Thursday, July 16, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদাওয়ানারী ও পুরুষের মনস্তত্ব-সমকালীন কথা; সাইদুর রহমান

নারী ও পুরুষের মনস্তত্ব-সমকালীন কথা; সাইদুর রহমান

জ্ঞানার্জন, সম্পদ আহরণ, খেলাধূলা, মাদকাসক্তি, নারী সঙ্গ কামনা সব পুরুষের মাঝে আপনি এই দূর্বলতাগুলো পাবেন ৷ কারো মাঝে একটি, কারো মাঝে একাধিক কারো মাঝে সবগুলো অভ্যাস বিদ্যমান ৷ তবে বেশীর ভাগ পুরুষই নারীর প্রতি দূর্বল ৷ কোন পুরুষ যদি নারীর প্রতি দূর্বলতাকে অস্বীকার করে হয় তিনি ফেরেশতা, না হয় মিথ্যাবাদী, অথবা নপুংসক ৷

পুরুষের কাছে নারী বয়স নিরপেক্ষ ৷ বালেগ হওয়ার পর থেকে বৃদ্ধ হওয়া পর্যন্ত যে কোন বয়সে যে কোন নারীর প্রতি পুরুষ আসক্ত হতে পারে ৷ বিয়ে, সংসার, সন্তান, সমাজ, অর্থ, পদমর্যাদা বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে নারীর প্রতি পুরুষের কুচিন্তা আহত হয় কিন্তু নিহত হয় না ৷ উপযুক্ত পরিবেশ পেলে সেটি যে কোন সময় মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে ৷ মাহরাম ব্যতিত নারী পুরুষের সম্পর্ককে সংক্ষেপে প্রকাশ করতে হলে বলা যায়—পুরুষ শিকারি, নারী শিকার ৷

আদিম যুগের মানুষ বন্য পশু-পাখি শিকার করার পাশাপাশি নারীও শিকার করতো ৷ দুই গোত্রের যুদ্ধে অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীর সাথে তারা নারীদেরও লুট করে নিয়ে যেত ৷ নারীদের হাট-বাজারে বিক্রি করতো ৷ যদিও কাগজ-কলমে বন্য প্রাণী শিকারের মতো নারী শিকার বন্ধ হয়েছে বাস্তবে কিন্তু মাদকের মতো নারী বিক্রিও বন্ধ নেই ৷ জার্মান সংবাদ সংস্থা ডয়েচ ভেলের মতে ২০১০ থেকে ২০২০ পর্যন্ত শুধু বাংলাদেশ থেকেই পঞ্চাশ হাজার নারী বিভিন্ন দেশে বিক্রি (পাচার) হয়েছে ৷ দেশের অভ্যন্তরে নিষিদ্ধ পল্লীগুলোর কথা যদি বলি, অধিকাংশ নারীকেই বিক্রি করা হয়েছে ৷

আপনি সুন্দরবনের একটা বানর শিকার করেন, আপনাকে নির্ঘাৎ জেলে যেতে হবে ৷ কিন্তু কোন নারীকে শিকার করে বিক্রি করে দেন, কেউ খোঁজও নিবে না ৷ যদি খোঁজ নিতো তাহলে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব পতিতালয়গুলো চলতো না ৷ বলতে পারেন রাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের কাছে নারীদের মূল্য পশুর চেয়েও কম, যদিও তাদের মুখে সারাদিন নারী স্বাধীনতা, নারীর ক্ষমতায়ন বলে চিৎকার করে ৷ চাইলেই শিকারি শিকার ধরতে পারে না, বিভিন্ন প্রকার টোপ ফেলতে হয় ৷ নারীর স্বাধীনতা, নারীর ক্ষমতায়ন এধরনের চটকদার শব্দগুলো হলো ওদের নারী শিকারের টোপ ৷

