায় তিন কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকা) প্রদানে পেট্রোবাংলা ও সামিট অয়েল অ্যান্ড শিপিং কোম্পানি লিমিটেডের মধ্যে সম্পাদিতব্য টার্মিনাল ইউজ অ্যাগ্রিমেন্ট এবং ইমপ্লিমেনটেশন অ্যাগ্রিমেন্টের খসড়া অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

অতিরিক্ত সচিব জানান, বৈঠকে পেট্রোবাংলা কর্তৃক সুইজারল্যান্ডের স্পট মার্কেট থেকে (২০২৪ সালের প্রথম) একটি এলএনজি কার্গো (৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ) আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। মেসার্স টোটাল এনার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড এই কার্গো সরবরাহ করবে। এতে ব্যয় হবে ৬৯১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।

তিনি জানান, বৈঠকে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) কর্তৃক বেসরকারি খাতে টাঙ্গাইল জেলার বাসাইল উপজেলায় ১০০ মেগাওয়াট (এসি) সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন এবং স্থাপিতব্য বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ২০ বছর মেয়াদে বিদ্যুৎ ক্রয়ের ট্যারিফ প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রতি কিলোওয়াট/ঘণ্টা ১০.৯৯ টাকা হিসাবে স্পন্সর কোম্পানিকে ২০ বছরে আনুমানিক ৩ হাজার ৫৬১ কোটি ৬০ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি স্থাপন করবে কনসোর্টিয়াম অব রিনিউয়েবল এনার্জি ইউকে লিমিটেড, বাদল কনস্ট্রাকশন লিমিটেড ও জি-টেক সলিউশন লিমিটেড।

অতিরিক্ত সচিব জানান, বৈঠকে বিউবো কর্তৃক বেসরকারি খাতে কক্সবাজার জেলার সদর উপজেলায় ১০০ মেগাওয়াট (এসি) সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন ও স্থাপিতব্য বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ২০ বছর মেয়াদে বিদ্যুৎ ক্রয়ের ট্যারিফ প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রতি কিলোওয়াট/ঘণ্টা ১০.৯৮ টাকা হিসাবে স্পন্সর কোম্পানিকে ২০ বছরে আনুমানিক তিন হাজার ৫৫৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি স্থাপন করবে যৌথভাবে কাই বাংলাদেশ অ্যালুমিনিয়াম লিমিটেড ও অলটেক অ্যালুমিনিয়াম ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।

তিনি জানান, বিউবো কর্তৃক সৈয়দপুর ১৫০ মেগাওয়াট সিম্পল সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের ভেরিয়েশন বাবদ অতিরিক্ত ২৮ কোটি ৩৭ লাখ ১৬ হাজার টাকা ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ করছে চায়নার ডংফ্যাং ইলেকট্রিক ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন।8 অতিরিক্ত সচিব জানান, বৈঠকে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বাপবিবো) কর্তৃক বৈদ্যুতিক বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও ক্ষমতাবর্ধনে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ক্রয়ের দু’টি পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-ময়মনসিংহ বিভাগের জন্য প্রকল্পের লট-১-এর আওতায় কেনা হবে ৩৩ হাজার ৮৪৬টি এসপিসি পোল (বৈদ্যুতিক খুঁটি)। বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি লিমিটেড এটি সরবরাহ করবে। এতে ব্যয় হবে ১০৩ কোটি ৩৬ লাখ ৫৮ হাজার টাকা।

তিনি জানান, একই প্রকল্পের লট-২-এর আওতায় কেনা হবে ৩৩ হাজার ৮৪৫টি এসপিসি পোল। এটি সরবরাহ করবে যৌথভাবে কনফিডেন্স ইনফ্রাস্ট্র্রাকচার লিমিটেড, ক্যাসল কনস্ট্রাকশন লিমিটেড ও কনটেক কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। এতে ব্যয় হবে ১০৩ কোটি ৪৪ লাখ ৬২ হাজার ৭০৫ টাকা।

অতিরিক্ত সচিব জানান, বৈঠকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর কর্তৃক সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলায় কুশিয়ারা নদীর উপর ৮৩৮.৪০ মিটার সেতু নির্মাণের পূর্ত কাজ সম্পাদনে ঠিকাদার নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ কাজটি করবে যৌথভাবে- এমবিইএল ও এসইএল। এতে ব্যয় হবে ১৪৪ কোটি টাকা।

তিনি জানান, এ ছাড়া বৈঠকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) কর্তৃক সার আমদানির তিনটি পৃথক প্রস্তাব এবং বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) কর্তৃক সার আমদানি ও ক্রয়ের পাঁচটি পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে বিএডিসি কর্তৃক মরক্কোর ওসিপি এসএ থেকে প্রথম লটে ৪০ হাজার টন ডিএপি সার আমদানিতে ব্যয় হবে ২৫০ কোটি ৬১ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

বিএডিসি কর্তৃক একই প্রতিষ্ঠান থেকে দ্বিতীয় লটে ৪০ হাজার টন ডিএপি সার আমদানিতে ব্যয় হবে ২৫০ কোটি ৬১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। বিএডিসি কর্তৃক একই প্রতিষ্ঠান থেকে ১১তম লটে ৪০ হাজার টন ডিএপি সার আমদানিতে ব্যয় হবে ২৫০ কোটি ৬১ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

অতিরিক্ত সচিব জানান, বিসিআইসি কর্তৃক কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) থেকে দশম লটে ৩০ হাজার টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার ক্রয়ে ব্যয় হবে ১০৪ কোটি ৯১ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ টাকা।

বিসিআইসি কর্তৃক চট্টগ্রামের টিএসপিসিএল-এর জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের মেসার্স সান ইন্টারন্যাশনাল এফজেডই (স্থানীয় এজেন্ট : মেসার্স অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইনপুট, ঢাকা) থেকে ১০ হাজার টন ফসফরিক এসিড আমদানিতে ব্যয় হবে ৬৪ কোটি ৬০ লাখ ২০ হাজার টাকা।বিসিআইসি কর্তৃক সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফার্টিগ্লোব ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড থেকে ষষ্ঠ লটে ৩০ হাজার টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানিতে ব্যয় হবে ১০৮ কোটি ৯৫ লাখ ৪১ হাজার টাকা। বিসিআইসি কর্তৃক কাতারের মুনতাজাত থেকে সপ্তম লটে ৩০ হাজার টন বাল্ক প্রিল্ড ইউরিয়া সার আমদানিতে ব্যয় হবে ১০৮ কোটি ৯৫ লাখ ৪১ হাজার টাকা। বিসিআইসি কর্তৃক সৌদি আরবের সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে অষ্টম লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানিতে ব্যয় হবে ১০৮ কোটি ৯৫ লাখ ৪১ হাজার টাকা।

অতিরিক্ত সচিব জানান, অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় ভারতীয় গ্রিড ব্যবহার করে নেপাল থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ৪০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ আমদানিসহ পিপিপির আওতায় দু’টি রাষ্ট্রায়ত্ত বস্ত্রকল চালুর লক্ষ্যে সম্পাদিতব্য চুক্তির নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। টেক্সটাইল মিল দু’টির মধ্যে- চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অবস্থিত আর আর টেক্সটাইল মিলসের পিপিপি পার্টনার হচ্ছে প্রাণ কনসোর্টিয়াম এবং রাজশাহীতে অবস্থিত রাজশাহী টেক্সটাইল মিলসের পিপিপি পার্টনার হচ্ছে চরকা টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড। সরকারের পক্ষে উভয় প্রতিষ্ঠানের সাথেই চুক্তি করবে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

7 + thirteen =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য