Friday, April 17, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরপাপমুক্ত জীবন গড়তে করণীয়

পাপমুক্ত জীবন গড়তে করণীয়

মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং আমাদের হুকুম করেছেন আমরা যেন তাঁর অনুগত হয়ে চলি। কিন্তু শয়তানের প্ররোচনায় আমরা নিজেকে নানা অপরাধে জরিয়ে ফেলি। এর কারণে এপারে-ওপারে সবখানেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়। এক পাপ অন্য পাপকে টেনে নিয়ে আসে। এর মাঝে কিছু  পাপ এমন আছে, যা থেকে বিরত থাকলে বাকি অন্য সব পাপ থেকে দূরে থাকা সম্ভব হয়। এসব নিয়ে আজকের এ লেখা।

গিবত পরিহার করা

আজকাল আমাদের ছোট-বড় সব বৈঠক গিবতমুক্ত নয়। এটি মহামারি আকার ধারণ করেছে। কেউ যদি শুধু এই নিয়ত করে যে আমি গিবত থেকে বেঁচে থাকব, তাহলে তার জন্য অনেক পাপাচার থেকে বেঁচে থাকা সহজ। গিবত থেকে বেঁচে থাকার সহজ উপায় হচ্ছে, অহেতুক কারো আলোচনা না করা, অপ্রয়োজনীয় কারো কথা না শোনা—ভালোটাও শুনব না, মন্দটাও শুনব না। কারণ অন্যের ভালো আলোচনা অনেক সময় ধীরে ধীরে তার মন্দ আলোচনার দিকে নিয়ে যায়। তাই নিজে নিজের কাজে ব্যস্ত থাকব। আমি যখন নিজের কাজেই এত ব্যস্ত থাকব, তখন অন্যকে নিয়ে স্মরণ করার সুযোগ থাকবে না।

অন্যায় থেকে বেঁচে থাকা

কারো প্রতি কখনো জুলুম করব না—এ কথায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়া। কারো সম্পদ আত্মসাৎ করব না। অন্যায়ভাবে কাউকে আঘাত করব না। কথা দ্বারা অন্যকে কষ্ট দেব না। এ ব্যাপারে যদি নিজেকে অভ্যস্ত করে নিতে পারি, তাহলে আমাকে আল্লাহ তাআলা অনেক অপরাধ থেকে হেফাজত করবেন।

নিজেকে বড় মনে করব না

আমাদের একটি বড় রোগ হচ্ছে, নিজেকে বড় মনে করা আর অন্যকে ছোট মনে করা। এ থেকে বেঁচে থাকার সহজ উপায় হচ্ছে, মনে মনে চিন্তা করা, আমি যেসব নিয়ে অহংকার করছি, আত্মগরিমায় ভুগছি, এগুলো একমাত্র আল্লাহর দান। আমার নিজস্ব কোনো ক্ষমতা দিয়ে আমি এগুলো অর্জন করতে পারিনি। সুতরাং যে দয়াময় আল্লাহ আমাকে এগুলো দিয়েছেন, তিনি তা মুহূর্তেই আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে পারেন। তাই এ নিয়ে অহংকার করার কিছুই নেই। সঙ্গে সঙ্গে এ কথাও চিন্তা করা যে আল্লাহ তাআলা আমাকে কী থেকে সৃষ্টি করেছেন! এক ফোঁটা নাপাক পানি থেকে আমাকে সৃষ্টি করেছেন। আর আমি অহংকার করছি!

রাগ নিয়ন্ত্রণ করা

অনিয়ন্ত্রিত রাগ মানুষের জন্য ক্ষতিকর। এই রাগের কারণে আমাদের জীবনে অনেক সময় অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যায়, যার জন্য সারা জীবন আফসোস করতে হয়। তাই কেউ যদি নিজের রাগকে কন্ট্রোল করতে পারে, তাহলে তার জন্য অনেক পাপের দুয়ার বন্ধ হয়ে যাবে। এর জন্য সহজ পদ্ধতি হচ্ছে, যেসব কারণে আপনি রেগে যান সেসব বিষয় থেকে নিজেকে দূরে রাখা এবং এ কথা চিন্তা করা, রাগ হচ্ছে আগুনের মতো। এই আগুনের স্ফুলিঙ্গ রাগান্বিত ব্যক্তিকে জ্বালিয়ে দেয়। অপরের ক্ষতির চেয়ে নিজের ক্ষতিই বেশি হয়।

সচ্চরিত্র থাকা

যাদের সঙ্গে বিবাহ বৈধ—এমন নারীদের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক না রাখা। পরনারীর সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখা, তার সঙ্গে খোশগল্প করা কিংবা একাকী তার সঙ্গে থাকা—এসব থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা। কারণ এটা এমন এক পাপ, যার কারণে তার সব পাপের দরজা খুলে যাবে এবং এর পরিণামে তার জীবনে বড় বড় মুসিবত আসবে।

হারাম অথবা সন্দেহপূর্ণ খাবার থেকে বেঁচে থাকা

হারাম বা সন্দেহপূর্ণ খাদ্য গ্রহণ সব পাপের মূল। শরীরের রক্ত-মাংস সব কিছু যখন হারাম জিনিস দ্বারা লালিত হচ্ছে, তাহলে এর প্রভাব তার জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই পড়বে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা পবিত্র, তিনি পবিত্র ও হালাল বস্তু ছাড়া গ্রহণ করেন না। অতঃপর তিনি এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন, যে দূর-দূরান্ত পর্যন্ত দীর্ঘ সফর করে। ফলে সে ধূলিধূসরিত রুক্ষ কেশধারী হয়ে পড়ে। অতঃপর সে আকাশের দিকে হাত তুলে বলে, হে আমার প্রতিপালক! অথচ তার খাদ্য হারাম, পানীয় হারাম, পরিধেয় বস্ত্র হারাম এবং আহার্যও হারাম। কাজেই এমন ব্যক্তির দোয়া তিনি কী করে কবুল করতে পারেন? (মুসলিম, হাদিস : ২২৩৬)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

thirteen − 13 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য