وَعَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ: سَمِعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قوما يتدارؤون فِي الْقُرْآنِ فَقَالَ: إِنَّمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ بِهَذَا: ضَرَبُوا كِتَابَ اللَّهِ بَعْضَهُ بِبَعْضٍ وَإِنَّمَا نَزَلَ كِتَابُ اللَّهِ يُصَدِّقُ بَعْضُهُ بَعْضًا فَلَا تُكَذِّبُوا بَعْضَهُ بِبَعْضٍ فَمَا عَلِمْتُمْ مِنْهُ فَقُولُوا وَمَا جَهِلْتُمْ فَكِلُوهُ إِلَى عَالِمِهِ . رَوَاهُ أَحْمد وَابْن مَاجَه
’আমর ইবনু শু’আয়ব (রহঃ) তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি দল সম্পর্কে শুনলেন, তারা পরস্পর কুরআন নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছে, ঝগড়া করেছে। তখন তিনি বললেন, নিশ্চয়ই তোমাদের পূর্বেকার লোকেরা এ কারণেই ধ্বংস হয়ে গেছে। তারা আল্লাহর কিতাবের এক অংশকে অন্য অংশের দ্বারা বাতিল করার চেষ্টা করছিল। অথচ আল্লাহর কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে তার এক অংশ অপর অংশের পরিপূরক হিসেবে ও সত্যতা প্রমাণ করার জন্য। তাই তোমরা এর এক অংশকে অপর অংশের দ্বারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করো না, বরং তোমরা তার যতটুকু জানো শুধু তা-ই বলো, আর যা তোমরা জানো না তা কুরআনের ’আলিমের নিকট সোপর্দ কর। (আহমাদ ও ইবনু মাজাহ্)[1]
[1] হাসান : আহমাদ ২৭০২, ইবনু মাজাহ্ ৮৫। হাদীসের শব্দ আহমাদ-এর। তবে এর অপর এক বর্ণনায় আছে তারা যে বিষয়ে ঝগড়া করছিল তা ছিল তাক্বদীর সম্পর্কীয়।
ব্যাখ্যা: কুরআন এবং সুন্নাহ নিয়ে বিবাদ করা হারাম, অর্থাৎ- নিজ মতামতকে টিকিয়ে রাখার উদ্দেশে অন্যের দলীলকে রদ করার মনোবৃত্তি পোষণ করে কুরআন-সুন্নাহ নিয়ে তর্ক করা হারাম। উদাহরণস্বরূপ মুহাদ্দিস মাযহার বলেন- আহলুস্ সুন্নাহগণ বলে থাকেন কল্যাণ ও অকল্যাণ সকলই আল্লাহর তরফ থেকে যেমন আল্লাহ বলেন- قُلْ كُلٌّ مِّنْ عِندِ اللّهِ এবং ক্বদারিয়্যাহরা আল্লাহর এ বাণীকে আল্লাহর অপর বাণী কর্তৃক রদ করে দেয় যেমন- مَا أَصَابَكَ مِنْ حَسَنَةٍ فَمِنَ اللّهِ وَمَا أَصَابَكَ مِن سَيِّئَةٍ فَمِن نَّفْسِكَ আয়াত দ্বারা রদ করে দেয়। তারা তাক্বদীরের প্রতি বিশ্বাস থেকে বিরত থেকেছে। সুতরাং ঐ পন্থাটিই গ্রহণ করতে হবে যার উপর সকলেই একমত এবং অপর আয়াতটির كُلٌّ مِّنْ عِندِ اللّهِ তা‘বীল ঐভাবেই করতে হবে যেভাবে আমরা বলে থাকি- ‘‘নিশ্চয়ই প্রতিটি জিনিস তাক্বদীরের উপর নির্ভরশীল’’ এ কথার উপর সকলের ঐকমত্য সংঘটিত হয়েছে। পক্ষান্তরে আল্লাহর বাণী- وَمَا أَصَابَكَ مِن سَيِّئَةٍ তাক্বদীরের মাসআলার বহির্ভূত; কেননা এর অর্থ হচ্ছে পরাজয় বরণ করা, সম্পদ বিনষ্ট হওয়া ও অসুস্থ হওয়ার বিপদ দ্বারা তোমার কাছে যা পৌঁছে তা মূলত তুমি যে সমস্ত গুনাহ করেছো তার বদলাস্বরূপ।
