Friday, May 29, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরবাড়ছে আরাকান আর্মির তৎপরতা

বাড়ছে আরাকান আর্মির তৎপরতা

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)-এর তৎপরতা দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত দুই বছরে সীমান্তজুড়ে নজিরবিহীন সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও জেলেদের অপহরণের ঘটনায় পুরো এলাকা অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। এই সুযোগে আরাকান আর্মি চোরাই পথে
ইয়াবা পাঠিয়ে বাংলাদেশ থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে তারা সুবিধা নিচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর লাগাম টেনে ধরা এখন সময়ের দাবি।

সর্বশেষ গত শনিবার সকালে সাগর থেকে মাছ শিকার শেষে টেকনাফে ফেরার পথে শাহপরীর দ্বীপসংলগ্ন নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকায় তিনটি মাছ ধরার ট্রলারসহ ১৩ জন জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় আরাকান আর্মি। অপহৃত ট্রলারগুলোর মালিক হলেন- কালু ওরফে মলা হালু, মুস্তাফিজ ও মীর কাশিম।

অপহৃত জেলেদের মধ্যে রয়েছেন- মোস্তাফিজুর রহমান (৪০), ফরিদ হোসেন (৩০), রবিউল হাসান (১৭), কালাম (৩০), মো. হোসেন আহম্মদ (৩৮), মীর কাশেম আলী (৪০), গিয়াস উদ্দিন, সালাউদ্দিন (১৮), মহিউদ্দিন (২২), মলা কালু মিয়া (৫৫), আবু তাহের (৪০), আবদুল খালেক ও জাবের নয়া (২৪)। তারা সবাই টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত দুই বছরে আরাকান আর্মি অন্তত পাঁচ শতাধিক জেলেকে বিভিন্ন সময়ে অপহরণ করেছে। এর মধ্যে প্রায় তিন শতাধিক জেলে বিভিন্ন উদ্যোগে ফিরে এলেও এখনো প্রায় দুই শতাধিক জেলে তাদের হেফাজতে রয়েছে। সর্বশেষ গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ৭৩ জন জেলে মুক্তি পেয়ে দেশে ফেরেন।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমামুল হাফিজ নাদিম বলেন, জেলেদের অপহরণের বিষয়টি জানা গেছে। কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সীমান্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে জেলেদের দ্রুত ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা ইবনে আমিন জানান, প্রায় প্রতিনিয়তই জেলেদের অপহরণের ঘটনা ঘটছে। এতে জেলে পল্লীগুলোতে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। অপহৃতদের পরিবারের সদস্যরা চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ইউপি সদস্য আবদুস সালাম বলেন, আবারো তিনটি নৌকার ১৩ জেলেকে অপহরণের খবর পাওয়া গেছে। এ ধরনের ঘটনায় জেলেদের মধ্যে ভয়ভীতি বেড়ে গেছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

স্থানীয় জেলে ও সচেতন মহলের অভিযোগ, আরাকান আর্মির চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকা-ের কারণে দীর্ঘদিন ধরে টেকনাফ স্থলবন্দর কার্যত বন্ধ রয়েছে। এতে সরকার যেমন কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ হয়ে টেকনাফ-উখিয়ার অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছে। তাদের দাবি, অতীতে বিএনপি সরকারের সময় মিয়ানমারের সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী বৈধ বাণিজ্য পুনরায় চালু করতে দ্রুত টেকনাফ স্থলবন্দর সচল করা জরুরি। একই সঙ্গে সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করে চোরাচালান বন্ধ এবং জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও জোর দাবি জানিয়েছেন তারা। সচেতন মহল মনে করে, বর্তমান সরকারের উচিত দ্রুত কূটনৈতিক ও নিরাপত্তামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করে সীমান্তে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং আরাকান আর্মির তৎপরতা কঠোরভাবে দমন করা। এতে একদিকে যেমন জেলেদের জীবন ও জীবিকা সুরক্ষিত হবে, অন্যদিকে সীমান্ত অর্থনীতিও আবার সচল হয়ে উঠবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

seventeen + seven =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য