Friday, April 17, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeবিবিধপার্থিব জীবনে কি আল্লাহ্‌কে দেখা সম্ভব? দ্বিতীয় পর্ব - পার্থিব দৃষ্টি আল্লাহ্‌কে...

পার্থিব জীবনে কি আল্লাহ্‌কে দেখা সম্ভব? দ্বিতীয় পর্ব – পার্থিব দৃষ্টি আল্লাহ্‌কে ধারন করতে সক্ষম নয়

বর্তমান সমাজে প্রচলিত হাজারো ভ্রান্ত-মতবাদের প্রবর্তক, প্রচারক এবং অনুসারীগণ এমনটা দাবী করেন যে, পার্থিব জীবনেই আল্লাহ্‌কে দেখা সম্ভব। কিন্তু আসলেই কি তাই? সত্যিই কি পার্থিব জীবনে আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা’আলাকে দেখা সম্ভব?

এই প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধান করার জন্য আসলে খুব বেশী সময় অতিবাহিত করার প্রয়োজন হয় না। কারন কিতাবুন মুবীনে অর্থাৎ সুস্পষ্ট কিতাবে আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা নিজেই এই প্রশ্নের উত্তর জানিয়ে দিয়েছেন। বলা হয়েছে,

ইদ্‌রা-কুন্‌ ( إِدْرَاكٌ ) হচ্ছে সেই জ্ঞান, যা মানুষ ইন্দ্রিয় শক্তি ব্যবহার করে অর্জন করতে পারে।
Knowledge, which can be acquired through senses. [সুত্রঃ তাজ্‌-উল-উরূ-স্‌ / লুগাতুল কুরআন]

সুতরাং উপরের আয়াত থেকে এটা সুস্পষ্টরূপে প্রমানিত হয় যে, পার্থিব জগতে দৃষ্টিশক্তি ব্যবহার করে আল্লাহ্‌ সুবহানাহু তা’আলাকে দেখার ক্ষমতা মানুষকে দেওয়া হয়নি।

সত্য-মিথ্যার প্রভেদকারী আল-ফুর’ক্কানে আরো বলা হয়েছে যে,

وَمَا كَانَ لِبَشَرٍ أَن يُكَلِّمَهُ اللَّهُ إِلَّا وَحْيًا أَوْ مِن وَرَاءِ حِجَابٍ أَوْ يُرْسِلَ رَسُولًا فَيُوحِيَ بِإِذْنِهِ مَا يَشَاءُ ۚ إِنَّهُ عَلِيٌّ حَكِيمٌ

কোন মানুষের জন্য এমন হওয়ার নয় যে, আল্লাহ তার সাথে কথা বলবেন ওহীর মাধ্যম অথবা পর্দার অন্তরাল ব্যতীত, অথবা তিনি কোন রাসুল প্রেরণ করেন, অতঃপর আল্লাহ যা চান, সে তা তাঁর অনুমতিক্রমে পৌঁছে দেবে। নিশ্চয় তিনি সর্বোচ্চ, প্রজ্ঞাময়।
– [
সুরাহ আশ-শু-রা- ৪২, আয়াত ৫১]

তারপরেও যদি উপরোক্ত আয়াতের সুস্পষ্ট বক্তব্য নিয়ে কারো মনে বিন্দুমাত্র সন্দেহ থাকে, তাহলে আমাদের জান্‌তে হবে চৌদ্দশত বছর আগে আমাদের প্রিয় রাসুল মুহাম্মদ (সাঃ) যখন এই আয়াতটি সম্মানিত সাহাবাদেরকে জানিয়েছিলেন, তখন তারা এই আয়াতটির কি ব্যাখ্যা গ্রহন করেছিলেন। কারন, সাহাবা ইকরামগন আল-কুরআনের ব্যাখ্যা জেনেছিলেন সরাসরি রাসুলে করীম (সাঃ) এর কাছ থেকে। সুতরাং কুরআনের তাফসীরের ব্যাপারে প্রসিদ্ধ সাহাবাগনের ব্যাখ্যার বিপরীতে অন্য কোন ভ্রান্ত মতবাদ গ্রহন করার কোন প্রশ্নই থাকতে পারে না।

