কিতাবুন মুবীন – (সুস্পষ্ট কিতাবে) আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া-তা’আলা এক ধরনের মানুষের জন্য সুনিশ্চিত জান্নাতের প্রতিজ্ঞা দান করেছেন। কারা সেই মানুষ?
তাদেরকে বলা হয় – মুত্তাকী, অর্থাৎ যারা তাক্কওয়ার অধিকারী। বাংলা অনুবাদে যাকে বলা হয় পরহেযগার লোক। যদিও পরহেযগার শব্দটি বাংলা শব্দ না।
কেউ যদি নিয়মিত সালাত সাওম প্রতিষ্ঠা করেন, তাহলেই আমরা বলি – “আহা! লোকটা অনেক পরহেযগার!” – কিন্তু আসলেই কি তিনি পরহেযগার? প্রকৃত সত্য হচ্ছে, পরহেযগারী যাচাই করার ক্ষমতা আমাদের নেই। কারন পরহেযগারী থাকে অন্তরে, আর অন্তরের খবর শুধু একজনই জানেন।
إِنَّهُ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ
নিশ্চয়ই তিঁনি অন্তরের বিষয়াদির সম্পর্কে সম্যক অবগত। – [সুরাতুল-মুল্ক্ ৬৭, আয়াত ১৩]
সুতরাং কে আল্লাহ্কে ভয় পায়, আর কে আল্লাহ্কে ভয় পায় না, অর্থাৎ কে প্রকৃতভাবে খারাপ কাজে আল্লাহ’র প্রতিশ্রুত শাস্তিকে জিকর্ করে, আর ভাল কাজে আল্লাহ’র প্রতিশ্রুত পুরস্কারের কথা জিকর্ করে, সেটা আল্লাহ্ ছাড়া আর কেউই বলতে পারে না।
তথাপি মুত্তাকী লোকদের চেনার জন্য সাধারণ কিছু গুনের কথা আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা আল-কুরআনে ব্যক্ত করেছেন। তাদের সেইসব গুনের কথা জানাতে গিয়ে সর্বপ্রথম যে গুনটির কথা উল্লেখ করেছেন, সেটি হচ্ছে – “ঈমান বিল গায়েব”- অদৃশ্যে বিশ্বাস।
আল-ক্কু’রআনের একেবারে শুরুতেই সুরাতুল বা’ক্কারায় আল্লাহ্ জানিয়ে দিলেন,
এ কথা সত্য আল-কুরআন সার্বজনীনভাবে বিশ্ব মানবের জন্য এক অসাধারন পথ প্রদর্শক। কিন্তু সব মানুষই এই কিতাব পড়ে হিদায়াত পেতে পাবে? সব মানুষই কি আল-কুরআনের প্রদর্শিত পথ ধরে মুফলিহুন অর্থাৎ আখেরাতে সফল মানুষদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে?
উত্তর হচ্ছে – না, সব মানুষ হিদায়াত পাবে না। কারন আল্লাহ্ পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছেন, এই কিতাব শুধুমাত্র (Exclusively) সেইসব মানুষেরদেরকেই পথ দেখাবে, এই কিতাব শুধুমাত্র সেইসব মানুষদের জন্যই গাইডবুক, যারা আল্লাহ্কে ভয় করে, যারা মুত্তাকী, যারা তাক্কওয়ার অধিকারী।
যেহেতু মুত্তাকী হবার অন্যতম প্রথম শর্তটি হচ্ছে – “ঈমান বিল গায়েব”, সুতরাং আমাদের জানতে হবে, ঈমান বিল গায়েবে কি কি বিষয় অন্তর্ভুক্ত।
যারা মনে করেন, দুনিয়াতেই আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া-তা’আলাকে দেখা সম্ভব এবং শুধু সম্ভব না – দুনিয়াতেই আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলাকে দেখতে হবে, তা না হলে আখেরাতেও আল্লাহ্কে দেখতে পাওয়া যাবে না, সেই সব ভ্রান্ত মতবাদের অধিকারী মানুষদের সাথে আলোচনা করতে গিয়ে তাদের যে মতবাদটি জানতে পেরেছি – তা হলো, তারা বলেন, ঈমান বিল্ গায়েবে আল্লাহ্ নিজে অন্তর্ভুক্ত নন।
যদিও বিস্তারিত জানাবার সুযোগ এই লেখায় নেই, তথাপি আসুন দেখি, আল-কুরআন আর সুন্নাহ এই বিষয়ে কি বলে। প্রকৃত সত্য হচ্ছে, “ঈমান বিল গায়েবের” বিষয়টিকে কয়েক শ্রেনীতে ভাগ করা যায়।