মানদা দেবী নামক একজন পতিতা “শিক্ষিতা পতিতার আত্মচরিত” নামক আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছেন যে, সুইপার থেকে শুরু করে বিচারপতি পর্যন্ত্য সমাজের সর্বস্তরের পুরুষ তার শয্যা সঙ্গী হয়েছে ৷ মানদা দেবী এক সময় বিজেপির রাজনীতিতে যুক্ত হয় ৷ তাই বলে কি সব পতিতাকে কী বিজেপি নেত্রী বানিয়েছে? না বানায়নি ৷ তসলিমা নাসরিন তার আত্মজীবনী “ক” তে অনেক নামী দামী নারীবাদী পুরুষের বিরূদ্ধে তাকে বিছানা সঙ্গী করার বা করতে চাওয়ার কথা উল্লেখ করেছে ৷ যেসব নারীরা তসলিমার পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে, সবার ভাগ্যে কি তসলিমার মতো আয়েশী জীবন যাপন ও দেশ-বিদেশে ঘোরা সম্ভব হয়েছে? না, হয়নি ৷

এগুলো এক ধরনের সাইকোলজিক্যাল গেম ৷ পোষ মানা ঘুঘুকে ব্যবহার করেই বন্য ঘুঘু শিকার করা হয় ৷ ছোট ছোট মাছ বড়শিতে গেঁথে বড়ো বড়ো মাছ শিকার করা হয় ৷ বিভিন্ন পেশার একজন দু’জন নারীকে প্রতিষ্ঠিত করে হাজার হাজার নারীর সামনে টোপ ফেলা হয় ৷ সুন্দরী প্রতিযোগিতার দিকে খেয়াল করলেই বিষয়টা টের পাবেন ৷ চল্লিশ পঞ্চাশ হাজার নারীর স্তন, কোমর, নিতম্ব, শারিরীক উচ্চতা যাচাই করে মাত্র দশ জনকে সেরা সুন্দরী নির্বাচন করা হয় ৷ সুন্দরী প্রতিযোগিতা যেহেতু দেহসর্বস্ব তাই এখানে দেহ নিয়ে নাড়া চাড়া হতেই পারে ৷ কিন্তু যে কাজগুলো মেধাসর্বস্ব সেখানে কি হয়?

কর্মজীবী নারী ও কেয়ার বাংলাদেশের মতে- বাংলাদেশের ১২ দশমিক ৭০ শতাংশ নারী কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির শিকার হন । প্রকৃতপক্ষে সংখ্যাটি আরো অনেক বেশি । শুধু যারা নিজে এগিয়ে এসে কর্মক্ষেত্রে নিপীড়নের অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন, তাদের নিয়ে করা হয়েছে এই সমীক্ষা । অবাক করা ব্যাপার হলো, পুলিশে কর্মরত নারী সদস্যদেরও এমন জঘন্য অভিজ্ঞতা হয়েছে ৷ তারা মুখ খোলার সাহস পাননি । কারণ অপরপক্ষ বেশি ক্ষমতাবান ছিলো । মুখ খুললে হয়তো বড়কর্তা দোষটা দেবেন তারই ঘাড়ে । ২০১৭ সালে কনস্টেবল হালিমা বেগম এক পুলিশ সাব-ইন্সপেক্টরের হাতে ধর্ষিত হন । তার আত্মহত্যার পর বেরিয়ে আসে এসব তথ্য ।

জাতিসংঘের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭ ও ২০১৮ এই দুই বছরে জাতিসংঘের এক-তৃতীয়াংশ কর্মী ও চুক্তিভিত্তিক কর্মরত নারী যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন । তবে এসবের জন্য কাউকে কোন শাস্তি পেতে হয় নি ৷ অর্থাৎ দেশে- বিদেশে কোথাও নারীর জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল নেই ৷ কেউ জাল দিয়ে, কেউ টেঁটা দিয়ে, কেউ বড়শি দিয়ে, কেউ পানি হাতিয়ে যে যে পদ্ধতিতে পারে মাছ শিকার করে ৷ নারীদের ক্ষেত্রেও যে যেভাবে পারে সেভাবে ভোগ করে ৷ একেকজন শিকারীর কৌশল একেক রকম ৷

