গত সোমবার ড. ইয়াদ কুনাইবি-ইংলিশ ফেসবুক পেইজ থেকে এপস্টেইন ফাইলের উপর ড. ইয়াদ কুনাইবির কিছু স্পষ্ট মন্তব্য পোস্ট করা হয়, যেখানে তুলে ধরা হয় এই বর্বরতার ভিত্তি, পশ্চিমাদের ভন্ডামি এবং মুসলমানদের করণীয়ের ব্যাপারে।
কুনাইবি বলেন, “এপস্টেইন সংক্রান্ত মামলায় নথিভুক্ত অভিযোগের সুনির্দিষ্ট বিবরণ, ছবি, ভিডিও এবং সাক্ষ্যের বিশাল পরিমাণ রেকর্ড প্রকাশ করে যে বিশ্বব্যাপী বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ এবং ধনকুবের পুরুষ-নারী শিশু এবং কিশোর-কিশোরীদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িত।”
তবে তার মতে, এই ঘটনাটিকে কেবল এই জঘন্য গোষ্ঠীর জন্য একটি নৈতিক কলঙ্ক হিসেবে দেখা উচিৎ নয়। এটি দুর্নীতিগ্রস্ত বিশ্বব্যবস্থার জন্য একটি কলঙ্ক, যে ব্যবস্থার কিছু ‘নায়ক’ হলো এসব দানবেরা। এটি বিভিন্ন সংবেদনশীল পদে থাকা অনেকের জন্য একটি কলঙ্ক, যারা এপস্টেইন এবং রাজনৈতিক ‘এলিটদের’ অপরাধ সম্পর্কে সচেতন ছিলেন, তবুও বছরের পর বছর ধরে সেগুলো ঢেকে রেখেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, “আর এটি সেইসব ভণ্ডদের জন্য কলঙ্ক, যারা আমাদেরকে নৈতিকতা, মানবতা, ‘নারীর অধিকার’, ‘নারীর ক্ষমতায়ন’ এবং ‘শিশুদের অধিকার’ সম্পর্কে বক্তৃতা দেয়; একই সাথে জিহাদ, দাসব্যবস্থা (অতীতের), হুদুদ (ইসলামি বিধান অনুসারে শাস্তি প্রদান) ও বহুবিবাহের মতো ইসলামী বিধানগুলোকে আক্রমণ করে এবং মানবজাতির সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তির জীবনের উপর অপবাদ দেয়। তারা আমাদের নিজস্ব লোকদের মধ্য থেকে হোক বা দালাল এপস্টেইনের মতো একই জাতির হোক, সকল ভন্ডদের জন্যই কলঙ্ক!”
ইয়াদ কুনাইবি লেখেন, “আর এমন একটি গণতন্ত্রের জন্য এটাই কী লজ্জাজনক ব্যাপার, যেখানে ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ লোকদেরকে সর্বোচ্চ পদে পৌঁছাতে দেওয়া হয় যতক্ষণ না তারা অর্থ এবং মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। আর আমাদের মধ্যে যারা পাশ্চাত্যের মূর্তিকে মহিমান্বিত করে এবং এর ধারণা প্রচার করে বেড়ায়, তাদের জন্য কতই না লজ্জাজনক!”
কুনাইবি সকলকে সতর্ক করে বলেন, “অনেকেই হয়তো জানেন না যে মার্কিন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ট্রাম্পের প্রাক্তন আইনজীবী টড ব্লাঞ্চ এই নথিগুলিকে এতটা অপরাধমূলক বলে মনে করেন না যে কাউকে জবাবদিহি করতে বাধ্য করা যায়।” কুনাইবি আরও জানান যে ব্লাঞ্চ বিচার বিভাগ এবং এফবিআই দ্বারা প্রকাশিত একটি যৌথ স্মারকের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, যেখানে উপসংহারে বলা হয়েছে যে “এই মামলায় এমন কোনও নতুন প্রমাণ নেই যা অতিরিক্ত নথি প্রকাশ করা বা অন্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করার ন্যায্যতা দেয়”!
আনাদোলু এজেন্সির বরাতে ইয়াদ কুনাইবি বলেন যে এখনও কিছু নাম গোপন রাখা হচ্ছে এবং ভুক্তভোগীদের উপর দলবদ্ধ নির্যাতনের সাথে জড়িতদের নাম গোপন রাখার প্রতি তারা (ভুক্তভোগীরা) ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তারা বলেছেন, “আবারও ভুক্তভোগীদের নাম এবং বিবরণ প্রকাশ করা হচ্ছে, যখন আমাদের শোষণকারী ব্যক্তিদের নাম গোপন এবং সুরক্ষিত রাখা হয়েছে। এটি অত্যন্ত নিন্দনীয়।”
তাই কুনাইবি বিচক্ষণ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে মন্তব্য করে বলেন যেন কেউ এখনই উল্লাস করে না বলে-“ন্যায়বিচার জয়ী হয়েছে!”

তিনি আরও লেখেন, “পশ্চিমা মূল্যবোধগুলো দারুণভাবে ভেঙে পড়ছে। আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাটি আসলে কী তা উন্মোচিত হচ্ছে এবং তা আসলে একদল গ্যাংয়ের সমষ্টি। এই নৈতিক অবক্ষয়ের সাথে গাজা এবং বিশ্বের অন্যান্য নিপীড়িত মানুষের বিরুদ্ধে সংঘটিত স্পষ্ট রাজনৈতিক শয়তানিও রয়েছে।
সবশেষে গুরুত্বের সাথে ড. ইয়াদ কুনাইবি বলেন যে এই সবকিছুর মাধ্যমে আমাদের বুঝতে হবে, মুসলিমরা নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এবং সমাজের নোংরা অংশগুলোকে তাদের স্থান দখল করতে দেওয়ার কারণে বিশ্ব ও মানবতা কী হারাচ্ছে। আমাদের এই দায়িত্বের বিশালতা বুঝতে হবে এবং সেই অনুযায়ী কাজ করতে হবে।
