পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত ক্রসিংয়ে কঠোর ভ্রমণ বিধিনিষেধ আরোপ করায় সীমান্তের উভয় পাড়ে স্থানীয় অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়ছে। এর প্রতিবাদে স্থানীয় লোকজন বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে।
নতুন ব্যবস্থায় সীমান্ত অতিক্রম করতে হলে পাসপোর্ট প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর আগে আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানে প্রবেশ করতে হলে কেবলমাত্র সিএনআইসি এবং তাজকিরার দরকার হতো।
নতুন ব্যবস্থা বাতিল, পুরনো ব্যবস্থা আবার প্রবর্তন, আফগান উদ্বাস্তুদের প্রতি খারাপ আচরণ বন্ধ করা, দিনমজুরদের জন্য রোটারি প্যাকেজ আবার চালু করার দাবিতে চমনে ওই বিক্ষোভ হয়।
এতে গোত্রীয় প্রবীণ ব্যক্তি, রাজনৈতিক কর্মী এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা লাঘাদি ইত্তেহাদের ব্যানারে কর্মসূচি পালন করে।
পশতু জাতীয়তাবাদী দলগুলো নতুন ভ্রমণ বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে আন্দোলনে তাদের সমর্থনের কথা প্রকাশ করেন।
ফিদা মোহাম্মদ নামে একজন বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার ফলে চলতি ব্যয় মেটানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।
ফিদা মোহাম্মদ যানবাহন মেরামতের ব্যবসা করেন। নতুন ব্যবস্থা চালুর আগে ফিদা ও তার দুই ভাই স্পিন বলদাক থেকে খুচরা যন্ত্রাংশ ক্রয় করতে দৈনিক দুবার আফগানিস্তানে যেতেন।
কিন্তু এখন তার পক্ষে তা করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি জানান, সেখানে খুচরা যন্ত্রাংশ বিক্রির জন্য তিন শ’র বেশি দোকান ছিল। কিন্তু এখন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হওয়ায় এবং বেচাবিক্রি কমে যাওয়ায় দোকানগুলো বন্ধ হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, করাচি, লাহোর ও কোয়েটার বাজারগুলো চমনের খুচরা যন্ত্রাংশের ওপর নির্ভর করায় সারা দেশেই এই বিধিনিষেধের বিরূপ প্রভাব পড়বে।
চমন একইসাথে নিত্যপণ্যের বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত।
অনেক আফগান ব্যবসায়ী স্পিন বলদাক থেকে চমনে আসেন কসমেটিক্স, পুরনো জুতা, পুরনো টায়ার, পোশাক ও ইলেকট্রনিক পণ্যসহ বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রি করতে। তারা আবার সন্ধ্যায় ফিরে যেতেন।
এক হিসাবে দেখা যায়, প্রতিদিন ১৪ থেকে ১৬ হাজার ছোট ব্যবসায়ী দিনে দুই থেকে চারবার বেচাকেনার জন্য সীমান্ত অতিক্রম করতেন।
এছাড়া বড় ব্যবসা পরিচালনাকারী দুই থেকে তিন হাজার ব্যবসায়ী এবং আমদানি-রফতানির কাজে নিয়োজিত আরো দেড় হাজার ব্যবসায়ী প্রতিদিন সীমান্ত অতিক্রম করতেন।
এই ক্রসিংটি পুরনো একটি বাণিজ্যিক রুটেরও অংশ। নানা বাণিজ্যিক উপকরণ নিয়ে জাপান, দুবাইয়ের মতো দেশে পাড়ি দিতেও এই ক্রসিং ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
গাউস উল্লাহ নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, সীমান্তের উভয় পাড়ে আমাদের স্বজনরা বাস করে। আমরা একই কবরস্থানে আমাদের লাশ দাফন করি। আমরা আনন্দ ও দুঃখ ভাগাভাগি করে নেই। সরকার কিভাবে আমাদের সম্মতি না নিয়ে এমন কঠোর আইন চালু করতে পারে? এখন এমন অবস্থা হয়েছে যে কারো জানাজায় যাওয়ার জন্যও পাসপোর্টের দরকার হবে।
তিনি বলেন, উভয় পক্ষের উপজাতীয়দের জন্য সীমান্ত বাণিজ্য হলো অর্থনৈতিক জীবনশক্তি। আমাদের আয়ের প্রধান উৎস হলো সীমান্ত বাণিজ্য। এটা ছাড়া আমরা আমাদের সন্তানদের বাঁচাতে পারব না।
সূত্র : দি নিউজ ইন্টারন্যাশনাল
