Saturday, October 24, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে ও পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeকুরআন ও হাদীসপ্রতিদিন অতীব প্রয়োজনীয় একটি হাদিস জেনে নেই 

প্রতিদিন অতীব প্রয়োজনীয় একটি হাদিস জেনে নেই 

আমাদের কাছে সুলাইমান ইবনু হারব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে ওয়ুহাইব ইবনু খালিদ বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনু শুবরুমাহ থেকে, তিনি বলেন, আমি আবূ যুর‘আহ-কে আবূ হুরাইরাহ রাযিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন, জিজ্ঞাসা করা হলো, ‘হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আমি কার সাথে সবচেয়ে বেশি সদ্ব্যবহার করব?’ তিনি বললেন, ‘তোমার মায়ের।’ লোকটি বলল, ‘তারপর কার?’ তিনি বললেন, ‘তোমার মায়ের।’ লোকটি বলল, ‘তারপর কার?’ তিনি বললেন, ‘তোমার মায়ের।’ লোকটি বলল, ‘তারপর কার?’ তিনি বললেন, ‘তোমার বাবার।’

তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। (صحيح)

সহীহ- সহীহ মুসলিম ২৫৪৮, মুসনাদে আহমাদ ৯১৯০, তাহক্বীক মুসনাদে আহমাদ ৯/১৪১।

এই হাদীস হতে শিক্ষণীয় বিষয়:

১। এই হাদীসটির মধ্যে ন্যায়পরায়ণতার অধিকতর অধিকারী মাতাকেই সাব্যস্ত করা হয়েছে, তার কারণ হলো এই যে, সন্তানের জন্য মাতাকেই সব চেয়ে বেশি কষ্ট ভোগ করতে হয়। সন্তানের জন্য মাতাকেই সব চেয়ে বেশি দয়া, স্নেহ এবং যত্ন করতে হয়। আবার সন্তানকে দুধ পান ও লালন-পালন করার সমস্ত কষ্ট মাতাকেই সহ্য করতে হয়। সন্তানের অসুখের সময় মাতাকেই সজাগ থাকতে হয়। এই রকমভাবে সন্তানের সব ক্ষেত্রে ও সর্বাবস্থায় বেদনা ও কষ্ট  মাতাকেই সহ্য করতে হয়। তাই প্রকৃত ইসলাম ধর্মে মাতার সাথে ন্যায়পরায়ণতার অধিকার সর্বশ্রেষ্ঠ পন্থায় সাব্যস্ত করা হয়েছে।

২। মানুষের মধ্যে ন্যায়পরায়ণতার সহিত সর্বশ্রেষ্ঠ আচার-ব্যবহারের অধিকারী হলেন মাতা। সুতরাং তাঁর সাথে ন্যায়পরায়ণতার সহিত সুসম্পর্ক স্থাপন করার মাধ্যম হলো: তাঁর সাহায্য ও সেবাযত্ন করা, তাঁর পানাহারের প্রয়োজন পূরণ করা, তাঁর সাথে নম্রভাবে বিনয়ীর সুরে কথা বলা, তাঁর প্রয়োজন ও পছন্দ মত তাঁকে উপহার প্রদান করা, তাঁর প্রতি শ্রদ্বা নিবেদন করা, তিনি দূরে থাকলে তাঁর সাথে মাঝে মধ্যে সাক্ষাৎ করা, তাঁর সাথে সদাসর্বদা সুসম্পর্ক স্থাপন করে রাখা, তাই তাঁর সাথে কোনো দিন সুসম্পর্ক ছিন্ন করা বৈধ নয়, তবে তাঁর সাথে বেশি সাক্ষাৎ করে তাঁকে কষ্ট দেওয়া অথবা তাঁকে বিরক্ত করা বা অসন্তুষ্ট করা উচিত নয়। তিনি অসুস্থ বা পীড়িত হলে তাঁর আরাম ও শান্তি লাভের ব্যবস্থা করার জন্য সজাগ থাকা, তাঁর জন্য দোয়া করা; কেননা সমস্ত জাগতিক বিষয়ে তাঁর সাথে ন্যায়পরায়ণতার সহিত সদাচরণ ও সুসম্পর্ক স্থাপন করে রাখাই হলো তাঁর অধিকার, যদিও তিনি মহা পাপে এবং আল্লাহর সাথে শির্ক ও অংশীদার স্থাপনের কাজে লিপ্ত থাকেন। কিন্তু মাতা যখন সঠিক পন্থায় প্রকৃত ইসলামের শিক্ষা মোতাবেক অত্যন্ত ধার্মিকী হয়ে মহান আল্লাহ ও তদীয় রাসূলকে মেনে চলবেন, তখন তাঁর অধিকার সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সব চেয়ে বেশি বড়ো হয়ে যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

four × 3 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য