মাসরুক (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাঃ)-এর নিকটে হেলান দিয়ে বসা ছিলাম। তিনি বললেন, হে আবূ আয়িশাহ! তিনটি বিষয় এমন যে, কোন ব্যক্তি এগুলোর কোনটি বললে সে আল্লাহ তা’আলার উপর ভীষণ (মিথ্যা) অপবাদ চাপালো।

যে ব্যক্তি এ ধারণা পোষণ করে যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রভুকে দেখেছেন, সে আল্লাহ তা’আলার উপর ভীষণ অপবাদ আরোপ করল। কেননা আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ “দৃষ্টিসমূহ তাকে প্রত্যক্ষ করতে পারে না, কিন্তু তিনি দৃষ্টিসমূহকে অনুধাবণ করেন। তিনি অতিশয় সূক্ষ্মদশী, সম্যক ওয়াকিফহাল”- (সূরা আল-আন’আম ৬, আয়াত ১০৩); “কোন মানুষের এমন মর্যাদা নেই যে, আল্লাহ তা’আলা তার সাথে কথা বলবেন ওয়াহীর মাধ্যম ব্যতীত অথবা পর্দার অন্তরাল ব্যতীত”– (সূরা আশ-শূরা ৪২, আয়াত ৫১)।

আমি হেলান দেয়া অবস্থায় ছিলাম। আমি উঠে সোজা হয়ে বসে বললাম, হে উন্মুল মু’মিনীন থামুন, আমাকে বলার সুযোগ দিন, তাড়াহুড়া করবেন না। আল্লাহ তা’আলা কি বলেননি? “নিশ্চয়ই সে তাকে আরেকবার দেখেছিল”- (সূরা আন-নাজম ৫৪, আয়াত ১৩)। সে তো তাকে উজ্জ্বল দিগন্তে দেখেছে”- (সূরা আত-তাকবীর ৮১, আয়াত ২৩)। আয়িশাহ্ (রাঃ) বললেন, আল্লাহর শপথ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমিই সর্বপ্রথম এ বিষয়ে প্রশ্ন করেছি। তিনি বলেছেনঃ সে তো জিবরীল। আমি তাকে তার আসল আকৃতিতে এ দু’বারই দেখেছি। আমি তাকে আসমান হতে অবতরণ করতে দেখেছি। তার দেহাবয়ব এতো প্রকাণ্ড যে, তা আসমান ও যামীনের মাঝখানের সবটুকু স্থান ঢেকে ফেলেছিল।

যে ব্যক্তি এ ধারণা করে যে, আল্লাহ তা’আলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর যা অবতীর্ণ করেছেন, তিনি তার কিছুটা গোপন করেছেন, সেও আল্লাহ তা’আলার উপর ভীষণ অপবাদ আরোপ করল। কেননা আল্লাহ তা’আলা বলেছেনঃ “হে রাসূল! তোমার প্রতিপালকের পক্ষ হতে তোমার উপর যা অবতীর্ণ করা হয়েছে, তা (লোকদের নিকট) পৌছে দাও…” (সূরা আল-মায়িদাহ ৫, আয়াত ৬৭)।

যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, আগামী কাল কি ঘটবে তিনি (মুহাম্মাদ) তা জানেন, সেও আল্লাহ তা’আলার উপর ভীষণ মিথ্যারোপ করল। কেননা আল্লাহ তা’আলা বলেছেনঃ “বলো, আল্লাহ ব্যতীত আসমান-যামীনে কেউই অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান রাখে না”— (সূরা আন-নামল ২৭, আয়াত ৬৫)।

রেফারেন্সঃ সুন্নাহ.কম – তিরমিজী ৩০৬৮, সহীহ বুখারী ৩৭৮, সহীহ মুসলিম ৩৩৭ [হাদিস মান – সহীহ]

সুতরাং উপরোক্ত তথ্যের আলোকে এটা সুস্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া-তা’আলাকে পার্থিব জীবনে দর্শন করা সম্ভব নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

4 × four =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য