Wednesday, May 27, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরউম্মাহ খবরধর্ম অবমাননার অপরাধে বাউল আবুল সরকারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে :বিভিন্ন...

ধর্ম অবমাননার অপরাধে বাউল আবুল সরকারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে :বিভিন্ন ইসলামী নেতৃবৃন্দ

মহান আল্লাহর শানে জঘন্য শব্দ ব্যবহার করে ধর্ম অবমাননার অপরাধে গ্রেফতারকৃত বাউল আবুল সরকারের দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। গতকাল পৃথক পৃথক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, মহান আল্লাহর শানে জঘন্য শব্দ ব্যবহার করে বাউল আবুল সরকার সুস্পষ্টভাবেই ধর্ম অবমাননা করেছে। এটি কেবল ফৌজদারি অপরাধ নয়, বরং বাংলাদেশের কোটি কোটি ধর্মপ্রাণ মুসলিমের হৃদয়ে আঘাত হানার শামিল। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের এই গুরুতর অপরাধের জন্য বাউল আবুল সরকারের সর্বোচ্চ আইনি শাস্তি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অপরিহার্য দায়িত্ব।

হেফাজতে ইসলাম
আল্লাহর অবমাননাপূর্বক মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের দায়ে ভ- বাউল আবুল সরকারের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান। গতকাল এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ভ- বাউল আবুল সরকার প্রকাশ্যে আল্লাহকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও মিথ্যাচার করে স্থানীয় সচেতন মুসলমানদের প্রতিবাদের মুখে গ্রেফতার হয়েছেন, যা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি কাম্য নয়। মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের দায়ে আমরা উসকানিদাতা আবুল সরকারের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এভাবে ধর্মীয় উত্তেজনা সৃষ্টিকারী বক্তব্য দেয়া থেকে বিরত থাকে।

তিনি আরো বলেন, এ ঘটনায় প্রশাসনের কেউ স্থানীয় প্রতিবাদী আলেমসমাজ ও ধর্মপ্রাণ জনতাকে হয়রানি করলে তার পরিণতি ভালো হবে না বলে আমরা কঠোরভাবে সরকারকে হুঁশিয়ারি দিচ্ছি। ধর্ম অবমাননার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।

তিনি বলেন, স্যোশাল মিডিয়ায় এক ভিডিওতে সচেতন বাউলশিল্পীরাও আবুল সরকারের ইসলামবিরোধী কথাবার্তার সমালোচনা করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ফলে আবুল সরকারের ইসলাম অবমাননার বিষয়টি আড়াল করার সুযোগ নেই। আমাদের প্রশ্ন ভ- বাউল আবুল সরকারের পক্ষে দাঁড়ানো সেক্যুলার প্রগতিশীলরা কি সমাজে ধর্ম অবমাননা করার অধিকার চান?

হেফাজত মহাসচিব আরো বলেন, তাসাউফ বা সূফিবাদ ইসলামের আত্মদার্শনিক রূপ। কিন্তু বাউলবাদের আড়ালে কারো ইসলাম বিকৃতি ও অবমাননা সমর্থনযোগ্য নয়। কথিত বাউল আবুল সরকারের সুস্পষ্ট ধর্ম অবমাননা সত্ত্বেও তার পক্ষে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদী মুসলমানদের কলঙ্কিত করা এদেশে ইন্ডিয়ার স্বার্থ রক্ষার শামিল। এ ঘটনায় ইন্ডিয়াপন্থি উগ্র বামরাও সরব হয়েছে। জুলাই বিপ্লব বানচাল করতে ইন্ডিয়ার চক্রান্তে দেশে যেকোনো অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা প্রতিহত করা হবে ইন শা-আল্লাহ।

ঢাকা উত্তর ব্যুরো
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ঢাকা জেলা উত্তর : গতকাল এক বিবৃতিতে হেফাজত ঢাকা জেলা উত্তরের সভাপতি হাফেজ মাওলানা আলী আকবর কাসেমী ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আলী আজম বলেন, মহান আল্লাহর শানে জঘন্য শব্দ ব্যবহার করে বাউল আবুল সরকার সুস্পষ্টভাবেই ধর্ম অবমাননা করেছে। এটি কেবল ফৌজদারি অপরাধ নয়, বরং বাংলাদেশের কোটি কোটি ধর্মপ্রাণ মুসলিমের হৃদয়ে আঘাত হানার শামিল। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের এই গুরুতর অপরাধের জন্য বাউল আবুল সরকারের সর্বোচ্চ আইনি শাস্তি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অপরিহার্য দায়িত্ব। আল্লাহর শানে বেয়াদবি ও ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি আঘাত কখনোই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হতে পারে না। এটা স্পষ্টই ইসলাম বিদ্বেষ। নব্বই ভাগ মুসলমানের দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে ইসলাম বিদ্বেষ বরদাশত করা হবে না। প্রভাবশালী কিছু মিডিয়া জঘন্য এই অপরাধ হালকা করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রচার করছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। অপরাধীকে রক্ষা করা, তার দোষ হালকা করা কিংবা জনতার ন্যায়সঙ্গত ক্ষোভকে উল্টো দোষারোপ করে তাদের হয়রানির চেষ্টা এসবই ন্যায়বিচারের পথ রুদ্ধ করার শামিল, যা কারোর জন্যই সুখকর হবে না।