১) যে সব বিষয়, যে বিষয়ে অনুমোদিত সীমিত জ্ঞান আছে কিন্তু পার্থিব জীবনে যা দেখা সম্ভব নয়।
যেমন – আল্লাহ্, আখেরাত, মালাঈ-কা, জান্নাত, জাহান্নাম ইত্যাদি।
২) ইতিহাসের আয়াত বা নিদর্শন, যেসব বিষয়ে মানুষকে জ্ঞান প্রদান করা হয়েছে, কিছু মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে, আর কিছু মানুষ শুনেই বিশ্বাস করেছে। যেমন – নবী-রাসুল, আল্লাহ’র কিতাব সমূহ।
ইত্যাদি আরো অনেক শ্রেনীতেই গায়বের বিষয়গুলোকে বিভক্ত করা সম্ভব।
ঈমান হচ্ছে – ‘ইলমূল ইয়াকীন (বিশ্বাস ভিত্তিক জ্ঞান)। কোন কিছু না দেখেই, শুধুমাত্র তার নিদর্শন দেখে, যথাযথ প্রজ্ঞা এবং তথ্যের যুক্তিযুক্ত পর্যালোচনা সাপেক্ষে সেই বিষয়ে সুপ্রতিষ্ঠিত ধারনা লাভ করা। যেমন, আমি মায়ের গর্ভে ছিলাম – আমি দেখিনি। কিন্তু জ্ঞান লাভের পর – আমরা সবাই জেনেছি যে, আমাদের সবার জন্ম নিজ নিজ মায়ের গর্ভ থেকেই। এই জ্ঞান ইল্ম্ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। চাক্ষুস দর্শন দ্বারা নয়।
অন্যদিকে তার বিপরীত হচ্ছে – ‘আইনাল ইয়াকীন – চাক্ষুস দেখার পর বিশ্বাস। যেমন আখেরাত এবং আখেরাতে জাহান্নামের বর্ননায় আল্লাহ্ বলেছেন,
لَتَرَوُنَّ الْجَحِيمَ ثُمَّ لَتَرَوُنَّهَا عَيْنَ الْيَقِينِ
তোমরা অবশ্যই জাহান্নাম দেখবে, অতঃপর তোমরা তা অবশ্যই দেখবে দিব্য প্রত্যয়ে (চাক্ষুসভাবে) – [সু্রাত্-তাকাসুর ১০২, আয়াত ৬-৭]
আসুন ঈমান বিষয়ে আল-কুরআনের কয়েকটি আয়াত দেখে নেই।
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَالَّذِينَ هَادُوا وَالنَّصَارَىٰ وَالصَّابِئِينَ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَعَمِلَ صَالِحًا فَلَهُمْ أَجْرُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ
নিঃসন্দেহে যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে (যারা নও-মুসলিম) এবং যারা ইহুদী, নাসারা ও সাবেঈন, (তাদের মধ্য থেকে) যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি ও কিয়ামত দিবসের প্রতি এবং সৎকাজ করেছে, তাদের জন্য রয়েছে তার সওয়াব তাদের পালনকর্তার কাছে। আর তাদের কোনই ভয়-ভীতি নেই, তারা দুঃখিতও হবে না। – [সুরাতুল-বা’ক্কারাহ ২, আয়াত ৬২]
وَلَٰكِنَّ الْبِرَّ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّينَ
…বরং বড় সৎকাজ হল এই যে, ঈমান আনবে আল্লাহর উপর কিয়ামত দিবসের উপর, ফেরেশতাদের উপর এবং সমস্ত নবীগণের উপর … [সুরাতুল-বা’ক্কারাহ ২, আয়াত ১৭৭ (আংশিক)]
آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْهِ مِن رَّبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ ۚ كُلٌّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِّن رُّسُلِهِ ۚ وَقَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا ۖ غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ
