বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সমস্যা দীর্ঘদিনের। কোনোভাবেই এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারছে না সরকার। বছরের পর বছর টানা ভর্তুকি দিয়ে আসছে। কিন্তু এতে কি লাভ হয়েছে? নতুন করে আরো ভর্তুকি দেশের জনগণের স্বার্থ আসলে কতটা সংরক্ষণ করবে?
ভর্তুকির অর্থ সরকার কিভাবে পরিশোধ করবে? এখনই ভর্তুকির অর্থ বছরের পর বছর বকেয়া টানতে হচ্ছে।
ভর্তুকি বাড়িয়ে বাজেটে ব্যয়ের বোঝা বাড়ালে সরকারকে আরো ঋণের চাপে পড়তে হবে।
বৈশ্বিক ঋণদাতা সংস্থা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সংকট থেকে ঘুরে দাঁড়াতে বেশ কিছু সংস্কারের পরামর্শ দিয়েছে। আইএমএফ বাস্তবমুখী পরামর্শ দিলেও আমরা তা কার্যকর করতে পারছি না। উল্টো ভর্তুকি বাড়িয়ে তুলছি।
এটা হিতে বিপরীত হতে পারে। এ জন্য ভর্তুকি ব্যয় পুনর্মূল্যায়ন করে কমিয়ে আনতে হবে।
ভর্তুকির বকেয়া পরিশোধ করতে হচ্ছে বন্ডের মাধ্যমে। এই বন্ডের বিপরীতে এত দিন অর্থ ছাপিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এখন বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষণা দিয়েছে, বন্ডের বিপরীতে নতুন করে আর অর্থ ছাড় করবে না। ফলে ঋণ করে দিলে ভর্তুকি পরিশোধে আরো সুদের চাপে পড়তে হবে। এসব বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমিয়ে আনতে আগে থেকেই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎকেন্দ্র বসিয়ে রেখে ক্যাপাসিটি চার্জ না দেওয়া, সরকারের পরিচালন ব্যয় সংকোচন করা ও অন্যান্য ব্যয় হ্রাসের মাধ্যমে ভর্তুকি কমাতে পারে সরকার। মূল্য সমন্বয় করেও ভর্তুকি তুলে দেওয়ার উদ্যোগ কাযর্করভাবে বাস্তবায়ন করা উচিত।
কৃষিতে ভর্তুকি দিতে হবে। কৃষক যেন ঝুঁকিতে না পড়ে সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। কৃষিপণ্যের উৎপাদন কোনোভাবে যেন ব্যাহত না হয়। এ জন্য কৃষিতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখতে হবে।
খাদ্য ভর্তুকির ক্ষেত্রে খোলাবাজারে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য বিক্রি অব্যাহত থাকতে পারে। এটি বাজারে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে। এতে কম আয়ের মানুষের কিছুটা স্বস্তি মেলে। তবে সরকারি কর্মকর্তাদের রেশনিং কার্যক্রমের জন্য ভর্তুকি দেওয়া কতটা যৌক্তিক তা ভালোভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। এমন কিছু ক্ষেত্রে ব্যয় সংকোচনের সুযোগ থাকলে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণের পর আরো তিন বছর বাজার সুযোগ থাকবে। এই সময়কে কাজে লাগাতে বিদ্যমান কিছু খাতে কমালেও নতুন কিছু খাতে রপ্তানি প্রণোদনা সুবিধা দিয়ে রপ্তানি বহুমুখীকরণে জোর দেওয়া উচিত।
সার্বিকভাবে বললে, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকারের ভর্তুকি ও প্রণোদনা কমিয়ে ব্যয় হ্রাস করা দরকার। যেসব খাতে না দিলেই নয়, সেখানে দিতে হবে। ব্যয় পরিশোধে ঋণের বোঝা না বাড়িয়ে সরকার পরিচালন ব্যয় ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির ব্যয় আরো কমিয়ে আনার দিকে নজর দিতে পারে। মূল্যস্ফীতির বছরে প্রবৃদ্ধির চিন্তা করলে তা মূল্যস্ফীতি আরো বাড়িয়ে দেবে।
লেখক : বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র্যাপিড) চেয়ারম্যান
