বিংশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, সৌদি ফাতাওয়া বোর্ডের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতী, ইমাম ‘আব্দুল ‘আযীয বিন ‘আব্দুল্লাহ বিন বায (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২০ হি./১৯৯৯ খ্রি.] প্রদত্ত ফতোয়া—
প্রশ্ন: “ফিলিস্তিন ইস্যুতে মুক্তির পথ কী, যার প্রচণ্ডতা, ভয়াবহতা ও জটিলতা দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে?”
উত্তর: “ফিলিস্তিন ইস্যুর যে অধঃপতন হচ্ছে, দিনের পর দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে এবং চলমান সময়ের সাথে যার জটিলতা ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে, এমনকি সম্প্রতি যে পরিস্থিতে পৌঁছেছে, এসবের জন্য অবশ্যই একজন মুসলিম ব্যথিত হবে এবং মনোক্ষুণ্ণ হবে। আসলে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর মতানৈক্য, শত্রুদের বিপক্ষে এক কাতারে প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে না তোলা এবং ইসলামের হুকুম পালনে অবাধ্যতাই এসবের মূল কারণ। (ইসলামের যে হুকুমগুলোর) সাথে আল্লাহ তায়ালা তাঁর সাহায্যের প্রতিশ্রুতি জুড়ে দিয়েছেন। আর ওয়াদা করেছেন, তা সম্পাদনকারীদের খলিফা বানাবেন এবং তাদের প্রদান করবেন ক্ষমতা।
এ বিষয়টি আরও বড়ো সংকট এবং ক্ষতিকর পরিণতির ব্যাপারে সতর্ক করছে। যদি না নতুনভাবে পার্শ্ববর্তী দেশগুলো এক কাতারবদ্ধ হয়ে এগিয়ে আসে এবং এ ব্যাপারে ইসলামের হুকুম অবলম্বন করে। যেই বিষয়টি তাদের জন্য গুরুত্ববহ এবং সারা মুসলিম বিশ্বের জন্যও গুরুত্ববহ।
আরেকটি বিষয়ে ইঙ্গিত করা জরুরি, ফিলিস্তিন ইস্যু শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ইসলামি ইস্যু। কিন্তু ইসলামের শত্রুরা অনেক চেষ্টা করেছে এটাকে ইসলামের গণ্ডি থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে। বুঝানোর চেষ্টা করেছে অনারব মুসলিমদের—এটা আরবদের ব্যাপার, এটা অনারবদের কোনো ব্যাপার নয়। তারা যে এ ব্যাপারে একটা পর্যায় পর্যন্ত সফলকাম, তা প্রতীয়মান হয়েছে।
এজন্য আমি মনে করি, এ সমস্যার সমাধান তখনই সম্ভব যখন এটাকে ইসলামি ইস্যু হিসেবে ধরা হবে, এ থেকে পরিত্রাণের জন্য মুসলিমরা নিজেদের সাহায্য-সহযোগিতা করবে এবং ইহুদিদের সাথে ইসলামি পন্থায় জিহাদ করবে, যতক্ষণ না ভূখণ্ড তাদের অধিবাসীদের কাছে ফিরে আসছে এবং যতক্ষণ না বিচ্ছিন্ন ইহুদিগোষ্ঠী তাদের দেশে ফিরে যাচ্ছে, যেখান থেকে তারা এসেছিল সেখানে। আর আসল ইহুদিরা তাদের দেশে মুসলিমদের শাসনের অধীনে থাকবে, কোনো কমিউনিস্ট কিংবা সেক্যুলারদের শাসনে নয়। এভাবে হক বিজয়ী হবে, আর পরিত্যক্ত হবে বাতিল। জমিনের অধিবাসীরা তাদের নিজেদের জমিনে ফিরে যাবে, ইসলামের শাসনের আওতায়, অন্য কারও শাসনের আওতায় নয়। আর আল্লাহই তৌফিকদাতা।”
·
তথ্যসূত্র: ইমাম ইবনু বাযের মাজমূ‘উ ফাতাওয়া, খণ্ড: ১; পৃষ্ঠা: ২৭৭; গৃহীত: শাইখের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
·
অনুবাদক: আব্দুর রহমান মৃধা
www.facebook.com/SunniSalafiAthari
