আসসালামু আলাইকুম
সম্মানিত দ্বীনি ভাই-বোন। আমাদের অনেকের প্রচলিত একটি ভুল ধারণা ত্বওবা ও ইস্তেগফার একই জিনিস। আমাদের ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। পড়ুন বিস্তারিত
⭕আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনার দুটি দিক রয়েছে:
(১) তাওবা এবং (২) ইস্তিগফার।
তাওবা অর্থ ফিরে আসা বা প্রত্যাবর্তন করা এবং ইস্তিগফার অর্থ ক্ষমা প্রার্থনা করা। উভয়ের মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা তাওবা বা ফিরে আসার একটি অংশ। কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনার আলােকে যে কোনাে পাপ থেকে তাওবার অর্থ ও শর্ত নিম্নরূপ:
⭕পাপ পরিত্যাগ করা এবং আর কখনাে পাপ না করার আন্তরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা
⭕পাপের জন্য অনুতপ্ত হওয়া
⭕পাপের সাথে কোনাে মানুষের বা সৃষ্টির অধিকার জড়িত থাকলে তা ফেরত দেওয়া অথবা ক্ষমা চেয়ে নেয়া
⭕মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া
শর্তগুলি পূরণ করে তাওবা করলে মুমিন সকল পাপের ক্ষমার নিশ্চিত আশা করতে পারেন। আল্লাহর কাছে ক্ষমার চাওয়া তাওবার একটি প্রকাশ। তবে অন্যান্য শর্তগুলাে পূরণ ছাড়া শুধু ইস্তিগফার বা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়াতে পরিপূর্ণ তাওবা হয় না। কেউ যদি শর্তগুলাে পূরণ না করে বলেন: ‘আমি তাওবা করছি তাহলে তা অতিরিক্ত একটি মিথ্যাচার বলে গণ্য হয় এবং পাপের বােঝা বাড়ে। কারণ বান্দা বলছেন যে, আমি আল্লাহর কাছে ফিরে আসছি, অথচ কার্যত তিনি ফিরে আসছেননা। তিনি আল্লাহর নির্দেশ মত বান্দার হক্ক ফিরিয়ে দেননি এবং পুনরায় পাপ না করার দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেননি। কাজেই ফিরে আসার বিষয়ে তার ঘােষণাটি মিথ্যা ও পাপ বলে গণ্য।
যেকল পাপ আল্লাহ সহজে ক্ষমা করেন নাঃ
বান্দার হক নষ্ট করাঃ
ভেজালদাতা, ফাকিদাতা, ধোঁকাপ্রদানকারী, যৌতুক গ্রহণকারী, ইয়াতিম, দুর্বল ও বিধবাদের সম্পদ দখলকারী, ঘুষ, সুদ ও যুলুম, চাঁদাবাজি ইত্যাদি দুর্নীতির মাধ্যমে কারাে সম্পদ গ্রহণ বা অধিকার হরণকারীগণের ক্ষমালাভ খুবই কষ্টকর।এ জাতীয় পাপের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ, যাদের অধিকার নষ্ট বা সংকুচিত হয়েছে তাদের অধিকার ফেরত না দিলে বা তাদের নিকট থেকে ক্ষমা না নিলে আল্লাহ ক্ষমা করবেন না।
এজন্য প্রতিটি যাকিরকে সদা সর্বদা চেষ্টা করতে হবে, এ প্রকার পাপ থেকে সর্বদা দূরে থাকার। যদি কোনাে মুসলিম এর পূর্ব জীবনে এ ধরনের পাপ সংঘঠিত হয়ে থাকে, তাহলে যথাশীঘ্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির থেকে ক্ষমা গ্রহণের চেষ্টা করতে হবে । সাথে সাথে বেশি করে আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি, ক্ষমা ও সাহায্য ভিক্ষা করতে হবে, যেন তিনি এগুলাে থেকে ক্ষমা পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন ।
⭕আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ বলেছেন :
عليه وإن في أصل جبل إن المؤمن يرى ثوبه كأنه نوبه گذباب وقع على أنفه فقال له هكذا فطار . الفاجر برگ
মুমিন ব্যক্তি তার পাপকে খুব বড় করে দেখেন, যেন তিনি পাহাড়ের নিচে বসে আছেন, ভয় পাচ্ছেন, যে কোনাে সময় পাহাড়টি ভেঙে তাঁর উপর পড়ে যাবে। আর পাপী মানুষ তার পাপকে খুবই হাল্কাভাবে দেখেন, যেন একটি উড়ন্ত মাছি তার। নাকের ডগায় বসেছে, হাত নাড়ালেই উড়ে যাবে।
#বুখারী (৮৩-কিতাবুদ দাওয়াত, ৪-বাবুত তাওবাহ) ৫/২৩২৪ (ভারতীয় : ২/৯৩৩); তিরমিযী (৩৮-কিতাব সিফাতিল কিয়ামাহ, ১৫-বাব.,সিফাত আওয়ানিল হাওয) ৪/৫৬৮ (ভা ২/৭৬)।
বিশেষ অনুরোধঃ পোস্টটি শেয়ার করবেন। কারণ এটিও সদকাহ। যা কবর পর্যন্ত যেতে পারে। শেয়ার করার বিশেষ লাভ হচ্ছেঃ
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “যে ব্যক্তি কোন হেদায়েতের দিকে আহ্বান করে সে ব্যক্তির জন্য রয়েছে এমন প্রতিদান যে প্রতিদান এ হেদায়েতের অনুসরণকারীগণও পাবেন; কিন্তু অনুসারীদের প্রতিদান হতে বিন্দুমাত্রও কমানো হবে না। আর যে ব্যক্তি কোন ভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান করে সে ব্যক্তির জন্য রয়েছে এমন গুনাহ যে গুনাহ এ ভ্রষ্টতাতে লিপ্ত ব্যক্তিরা পাবে; কিন্তু অনুসারীদের গুনাহ থেকে বিন্দুমাত্রও কমানো হবে না”[সহিহ মুসলিম (২৬৭৪)]
© রাহে বেলায়েত
