وَعَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَا وَرَجُلَانِ مِنْ بَنِي عَمِّي فَقَالَ أَحَدُهُمَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَمِّرْنَا عَلَى بَعْضِ مَا وَلَّاكَ اللَّهُ وَقَالَ الْآخَرُ مِثْلَ ذَلِكَ فَقَالَ: «إِنَّا وَاللَّهِ لَا نُوَلِّي عَلَى هَذَا الْعَمَلِ أَحَدًا سَأَلَهُ وَلَا أَحَدًا حَرَصَ عَلَيْهِ» . وَفِي رِوَايَةٍ قَالَ: «لَا نَسْتَعْمِلُ عَلَى عَمَلِنَا مَنْ أَرَادَهُ»
আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি ও আমার দুই চাচাতো ভাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গেলাম। তখন তাদের একজন বলল : হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহ তা‘আলা আপনাকে (সমগ্র বিশ্বের মানবের) শাসনকর্তা বানিয়েছেন। আপনি আমাদেরকেও তাত্থেকে কোনো একটি অঞ্চলের শাসনকার্যের দায়িত্ব দিন। এরপর দ্বিতীয়জনও অনুরূপ কথার পুনরাবৃত্তি করল। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমরা এ কাজে এমন কোনো ব্যক্তিকে শাসনকর্তা (শাসক) নিযুক্ত করি না, যে তা চেয়ে নেয় (প্রত্যাশা করে) এবং ঐ ব্যক্তিকেও নয়, যে তার জন্য লালায়িত থাকে।
অপর এক বর্ণনাতে আছে- তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ আমরা আমাদের শাসনকার্যে এমন কোনো লোককে নিযুক্ত করি না, যে তার আকাঙ্ক্ষা করে। (বুখারী ও মুসলিম)[1]
[1] সহীহ : বুখারী ৭১৪৯, মুসলিম ১৭৩৩, সহীহাহ্ ৩০৯২, সহীহ আল জামি‘ ২২৯১।
ব্যাখ্যা: কাযী বায়যাবী (রহঃ) বলেছেনঃ কোনো জ্ঞানী ব্যক্তির উচিত নয় আনন্দিত হওয়া যার পরিণতিতে রয়েছে কষ্ট।
মুহলাব (রহঃ) বলেছেনঃ ক্ষমতার উপরে আগ্রহী হওয়া এটাই কারণ মানুষের মাঝে পরস্পরে লড়াই করা। এমনকি তাদের মাঝে রক্তপাত ঘটে এবং পৃথিবীতে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং লজ্জিত হওয়ার পদ্ধতি হলো যে, নিশ্চয় সে হত্যা করবে অথবা মৃত্যুবরণ করবে অথবা পদস্খলন করবে।
উল্লেখিত হাদীস থেকে স্পষ্টভাবে বুঝা যায়, কেউ দায়িত্ব চাইলে তাকে দায়িত্ব দেয়া যাবে না। কেননা কারো দায়িত্ব চাওয়াটাই প্রমাণ বহন করে যে, সে মাল-সম্পদ ও মান সম্মানের প্রতি আগ্রহী, ফলে দায়িত্ব পেলে অন্যায়ে জড়াতে পারে তাই রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দায়িত্ব চায় আমরা তাকে দায়িত্ব দেই না এবং যে লোভ করে তাকেও দেই না। (ফাতহুল বারী ১৩শ খন্ড, হাঃ ৭১৪৯)