রসূল বিশ্বাস করেছেন ঐ সমস্ত বিষয় সম্পর্কে যা তাঁর পালনকর্তার পক্ষ থেকে তাঁর কাছে অবতীর্ণ হয়েছে এবং মু’মীনেরাও। (তারা) সবাই বিশ্বাস রাখে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর গ্রন্থসমুহের প্রতি এবং তাঁর পয়গম্বরগণের প্রতি। তারা বলে আমরা তাঁর পয়গম্বরদের মধ্যে কোন তারতম্য করিনা। তারা বলে, আমরা শুনেছি এবং কবুল করেছি। আমরা তোমার ক্ষমা চাই, হে আমাদের রব্। তোমারই দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। – [সুরাতুল-বা’ক্কারাহ ২, আয়াত ২৮৫]
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَالَّذِينَ هَادُوا وَالصَّابِئُونَ وَالنَّصَارَىٰ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَعَمِلَ صَالِحًا فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ
নিশ্চয় যারা মুসলমান, যারা ইহুদী, সাবেঈ বা খ্রীষ্টান, তাদের মধ্যে যারা নিশ্চয় যারা মুসলমান, যারা ইহুদী, সাবেঈ বা খ্রীষ্টান, তাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে আল্লাহর প্রতি, কিয়ামতের প্রতি এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে, তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুঃখিত হবে না। – [সুরাতুল-মা-ইদাহ্ ৫, আয়াত ৬৯]
إِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللَّهِ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ وَآتَى الزَّكَاةَ وَلَمْ يَخْشَ إِلَّا اللَّهَ ۖ فَعَسَىٰ أُولَٰئِكَ أَن يَكُونُوا مِنَ الْمُهْتَدِينَ أَجَعَلْتُمْ سِقَايَةَ الْحَاجِّ وَعِمَارَةَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ كَمَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَجَاهَدَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ۚ لَا يَسْتَوُونَ عِندَ اللَّهِ ۗ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ
নিঃসন্দেহে তারাই আল্লাহর মসজিদ আবাদ করবে যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি ও শেষ দিনের প্রতি এবং কায়েম করেছে নামায ও আদায় করে যাকাত; আল্লাহ ব্যতীত আর কাউকে ভয় করে না। অতএব, আশা করা যায়, তারা হেদায়েত প্রাপ্তদের অন্তর্ভূক্ত হবে। তোমরা কি হাজীদের পানি সরবরাহ ও মসজিদুল-হারাম আবাদকরণকে সেই লোকের সমান মনে কর, যে ঈমান রাখে আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি এবং যুদ্ধ করেছে আল্লাহর রাহে, এরা আল্লাহর দৃষ্টিতে সমান নয়, আর আল্লাহ জালেম লোকদের হেদায়েত করেন না। – [সুরাত্-তাওবা ৯, আয়াত ১৮-১৯]
উপরোক্ত আয়াতসমূহ যদি মনোযোগের করে পাঠ করেন এবং চিন্তা ভাবনা করেন, তাহলে দেখতে পাবেন যে, গুরুত্বের ক্রমানুসারে ঈমানের প্রথম যে দুইটি বিষয় বার বার উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো হচ্ছে,
آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ
আল্লাহ্ এবং আখেরাতে বিশ্বাস করা
সুতরাং মুত্তাকী তারাই, দু’চোখে না দেখা সত্ত্বেও যারা আল্লাহ্ এবং আখেরাতকে বিশ্বাস করে। মুত্তাকী তারাই যারা বিশ্বাস করে, আল্লাহ্’র ওয়াদা সত্য এবং আখেরাতে অবশ্যই আল্লাহ্র সামনে হাজির হতে হবে। মুত্তাকী তারাই যারা আখেরাতে আল্লাহ্কে দেখার প্রত্যাশা রাখে।