বিবৃতিতে বলা হয়, ধর্ম অবমাননার মতো গুরুতর অপরাধের পর প্রশাসনের নির্লিপ্ততার সুযোগে আবুল সরকারের অনুসারীরা মানববন্ধনের দুঃসাহস দেখালে সাধারণ জনগণ সেটাকে প্রতিহত করেন। বিচ্ছিন্ন এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানিকগঞ্জের বিভিন্ন পর্যায়ের আলেমদের প্রশাসনের কর্মকর্তারা গ্রেফতারের হুমকিসহ নানাবিধ হয়রানি করছেন। অবিলম্বে আলেম ওলামা ও ইসলামপ্রিয় ব্যক্তিদের অহেতুক হয়রানি বন্ধ করতে হবে। তারা বলেন, ধর্মদ্রোহী বাউল আবুল সরকারের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত এবং মানিকগঞ্জের আলেম উলামা ও জনসাধারণকে হয়রানি বন্ধ না করলে ঢাকা আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে অচল করে দেয়া হবে ইন শা-আল্লাহ।

আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত : ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে গ্রেফতার বাউল শিল্পী আবুল সরকারের বিষয়ে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের দায়িত্বহীন মন্তব্য করার সাহস না পায়। বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্যে আবুল সরকার মুসলমানদের পবিত্র ধর্মীয় মূল্যবোধকে আঘাত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে, যা দেশব্যাপী উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এ পরিস্থিতিতে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সঠিক তদন্ত ও বিচার হওয়াই একমাত্র গ্রহণযোগ্য পথ। কোনোভাবেই এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা বা সংঘর্ষ সৃষ্টি করা উচিত নয়।
তিনি বলেন, সংবেদনশীল ধর্মীয় বিষয়ে দায়িত্বশীলতা ও সংযম বজায় রাখা সবার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মীয় অনুভূতিকে আঘাত করার যে কোনো প্রয়াসকে আইনগত কাঠামোর মধ্য দিয়ে মোকাবেলা করতে হবে। তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ, বিদ্বেষ উসকে দেয়া বা আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার মতো আচরণ সম্পূণরুপে অনভিপ্রেত। তিনি আরো উল্লেখ করেন, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে বিষয়টি আলোচনায় আসে। এ ধরনের যেকোনো ঘটনার বিচার হতে হবে স্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে গুজব বা আবেগের ওপর নয়। সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই সর্বাধিক জরুরি। তিনি বলেন, ‘আইনের যথাযথ প্রয়োগ, সামাজিক শান্তি রক্ষা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। পাশাপাশি কোনো পক্ষ যেন উত্তেজনা সৃষ্টি না করে বা আইন হাতে তুলে নেয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি না করে এটি সমাজের সামগ্রিক নিরাপত্তার স্বার্থেও গুরুত্বপূর্ণ।’ বিবৃতিতে তিনি সকলকে শান্ত ও সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত পরিচালনা করবেন এবং আইনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষা আমাদের সবার যৌথ দায়িত্ব।’

বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি : বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা সাইফুল ইসলাম ফরিদী এক বিবৃতিতে বলেন, বাউল সম্প্রদায় হলো বাংলার এক বিশেষ আধ্যাত্মিক ও লোকজ সম্প্রদায় যারা গান এবং প্রচলিত ধারার বাহিরে সাধনার মাধ্যমে আধ্যাত্মিক জ্ঞান লাভ করে থাকে। এই সম্প্রদায় সদস্যরা মূলত গৌড়ীয় বৈষম্য এবং সুফি নামধারী বাঙালি মুসলমানদের নিয়ে গঠিত তারা দেহকে কেন্দ্র করে সাধন ভজন করেন বলে তারা দাবি করেন। আসলে এর আড়ালে তারা মূলত সহজ সরল মুসলমানদের ঈমান ধ্বংস করার জনগোষ্ঠী হয়ে উঠেছে তারা দেহকে সাধন ভোজন এর নামে মুসলমানদের ঈমানকে ধ্বংস করে এবং তারা শরীয়তকে বাদ দিয়ে মারফতের নামে আমাদের ইসলাম ধর্মের কালিমা নামাজ রোজা হজ যাকাত ইসলামী তাজীব তামাদ্দুনসহ বিভিন্ন বিষয়কে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে বিষাদ গান করে এবং তারা সুকৌশলে মুসলমানদেরকে শিরক বিদআত কুফরির দিকে নিয়ে যায়। তাদের কথা বার্তা কাজে কর্মে মুসলিম বলার কোনো সুযোগ নেই মূলত তারা মুসলিম নামধারী কাফের। এদেরকে রুখে দেয়ার এখনই মুখ্যম সময় এবং এদের সমস্ত কার্যক্রম সম্পূর্ণ ভাবে নিষেধাজ্ঞা করার দাবি সরকারের নিকট তুলে ধরতে হবে। তাহলেই সাধারণ মানুষ এদের হাত থেকে রক্ষা পাবে আত্ম সাধনার নামে সাধারণ মানুষ কাফের মুশরিক হওয়া থেকে রক্ষা পাবে। আল্লাহর আমাদের ঈমান ও ইসলামকে হেফাজত করুন।(আমীন)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

nine + four =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য