Friday, April 17, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরদরিদ্র দেশগুলোর পানিসম্পদ ‘জবরদখল’ করছে কারা!

দরিদ্র দেশগুলোর পানিসম্পদ ‘জবরদখল’ করছে কারা!

জাতিসঙ্ঘ শুক্রবার বিশ্ব পানি দিবস পালন করেছে। এদিকে, এই আন্তর্জাতিক সংস্থা বলেছে, জলবায়ু পরিবর্তন ব্যাপক আকার ধারণ করায় পানিসম্পদ নিয়ে সঙ্ঘাতের ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে।

অপরদিকে, বেসরকারি ত্রাণ সংস্থা অক্সফ্যাম অভিযোগ তুলেছে, মুনাফা বৃদ্ধির জন্য দরিদ্রতর দেশগুলো থেকে পানি ‘জবরদখল’ করছে বিশ্বের বড় করপোরেশনগুলো।

চলতি বছর ‘ওয়াটার ফর পিস’-কে থিম ঘোষণা করে জাতিসঙ্ঘ সতর্ক করেছে, পানির যখন অভাব হয় বা পানি দূষিত হয়, কিংবা পানি পাওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে অসাম্য দেখা দেয় বা তারা পানি পায় না, তখন একাধিক জনগোষ্ঠী ও দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে পারে।

জাতিসঙ্ঘ বলেছে, ‘জাতীয় সীমানা অতিক্রম করেছে এমন পানির ওপর বিশ্বের তিন বিলিয়নের বেশি মানুষ নির্ভর করে থাকে। তারপরেও মাত্র ২৪টি দেশ তাদের সমস্ত যৌথ পানিসম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সহযোগিতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাড়ায় ও জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় আমাদের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদের সুরক্ষা ও সংরক্ষণের বিষয়ে বিভিন্ন দেশের একত্রিত হওয়া একান্ত প্রয়োজন।’

দক্ষিণ আফ্রিকার বৃহত্তম শহর জোহানেসবার্গে বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে ট্যাপ-কলগুলোতে পানি নেই এবং এর ফলে কয়েক লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সোয়েটো শহরের উপকণ্ঠে ট্যাঙ্কার থেকে বোতল ও বালতিতে পানি সংগ্রহ করার জন্য হাজার হাজার মানুষ লাইন দিচ্ছে। এই ট্যাঙ্কারগুলো শহরের বাইরে থেকে পানি নিয়ে আসে।

সোয়েটোর এক বয়স্ক বাসিন্দা থাবিসিলে এমচুনু অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে সোমবার বলেন, ‘এটা গুরুতর চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমার বয়সের নিরিখে এটা খুবই সমস্যার সময়। ২০ লিটারের বালতি বয়ে নিয়ে আমাকে এখানে আসতে হয় এবং দুঃখের বিষয় হলো, আমাদের ট্যাপ-কলগুলো কখন আবার শুকিয়ে যাবে তা আমরা জানি না।’

জোহানেসবার্গে পানির ঘাটতির জন্য ভেঙে পড়া অবকাঠামো আংশিকভাবে দায়ী করা হচ্ছে। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, ক্রমবর্ধমান জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দক্ষিণ আফ্রিকা ও বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে জলাধারগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে।

জাতিসঙ্ঘের অনুমান, দুই দশমিক দুই বিলিয়ন মানুষ নিরাপদ ও সুষ্ঠু খাবার পানি ছাড়াই বসবাস করছে।

জাতিসঙ্ঘের ইন্টার-গভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জের বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক, বছরের কিছু সময়ে গুরুতর পানির অভাবে দিন গুজরান করছে। বৈশ্বিক দক্ষিণের দরিদ্র দেশগুলো সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে অক্সফ্যাম অভিযোগ তুলেছে, বিশ্বের বড় করপোরেশনগুলো জরুরি পানি-সম্পদ ‘জবরদখল’ করছে। এই সংস্থার আরো অভিযোগ, ধনী দেশ ও বহুজাতিক করপোরেশনগুলো ফল, সবজি, গোশত, ফুল, বোতলবদ্ধ পানির মতো পানি-নিবিড় পণ্য বিদেশ থেকে আমদানি করার মাধ্যমে ঘাটতিকে দরিদ্রতর অঞ্চলে স্থানান্তরিত করে দিচ্ছে।

অক্সফ্যাম আরো উল্লেখ করেছে, স্থানীয় জনগণের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপানো হলেও বৃহৎ করপোরেশনগুলোকে পানি তোলার অনুমতি দেয়া হচ্ছে। ফরাসি মালিকানাধীন বহুজাতিক খাদ্যপণ্য সংস্থা দানোঁ-র ক্রিয়াকলাপের কথা তুলে ধরেছে অক্সফ্যাম।
সূত্র : ভয়েস অব আমেরিকা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

4 × five =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য