১৪০০ বছর আগে, তৎকালীন কাফের, মুশরেক, মুনাফিক, আহলে কিতাবধারীগণ এবং ক্ষেত্রবিশেষে মু’মীনগণও গায়েব বিষয়ে প্রশ্ন করতো এবং তারাও আল্লাহ্কে দেখার দাবী জানাতো। আর এ বিষয়ে বিভিন্ন সনদে সুপ্রতিষ্ঠিত অনেক সহীহ হাদিস রয়েছে। সুনান আবু দাউদে باب فِي الرُّؤْيَةِ নামে “আল্লাহ্কে দর্শন” বিষয় অধ্যায়ে বলা হয়েছে
জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট বসা ছিলাম। তিনি চৌদ্দ তারিখের রাতে পূর্ণিমার চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেন, অচিরেই তোমরা তোমাদের রবকে দেখতে পাবে যেমন তোমরা এ চাঁদকে দেখছো, আর একে দেখতে তোমাদের কোন অসুবিধা হচ্ছে না। যদি তোমরা সূর্যোদয়ের ও সূর্যাস্তের পূর্বে সলাত আদায়ে পরাভূত না হও তাহলে তা আদায় করে নাও। অতঃপর তিনি এ আয়াত পাঠ করলেনঃ “সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পূর্বে তোমার রবের প্রশংসাসহ তাসবীহ পাঠ করো”।
সূত্রঃ ihadis.com – সুনান আবু দাউদ ৪৭২৯ (হাদিস মান – সহীহ)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি ক্বিয়ামাতের দিন আল্লাহকে দেখতে পাবো? তিনি বললেন, মেঘহীন দুপুরে তোমাদের কি সূর্য দেখতে কষ্ট হয়? সাহাবীগন বললেন, না। তিনি আবার প্রশ্ন করলেন, মেঘহীন নির্মল আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ দেখতে কি তোমাদের কোন অসুবিধা হয়? তারা বললেন, না। তিনি (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, সেই, মহান সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার জীবন! তোমরা এর একটি (চাঁদ বা সূর্য) যেভাবে নির্বিঘ্নে দেখতে পাও সেভাবে তাঁকেও তোমরা দেখবে।
সূত্রঃ ihadis.com – সুনান আবু দাউদ ৪৭৩০, সহীহ বুখারী ৮০৬, ৭৪৩৭ (হাদিস মান – সহীহ)
আবূ রাযীন (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, একদা আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমাদের প্রত্যেকেই কি ক্বিয়ামাতের দিন তার রবকে দেখতে পাবে? তাঁর সৃষ্টির মাঝে এর কোন নিদর্শন আছে কি? তিনি বললেন, হে আবূ রাযীন! তোমাদের প্রত্যেকে কি পূর্ণিমা রাতের চাঁদ দেখে না (অর্থাৎ চৌদ্দ তারিখে নির্মল আকাশে)? তিনি বলেন, হাঁ। তিনি বললেন, তাহলে আল্লাহ তো মহান। ইবনু মু‘আস বলেন, তিনি (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তা (চাঁদ) তো আল্লাহর সৃষ্টিকুলের মধ্যকার একটি সৃষ্টি। আর আল্লাহ তো মহিমান্বিত ও সুমহান।
সূত্রঃ ihadis.com – সুনান আবু দাউদ ৪৭৩১ (হাদিস মান – হাসান সহীহ)
সুতরাং সম্যক আলোচনার উপস্থাপনায় এটা সুপ্রতিষ্ঠিত যে, “ঈমান বিল গায়েবের” প্রথম, প্রধান এবং অন্যতম শর্ত হচ্ছে – আল্লাহ্কে দুনিয়াতে না দেখেও, আখেরাতে আল্লাহ’কে দেখতে পাবো – সেই প্রত্যাশা করা এবং আন্তরিকভাবে তা বিশ্বাস করা। এই ধরনের প্রত্যাশা যারা করেন, তারাই প্রকৃত মুত্তাকী, তাদের জন্যেই রয়েছে সুনিশ্চিত জান্নাতের ওয়াদা। আর যে আখেরাতে যে জান্নাত পেলো – সেই হলো মুফলিহীন অর্থাৎ সফলকামীদের অন্তর্ভুক্ত।
