Sunday, May 31, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদাওয়ানামাযের পরে দু'হাত তুলে দু'আ করার বিধান।

নামাযের পরে দু’হাত তুলে দু’আ করার বিধান।

উপমহাদেশের অন্যতম কিবার আলিম, মসজিদুল হারাম বা কাবার সম্মানিত মুদাররিস্ (শিক্ষক) ডেপুটি মুফতি ও মুহাদ্দিস , ফাদ্বীলাতুস-শাইখ, আল-আল্লামাহ ড. ওয়াসীউল্লাহ আব্বাস (হা’ফিযাহুল্লাহ্) বলেন —
❝আমাদের এখানকার কিছুলোক ফরয নামায শেষ হওয়া মাত্র দু’হাত তুলে দু’আ করে আর তাদের বিশ্বাস হল, মুনাজাত না করলে নামায পরিপূর্ণ হয়না! আমার এখনো স্বরণে আছে, অনেকদিন আগে যখন আমি মুম্বাইয়ের রাস্তা দিয়ে মক্কা যেতাম আর সেসময় মদিনায় পড়তাম। পাঞ্জাবী পড়াবস্থায় ছিলাম, অনেক ছোট ছিলাম, আর হতে পারে দেখতেও অনেক সুন্দর লাগছিল! তখন মানুষজন আমাকে (জোর করে) সামনে দাঁড় করিয়ে দেয় নামায পড়ানোর জন্য। তো নামায পড়ানো শেষে যখন আমি তাসবীহ্ গণনা করছি তখন একলোক (সম্ববত লৌহার কাজ করে, কাপড়- চোপড় এমনই ছিল) অনেকক্ষণ ধরে বসে আছে, আর বারবার আমার মুখের দিকে তাঁকাচ্ছে — আমি বিষয়টা বুঝতে পারিনি। কিছুক্ষণ পরে তার সবরশক্তি ভেঙে যায় আর বলে,”ইমাম সাহেব, মুনাজাত করিয়ে দিন, হাতে সময় নেই, আমাদের অনেক-কাজ আছে, যেতে হবে।” তো এ-থেকে বুঝতে পারলাম যে, মুনাজাত ছাড়া সে তার নামাযকে বিশুদ্ধ মনে করছে না।
.
আমরা যদি (পর্যালোচনা করে) দেখি প্রিয়নবী রাসূল (ﷺ) যখন সালাত পড়তেন (তখন সালাত শেষে) কখনো তাড়াতাড়ি উঠে যেতেন (এমন রিওয়ায়াতও রয়েছে), আবার কখনো (যদি সবগুলো হাদীসগ্রন্থ দেখেন) বসে বসে ৩৩ বার সুবহান আল্লাহ্, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ্, ৩৪ বার আল্লাহু আকবার অত:পর একবার দু’আ পড়তেন — (লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু অদাহু-লা শারীকালাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুওয়া আলা – কুল্লি শাইয়িন- ক্বদীর)। — [১]।
.
ফযর ও মাগরিবের পরে প্রায়শই সূরাহ্ নাস ও সূরাহ্ ফালাক পড়তেন অত:পর অন্যান্য দু’আ পড়তেন। কোথাও হাত তুলে দু’আ করার একটা রিওয়ায়াতও কেউ দেখাতে পারবে না যে — ফরয নামাযের পরে তিনি কখনো হাত তুলে দু’আ করেছেন। তবে কারো যদি মাঝেমধ্যে মন চায়, অথবা অন্তরে শায় দেয় হাত তুলে দু’আ করার — তখন (একেলা) হাত তুলে দু’আ করতে পারবে আম রিওয়ায়াতগুলোর আলোকে। নবী কারীম (ﷺ) এরশাদ করেন,”আল্লাহ্ তা’আলা অত্যান্ত লাজুক ও দয়াবান। যখন কোনো বান্দা তাঁর দিকে দুটি হাত উঠায় তখন তিনি (আল্লাহ্) তা ব্যর্থ ও শূন্যভাবে ফিরিয়ে দিতে লজ্জা পান”। — [২]
.
এটা হাত তুলে দু’আ করার একটা ফযীলত, কিন্তু এই ফযীলত স্রেফ সেস্থানেই প্রযোজ্য হবে যেস্থানে প্রিয়নবী রাসূল (ﷺ) হাত তুলে দু’আ করেছেন। যেখানে (তিনি) হাত তুলে দু’আ করেন-নি, সেখানে করবেন না।❞
.
— আল্লামাহ্ ড.ওয়াসীউল্লাহ আব্বাস (হা’ফিযাহুল্লাহ)।
.
গৃহীত:
https://youtu.be/2cyn_6EQRoQ
..
❏ তথ্যসূত্র:
.
১. — [স্বহীহ মুসলিম: ১২৪০]।
২. — [তিরমিযী: ৫/৫২০]।
.
.
.
— অনুবাদক: আখতার বিন আমীর।
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

13 − two =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য