ইসলামে নারীর নাফাকা তথা ভরণ-পোষণ, বাসস্থান ও আনুষঙ্গিক খরচের ব্যবস্থা করা পুরুষের জন্য আবশ্যকীয় ও ফজিলতপূর্ণ একটি বিধান। ভরণ-পোষণের এই ব্যবস্থা ক্ষেত্রবিশেষে ফরজ, ওয়াজিব ও নফল হয়ে থাকে। এ বিধান সম্পর্কে অনেকেরই অজানা বা জানার পরও এর ওপর দায়িত্বশীলতা নেই। অথচ ভরণ-পোষণের এই দায়িত্ব যারা গুরুত্বের সঙ্গে যথাযথ পালন করবে, তাদের ব্যাপারে কোরআন-হাদিসে ব্যাপক ফজিলতের কথা এসেছে।
এখানে ভরণ-পোষণের ফজিলতসংক্রান্ত কয়েকটি হাদিস তুলে ধরা হলো—
স্ত্রীদের ভরণ-পোষণের ফজিলত ও বিধান
ভরণ-পোষণ স্বামীর ওপর স্ত্রীর অধিকার। নবীজি (সা.) বলেন, ‘সাবধান, তোমাদের ওপর তাদের অধিকার এই যে খোরপোষের বিষয়ে তাদের প্রতি সদাচার করবে। ’ (তিরমিজি, হাদিস : ১১৬৩)
আর যারা স্ত্রীদের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবে, তাদের ফজিলতের ব্যাপারে নবীজি (সা.) বলেন, ‘তুমি একটি দিনার আল্লাহর রাস্তায় খরচ করেছ, একটি দিনার গোলাম আজাদ করার জন্য, একটি দিনার অভাবীর প্রয়োজন পূরণের জন্য এবং একটি দিনার পরিবারের জন্য খরচ করেছ তো ওই দিনারের সওয়াব সবচেয়ে বেশি, যা পরিবারের পেছনে খরচ করেছ। (মুসলিম, হাদিস : ৯৯৫)
কন্যাদের ভরণ-পোষণের ফজিলত
একজন পিতার দায়িত্ব হলো তার সন্তানদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা। এ ব্যাপারে হাদিসে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আয়েশা (রা.) বলেন, হিন্দ বিনতে ওতবা নবী (সা.)-এর কাছে এসে আরজ করল, হে আল্লাহর রাসুল, আবু সুফিয়ান একজন কৃপণ লোক। তার অগোচরে যদি কিছু নিই তাহলে নিতে পারি? নতুবা সে আমার ও আমার সন্তানের প্রয়োজনীয় খরচ দেয় না। নবী (সা.) বলেন, তোমার নিজের ও সন্তানের স্বাভাবিক প্রয়োজন পূরণ হয় এ পরিমাণ তুমি নিতে পারো। (বুখারি, হাদিস : ৫৩৬৪)
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, পিতার সম্পদ থেকে প্রয়োজন পরিমাণ ভরণ-পোষণ পাওয়া সন্তানের হক। আর যারা এ হক পালনে যথাযথ গুরুত্ব দেবে তাদের ব্যাপারে হাদিস শরিফে বিশেষ ফজিলতের কথা এসেছে। জাবের (রা.) বলেন, নবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যার তিনটি কন্যা আছে এবং তাদের সে ঘরে স্থান দিয়েছে, তাদের প্রতি রহম করেছে এবং তাদের প্রয়োজনসমূহের জিম্মাদার হয়েছে তার জন্য বেহেশত অবধারিত। ’ কেউ জিজ্ঞাসা করল, ‘হে আল্লাহর রাসুল, কারো যদি দুটি কন্যা থাকে?’ নবী (সা.) বললেন, ‘দুটি থাকলেও’। বর্ণনাকারী বলেন, ‘সাহাবিদের ধারণা, এক কন্যা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলেও নবী (সা.) এই ফজিলত ইরশাদ করতেন। ’ (মুসনাদে আহমদ : ৩/৩০৩)
মায়ের ভরণ-পোষণের ফজিলত
একজন সন্তান সামর্থ্যবান হওয়ার পর তার প্রধান দায়িত্ব হলো মা-বাবার প্রতি যত্ন নেওয়া, তাদের দেখভাল করা। যে সন্তান সামর্থ্যবান হওয়ার পরও মায়ের ভরণ-পোষণের ব্যাপারে গুরুত্ব দেবে, তার ব্যাপারে হাদিসে ফজিলতের কথা এসেছে। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, আমি নবী (সা.) জিজ্ঞাসা করলাম, ‘কোন কাজ আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়?’ নবী (সা.) বলেন, ‘সময়মতো নামাজ আদায় করা। ’ আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ‘এরপর কোন আমল?’ তিনি বলেন, মা-বাবার সেবা করা। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এরপর কোন আমল? তিনি বলেন, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা। ’ (বুখারি, হাদিস : ৫২৭)
বোনদের ভরণ-পোষণের ফজিলত
বোনদের ভরণ-পোষণের ফজিলত প্রসঙ্গে আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন, নবী (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি দুজন বা তিনজন কন্যার ভরণ-পোষণ করে কিংবা দুটি বোন বা তিনটি বোনের ভরণ-পোষণ করে এবং এ অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বা তারা তার নিকট থেকে আলাদা হয় তো আমি ও সে এভাবে জান্নাতে থাকব। এ কথা বলে শাহাদত ও মধ্যমাকে একত্র করলেন। (ইবনে হিব্বান, হাদিস : ৪৪৮)
