আপনি আশপাশের দিকে যদি তাঁকান, তাহলে দেখতে পাবেন অনেক মানুষ আছে যাদের নামাজ-রোজার কোনো খবর নাই, অন্য মুসলিম ভাইয়ের সাথে ভালো আচরণ করে না, ভিক্ষুককে ২টা টাকা ভিক্ষাও দেয় না – ওদিকে ইRun এর জয়গান করে পোস্ট দিয়ে মনে করে বিশাল “উম্মাহর ঐক্য” করে ফেললাম। যদিও তার পোস্টে ইRun এর যুদ্ধে কোনো লাভ হয়নাই।
“আকিদা” শব্দটা শুনলেই মানুষের ফেসবুক পোস্টে গিয়ে Yahooদির দালাল বলে গালি দিয়ে আসে, ওদিকে নিজে ২টা সুরা শুদ্ধ উচ্চারণে বলতে পারবে না।
অমুকের জন্যই ইসলামের ইমেজ খারাপ হইতেছে, “হুজুররা খ্যাত” এইসব বলে সারাদিন চিল্লায়, ওদিকে নামাজের কথা বললে প্যান্ট থাকে নষ্ট। ইসলামের ইমেজ নিয়ে খুব চিন্তিত থাকলেও নিজে যে গার্লফ্রেন্ড নিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়, সেইটায় কোনো সমস্যা নাই।
অনেক মানুষ আছে যারা ফেসবুকে অন্যদের সামনে ডারতবিরোধী পোস্ট দিয়ে ফাটিয়ে ফেলে, ওদিকে বলিউডের মুভি বা সিরিয়াল ছাড়া তার চলে না। বয়কট ই*ন্ডি-য়া বলে এক ট্যাবে পোস্ট দিয়েই অন্য ট্যাবে ইউটিউব থেকে হিন্দি গান শোনে।
ক্রিকেট খেলায় পাকিস্তানকে সাপোর্ট করে আর আরব শাসকদের ‘মুনাফেক’ বলে গালি দিয়ে “ঈমান” জাহির করে। ওদিকে খেলা দেখা শেষে সিনেমা হলে গিয়ে শাকিব খানের মুভি দেখে হল থেকে বের হয়ে টিভির সাংবাদিককে সাক্ষাৎকারে বলেঃ “আলহামদুলিল্লাহ, ফাডাফাডি মুভি”।
দিনরাত আমেরিকার ধ্বংস চায় আর আমেরিকা যেতে পারলে বা সেটেল হতে পারলে খুশীতে নাচে।
ফেসবুকে বিশাল আকারে ফ্রান্স বয়কটের ডাক দেয়, এরপর ফ্রান্সের ভিসা পেলে “আলহামদুলিল্লাহ” বলে {লিটেরালি এই রকম কেস দেখছি একটা}।
এই রকম বিশাল লিস্ট আমি বলে যেতে পারবো। যেগুলো শুনলে আপনাদের হাসি আসবে আবার দুঃখও লাগবে, সেই নিশ্চয়তা দিতে পারি। আসলে আপনাদের আর কী বলব, আমার ফেসবুক পোস্টের অডিয়েন্সের এক বিশাল অংশই মূলত এমন মানুষজন।
শুধু ফেসবুকে কেন, “বাঙালি মুসলিম” হিসেবে যারা পরিচিত, এদেরই এক বিরাট অংশের মধ্যে এই ধরণের চরিত্র আছে। বিভিন্ন মাহফিল বা সমাবেশে বিপুল পরিমাণে “তৌহিদি জনতা” দেখে যারা মনে করেন এই দেশে ইসলামের জাগরণ হয়ে গেছে, আমি তাদের দলে নেই। আমি জানি এই দেশে বহু মানুষ আছে যারা রাতভর ওয়াজ শোনে কিন্তু ফরয নামাজ তরক করে। শবে বরাতে সারা রাত নফল নামাজ পড়বে, হালুয়া খাবে, কিন্তু ফজরের নামাজটাই পড়বে না। মাথায় টুপি আর গালভর্তি দাড়ি নিয়ে অবলীলায় মিথ্যা কথা বলে ব্যবসা করবে, অথবা মানুষকে হয়রানী করে ঘুষ খাবে। এই রকম “তৌহিদি জনতা”য় এই দেশ ভরপুর। উপর থেকে “তৌহিদি” মনে হলেও বাস্তবে কয়জন “আসল তৌহিদি” সেটা একমাত্র আল্লাহ জানেন।
আহমদ ছফা যেমন ‘বাঙালি মুসলমানের মন’ নামে বই লিখেছেন, আমারও সেভাবে একটা বই লিখতে ইচ্ছা করেঃ “বাঙালি মুসলিমের (হিপোক্রিট) মন” এই নামে। কিন্তু আমি তো আর আহমদ ছফা না। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেক কাজ আমি করি না।
যতদিন পর্যন্ত এই রকম লোক দেখানো, অন্তঃসারশূন্য আর চিল্লাচিল্লি করে ঈমান জাহির করা মুসলিম দিয়ে এই উম্মাহ ভরপুর থাকবে, এই উম্মাহ পৃথিবীতে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। শুধু মাইর খেয়ে যাবে। আমি জানি, আমার এই পোস্টেও এই ক্যাটাগরির অনেক মানুষ এসে ক্ষোভ ব্যক্ত করবে। হয়তো গালিও দেবে। কিন্তু যেটা সত্য আমি সেটাই বলি, বলে যাবো।
দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ অর্জন করতে হলে এইসব কপটতা ছেড়ে আল্লাহকে ভয় করতে হবে, সত্যিকার অর্থে মুসলিম হতে হবে। কুরআন, হাদিস, সিরাত এগুলো অর্থসহ পড়তে হবে। দ্বীন জানতে হবে ও মানতে হবে।