একমাত্র ইসলামের নির্দেশনাই পারে নারীদের এই ভোগবাদী সমাজ ব্যবস্থা থেকে মুক্তি দিতে ৷ চেঙ্গিস খানের যুদ্ধ কৌশলের একটা কৌশল ছিলো শত্রুর অস্ত্র ধ্বংস করে দেওয়া ৷ যেহেতু নারীদের ভোগ করতে ইসলাম একটি বিরাট বাঁধা, তাই নারীলোভী পুরুষদের প্রথম কাজই হলো তাদের মাঝ থেকে ইসলামের অনুভূতি ধ্বংস করে দেওয়া ৷ নারীদের যে কোন বিজয়কে তারা ইসলামের বিরূদ্ধে বিজয় হিসেবে চিহ্নিত করে থাকে ৷ এর জন্য যে ইসলাম বিদ্বেষীরা এককভাবে দায়ী এমন নয়, আমাদের মুসলমানদের হিপোক্র্যাসিও কম দায়ী নয় ৷

সৌদি আরবে একটা আইন আছে- সৌদি মেয়েদের গান গাওয়া, অভিনয় করা নিষিদ্ধ ৷ কেউ গান বা অভিনয় করলে তাকে বেত্রাঘাত, শিরোচ্ছেদের শাস্তি প্রদান করা হবে ৷ সেই সৌদিরাই আবার টিভিতে মিশর, হলিউড, বলিউডে শিল্পীদের গান-অভিনয় উপভোগ করে ৷ অথচ ইসলামে যেটা হারাম সেটা মক্কার ইমাম সাহেব হোক বা সাধারণ কোন নাগরিক হোক সব মুসলমানের জন্যই হারাম ৷ কেউ যদি দেশ, ব্যক্তি, গোষ্ঠীকে অন্ধভাবে অনুসরণ না করে সরাসরি কোরআন এবং হাদীস থেকে ইসলামকে বুঝতে চেষ্টা করে তাহলে তার মাঝে কোন সংশয় সৃষ্টি হবে না ৷

যারা প্রকৃতি পূজারী তাদের যে বিষয়টা মাথায় রাখতে হবে, প্রকৃতি সব কিছুরই একটা প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করে দিয়েছে ৷ সাপের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য হলো সে লোক চক্ষুর অন্তরালে গর্তে থাকবে, সে যদি লোক সমাজে আসে লোকজন তার ক্ষতি করলে এর দোষ লোকের না ৷ বাঘ যতই শক্তিশালী হোক সেটা বনে, লোকালয়ে আসলে তার পরিণাম মৃত্যু না হয় চিড়িয়াখানা ৷ পুরুষ শাসিত সমাজ ব্যবস্থা বলে পুরুষদের প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন করে এক শ্রেণীর নারী যতই পুরুষালী ভাব ধরে না কেনো, মাসের নির্দিষ্ট কিছু সময় তাদের মানতেই হয় তারা নারী ৷ মাতৃত্বকালীন সময়ে তাকে মেনে নিতে হচ্ছে সে নারী ৷

বাঘের চেয়ে হরিণের মাংশ তার শরীরের বেশী শত্রু ৷ হরিণরা যদি বাঘ শাসিত জঙ্গল বলে বিদ্রোহ করে তাহলে কি তার জীবন রক্ষা হবে? জীবন রক্ষার জন্য হরিণকে কি করতে হবে সে বুদ্ধি প্রকৃতি (বিশ্বাসীদের মতে আল্লাহ ) তাকে দিয়েছে, তাইতো বাঘের চেয়ে দূর্বল হয়েও হরিণ দৌড়ে এগিয়ে থাকে ৷ নারীরা মাঠে, না আবাসে কোথায় নিরাপদ থাকবে বুদ্ধিমতি নারীরা নিজেরাই খুঁজে নিবে ৷ আর বেকুবরা চলে যাবে শিকারীর ভোগে ৷

Sayedur Rahman

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

3 + eighteen =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য