Friday, April 17, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরদুঃসহ গরমে প্রাণ ওষ্ঠাগত

দুঃসহ গরমে প্রাণ ওষ্ঠাগত

বৈশাখজুড়ে খরতপ্ত রুক্ষ আবহাওয়ার আভাস : বৃষ্টির সুখবর নেই
৫০ জেলায় বইছে তাপপ্রবাহ : ৪২ ডিগ্রিতে পৌঁছাতে পারে : গরমের দাপট আরো অন্তত এক সপ্তাহ চলবে : পানির অভাবে ফল-ফসল মাছের খামার শুকিয়ে যাচ্ছে : ঘরে ঘরে মানুষ অসুস্থ : রোজাদার হতদরিদ্রদের কষ্ট অবর্ণনীয়
উফ্! অসহ্য গা-জ্বলা ভ্যাপসা গরম! শহর-বন্দর-গ্রাম-গঞ্জে সবার মুখে ওই একই কষ্ট-দুর্ভোগের কথা। টানা এক সপ্তাহ ধরে চলমান কড়া রোদের তেজে দুঃসহ গরমে-ঘামে প্রাণবায়ু ওষ্ঠাগত। দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। দিনভর চারদিকে ঠা ঠা রোদের আগুনে হাঁসফাঁস অবস্থা। দিনে-রাতে ঘাম-ঝরানো গরমের যন্ত্রণা। বাতাস থমকে আছে। আবার কোথাও উত্তপ্ত বাতাস। স্বস্তি নেই। চৈত্রের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে ক্রমেই তেঁতে উঠেছে আবহাওয়া। দেশের সবক’টি বিভাগেই তাপদাহ আরো বিস্তৃত হয়ে এখন ৫০টি জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বইছে।

চৈত্র মাস পেরিয়ে আজ শুক্রবার পয়লা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ-১৪৩০ সাল। এরমধ্যেই তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়োসে উঠেছে। শিগগিরই ৪২-এ পৌঁছার আভাস দেয়া রয়েছে। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার সাথে পাল্লা দিয়ে রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও অস্বাভাবিক তেঁতে আছে। এ কারণে গরমের তীব্রতা আরো অসহনীয় হয়ে উঠেছে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা মৌসুমের এ সময়ের স্বাভাবিকের চেয়ে স্থানভেদে ১.৫ থেকে ৪ ডিগ্রি সে. পর্যন্ত বেশিই রয়েছে।

তাপদাহে অবিরাম ঘাম ঝরে খুব দ্রæত কাহিল এমনকি হিটস্ট্রোকে অসুস্থ হয়ে পড়ছে অসংখ্য মানুষ। ডায়রিয়াসহ পেটের পীড়া, জ্বর-সর্দি-কাশি, চর্মরোগ, শ্বাসকষ্টের রোগী বেশিরভাগ ঘরে। গরমের দাপট বৃদ্ধির সঙ্গেই পানির সঙ্কট ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট, বাজারে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে রোজাদারদের ভোগান্তি-কষ্ট আরো বেড়ে গেছে। বিশেষত হতদরিদ্র, দিনমজুর, শ্রমিক, ঠেলা-ভ্যান কিংবা রিকশাচালক, নিম্নআয়ের মানুষের দুর্ভোগ চরমে। তাদের আয়-রোজগার কমে গেছে। ঈদ বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার ব্যস্ততা এমনিতেই কম। টানা তাপদাহের কারণে আরও কমে গেছে।

মেঘের শীতল ছায়া স্বস্তির বৃষ্টিপাতের আশায় মানুষ ব্যাকুল। আকাশপানে তাকিয়ে আছে চাতক পাখির মতো। কিন্তু নেই মেঘ, নেই বৃষ্টির আবহ। আবহাওয়া বিভাগ ও বৈশ্বিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো আপাতত বৃষ্টির সুখবর দিতে পারছে না। পূবালী বায়ুর সাথে পশ্চিমা বায়ুর সংযোগ না হওয়ায় বৃষ্টিপাত হচ্ছে না। বরং ২০ অথবা ২২ এপ্রিল পর্যন্ত আরও অন্তত এক সপ্তাহ তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকারই আভাস দিয়েছে। এরপর কালবৈশাখী ঝড়, বজ্র ও শিলাবৃষ্টির সাথে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত শুরু হতে পারে দেশের বিভিন্ন জায়গায়। পূর্বাভাস মতে বৈশাখ জুড়ে চলবে খরতপ্ত, খটখটে, রুক্ষ-শুষ্ক বৈরী আবহাওয়া।

