Sunday, May 31, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরনেতানিয়াহু ইসরায়েলের শত্রু, তাকে বন্দি করা উচিত: সাবেক সেনাপ্রধান

নেতানিয়াহু ইসরায়েলের শত্রু, তাকে বন্দি করা উচিত: সাবেক সেনাপ্রধান

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে অবিরাম হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। টানা প্রায় ১৮ মাস ধরে চালানো এই আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন প্রায় ৫১ হাজার ফিলিস্তিনি। হামলার পাশাপাশি ইসরায়েল গাজাতে সর্বাত্মক অবরোধও জারি রেখেছে।

ফলে বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বাড়ছে ক্ষোভ। এমন অবস্থায় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে “ইসরায়েলের শত্রু” বলে আখ্যায়িত করেছেন ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান ড্যান হালুৎজ।

এমনকি নেতানিয়াহুকে বন্দি করে কারাগারে পাঠানো উচিত বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। সোমবার (১৪ এপ্রিল) রাতে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।

বার্তাসংস্থাটি বলছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান ড্যান হালুৎজ সোমবার প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য “সরাসরি হুমকিস্বরূপ শত্রু” বলে অভিহিত করেছেন।

হালুৎজ ইসরায়েলি চ্যানেল ১২-কে বলেন, “একজন শত্রু যে ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকিস্বরূপ এবং তার নাম বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। শত্রুকে দমন করা উচিত অথবা বন্দি করা উচিত, তবে হত্যা করা উচিত নয়।”

নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি হালুৎজের এই মন্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে বলেছে, “গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে গুরুতর উস্কানি এই প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা করতে চরম বামপন্থিদের উৎসাহিত করবে।”

দলটি আরও বলেছে, “আইডিএফ (সেনাবাহিনীর) ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যর্থ চিফ অব স্টাফ হালুৎজ প্রধানমন্ত্রীকে এমন শত্রু বলে অভিহিত করেছেন যাকে বন্দি করা উচিত। এটি মত প্রকাশের স্বাধীনতা নয়।”

হালুৎজের পক্ষ থেকে এই মন্তব্য এমন এক সময় করা হলো যখন ইসরায়েলি সেনা ও সাবেক সেনাদের একটি বড় অংশ গাজায় আটক ইসরায়েলি বন্দিদের মুক্তি এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে চলমান যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে জোরালো আহ্বান জানিয়ে চলেছেন।

দীর্ঘ ১৫ মাস সামরিক অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপে গত ১৯ জানুয়ারি গাজায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইসরায়েল। তারপর প্রায় দু’মাস গাজায় কম-বেশি শান্তি বজায় ছিল; কিন্তু গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রশ্নে হামাসের মতানৈক্যকে কেন্দ্র করে মার্চ মাসের তৃতীয় গত সপ্তাহ থেকে ফের গাজায় বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, গত ১৮ মার্চ থেকে গাজায় নতুন করে শুরু হওয়া ইসরায়েলি বিমান হামলায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৬১৩ ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও ৪ হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ইসরায়েলের বর্বর এই হামলা চলতি বছরের জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে দিয়েছে।

জাতিসংঘের মতে, ইসরায়েলের বর্বর আক্রমণের কারণে গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন। এছাড়া অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের ৬০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।

এর আগে গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজায় যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে আগ্রাসনের জন্য আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার মামলার মুখোমুখিও হয়েছে ইসরায়েল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

5 × 4 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য