হাদিসের আলোকে জানা যায়, প্রতিটি যুগের চেয়ে তার পরের যুগ আরো খারাপ হবে। জুবাইর ইবনে আদি (রহ.) বলেন, আমরা আনাস ইবনে মালিক (রা.)-এর কাছে গেলাম এবং হাজ্জাজের কাছ থেকে মানুষ যে জ্বালাতন ভোগ করছে সে সম্পর্কে অভিযোগ করলাম। তিনি বলেন, ধৈর্য ধরো। কেননা, মহান আল্লাহর সঙ্গে মিলিত হওয়ার আগ পর্যন্ত (অর্থাৎ মৃত্যুর আগে) তোমাদের ওপর এমন কোনো যুগ অতিবাহিত হবে না, যার পরের যুগ তার চেয়েও বেশি খারাপ নয়। তিনি বলেন, এ কথা আমি তোমাদের নবী (সা.) থেকে শুনেছি। (বুখারি, হাদিস : ৭০৬৮)
‘আগের যুগের চেয়ে পরের যুগ খারাপ হবে’—এ কথা ব্যাখ্যাসাপেক্ষ। এই খারাপ হওয়া অর্থবিত্ত, জীবন মানের উন্নয়ন কিংবা বৈষয়িক উন্নতির ক্ষেত্রে নয়; বরং এটি পাপাচার ও অপরাধের সার্বিক বিবেচনায়। বিষয়টি অন্য হাদিস থেকে জানা যায়। ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, আমার উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম যুগ হলো আমার সাহাবিদের যুগ। অতঃপর তৎপরবর্তী (তাবেয়িদের) যুগ। ইমরান বলেন, নবী (সা.) তাঁর যুগের পর উত্তম যুগ হিসেবে দুই যুগ উল্লেখ করেছেন, নাকি তিন যুগ—তা আমার জানা (স্মরণ) নেই। অতঃপর রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমাদের পর এমন এমন কিছু লোকের আবির্ভাব ঘটবে, যারা সাক্ষ্য দেবে অথচ তাদের সাক্ষী মানা হবে না। তারা খিয়ানত করবে এবং তাদের কাছে আমানত রাখা যাবে না। তারা আল্লাহর নামে মানত করবে; কিন্তু তা পূরণ করবে না। আর তাদের দেহে স্থূলত্ব প্রকাশ পাবে।’ (বুখারি, হাদিস : ২৬৫১; মুসলিম, হাদিস : ২৫৩৫)