এ অবস্থায় পুরোদমে গ্রীষ্মকাল আসার আগেই সারা দেশে নদ-নদী-নালা, খাল-বিল, হাওর-বাওড়, পুকুর-দীঘি-জলাশয় শুকিয়ে মরে গেছে ইতোমধ্যে। মাঠ-ঘাট ফেটে চৌচির। অনাবৃষ্টি-খরার দহনে ফল-ফসল, শাক-সবজির আবাদ ও ফলন ব্যাহত হচ্ছে। কৃত্রিম সেচের খরচ মেটাতে গিয়ে কৃষকের হিমশিম অবস্থা। ভ‚গর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমাগত নিচের দিকেই নামছে। পানির অভাবে অনেক জেলায় ফলের বাগান, ক্ষেতের ফসল, সবজি মাঠেই শুকিয়ে যাচ্ছে। মাছের খামারেও পানির তীব্র সঙ্কট। নলকুপে পানি উঠছে না। বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট দেখা দিয়েছে দেশের অনেক জেলা-উপজেলায়। তাপদাহের কারণে মিঠাপানির উৎসগুলো শুকিয়ে যাওয়ার ফলে দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ততার আগ্রাসন বেড়েছে।

রোজার আগে থেকে দ্বিতীয় সপ্তাহের মাঝামাঝি পর্যন্ত শীতল মেঘের ছায়া, বৃষ্টি-বাদলের ফলে সারা দেশে স্বস্তিদায়ক আবহ বিরাজ করে। কিন্তু গেল সপ্তাহ থেকে হঠাৎ চৈত্র খটখটে তপ্ত, রুক্ষ রূপ ধারণ করে। মৌসুমের এ সময়ে বিক্ষিপ্ত কালবৈশাখী ঝড়, বজ্র ও শিলাবৃষ্টির সাথে যে ‘স্বাভাবিক’ বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে এখন তাও নেই।

বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর সমানতালে বাংলাদেশেও তাপমাত্রার পারদ ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) প্রফেসর ড. মো. রিয়াজ আক্তার মল্লিক তার এক গবেষণাপত্রে জানান, বৈশ্বিক ক্রমবর্ধমান উষ্ণায়নের ধারায় বিগত ৫০ বছরে বাংলাদেশের তাপমাত্রা গড়ে শূন্য দমমিক ৪ ডিগ্রি সে. বেড়ে গেছে। এমনকি দেশের বিভিন্ন এলাকাভেদে তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

সবক’টি বিভাগের ৫০ জেলায় তাপপ্রবাহ : গতকাল সর্বশেষ আবহাওয়া পরিস্থিতিতে জানা গেছে, আরো বিস্তৃতত হয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে দেশের সবক’টি বিভাগের ৫০টি জেলায়। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চুয়াডাঙ্গা জেলায় ৩৯.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায়ও ৩৮.৯ ডিগ্রি সে.। তবে ইট-পাথর-লোহালক্করের জঞ্জাল ও ভয়াবহ মাত্রায় দূষণের নগরী ‘উত্তপ্ত কড়াই’ ঢাকা নগরীতে প্রকৃত তাপানুভ‚তি (রিয়্যাল ফীল বা ফীল লাইক) সর্বোচ্চ ৪২ থেকে ৪৪ ডিগ্রি এমনকি তারও ঊর্ধ্বে।

২৪ ঘণ্টার আবহাওয়া পূর্বাভাসে আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ জানান, আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলাসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা আরও কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে। লঘুচাপের একটি বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও এর সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

তীব্র তাপপ্রবাহ : চুয়াডাঙ্গায় ৪১, ঢাকায়ও ৩৯.৫ ডিগ্রি : গতকাল সন্ধ্যায় আবহাওয়া বিভাগ সর্বশেষ আবহাওয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে জানায়, চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪১ ডিগ্রি সে.। ঢাকায়ও তাপমাত্রা আরো বেড়ে হয়েছে ৩৯.৫ ডিগ্রি। তাছাড়া ফরিদপুরে ৪০.৩, রাজশাহী ও পাবনায় ৪০.৫, মোংলায় ৪০.৮, যশোরে ৪০.৪, কুষ্টিয়ায় ৪০ ডিগ্রি সে. তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। ৪০ ডিগ্রি থেকে তদুর্ধ্বে তাপমাত্রাকে তীব্র তাপপ্রবাহ হিসেবে গণ্য করা হয়।

আজ শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়া পূর্বাভাসে আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক রশিদ জানান, ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, বাগেরহাট, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলাসমূহের উপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগজুড়ে এবং ঢাকা, টাঙ্গাইল, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, বগুড়া, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, ময়মনসিংহ, মৌলভীবাজার, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলাসমূহের উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।

সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা আরো কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে। পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এরপরের ৫ দিনে আবহাওয়ার কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

5 × one =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য