সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবে সারা দেশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বহু অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। দেশের বহু অঞ্চলে বিদ্যুতের খুঁটি ইত্যাদি ভেঙে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। প্রাণহানির ঘটনাসহ মানুষের বাড়িঘর ও ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কারো আবার জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম দোকানপাট কিংবা গবাদি পশু ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে চরম অনিশ্চয়তা, আতঙ্ক, ক্ষুধা ও ধন-সম্পদ হারানোর গ্লানি।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে মুমিনের প্রথম করণীয় হলো ধৈর্য ধরা। কারণ মহান আল্লাহ আগেই তাঁর বান্দাদের জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি মাঝে মাঝে বান্দাকে এ ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মাধ্যমে পরীক্ষা করবেন, যারা তাতে ধৈর্য ধরতে পারবে, তিনি তাদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা রেখেছেন।পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই আমি (আল্লাহ) তোমাদের ভয়, ক্ষুধা এবং ধনসম্পদ ও ফল-ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দিয়ে পরীক্ষা করব। (হে রাসুল,) আপনি ধৈর্যশীলদের শুভ সংবাদ প্রদান করুন।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৫৫)
পাশাপাশি সামর্থ্যবান মুমিনদের উচিত এ সময় নিরীহ মানুষের পাশে দাঁড়ানো। তাদের প্রয়োজনীয় খাবার ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা।
কঠিন এই পরিস্থিতি থেকে তাদের উদ্ধার করার চেষ্টা করা। এটা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সুবর্ণ সুযোগ। অনেক ক্ষেত্রে আবার পরীক্ষাও। কারণ যারা আল্লাহর মাখলুকের ওপর দয়াশীল হবে, মহান আল্লাহ তাদের ওপর দয়া করবেন।
আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রা.) সূত্রে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, দয়াশীলদের ওপর করুণাময় আল্লাহ দয়া করেন।
তোমরা দুনিয়াবাসীকে দয়া করো, তাহলে যিনি আসমানে আছেন, তিনি তোমাদের দয়া করবেন।
(আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৪১)
