বাইতুল্লাহ’র প্রেম প্রতিটি মুমিনের শিরায় শিরায় যে ভূমিতে প্রথম ওহী নাযিল হয়েছিল, যেখানে রাসূলুল্লাহ ﷺ চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন — সেই বিলাদুল হারামাইনকে ভালোবাসেনা এমন মুমিন কে হতে পারে! কিন্তু এই ভালোবাসা অন্ধত্বের লাইসেন্স নয় হারামাইন এক কথা, সৌদি রাজতন্ত্র সম্পূর্ণ আরেক কথা
Love the land, expose the rulers, these are not mutually exclusive
১. প্রথম গাদ্দারি
১৯১৬ সালে শরিফ হুসাইন ব্রিটিশদের হাত ধরে উসমানী খিলাফতের বিরুদ্ধে আরব রিভল্ট পরিচালনা করে ইসলামি খিলাফাতের শেষ কাঠামো ভেঙ্গে দেয়ার পেছনে ছিল শাসক গোষ্ঠী ইবনে সাউদও পিছিয়ে নেই, ১৯১৫ সালের ‘Treaty of Darin’ এ ব্রিটিশ প্রটেক্টোরেট মেনে নিয়ে তারা ক্ষমতার সিঁড়ি বেয়ে ওঠে ঐতিহাসিক ডেভিড ফ্রমকিন এর মতে, “আরব নেতারা ব্রিটিশ স্বার্থে ইসলামি ঐক্যের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকেছিলেন”¹ রাষ্ট্র সৌদি’র পাপের শুরু সেই দিন থেকেই
The last Caliphate wasn’t destroyed by the West alone — it was handed over
২. ক্ষমতার চুক্তিতে পেট্রোডলারের দাসত্ব
১৯৭৪ সালে কিসিঞ্জার-সৌদি গোপন চুক্তিতে সিদ্ধান্ত হয় সৌদির তেল কেবলমাত্র ডলারেই বিক্রি হবে উইলিয়াম ক্লার্ক এর মতে, এই একটি চুক্তি মার্কিন সামরিক সাম্রাজ্যবাদের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড হয়ে দাঁড়ায়² সৌদি আরব তেল বেচে ডলার পায়, সেই ডলারে মার্কিন অস্ত্র কেনে, এই চক্রেই ডলার হেজেমনি গড়ে ওঠে সাদ্দাম এই হেজেমনি ভাংতে চেয়েছিল, সে ইউরোতে তেল বেচতে চেয়েছিল- পরিণামে ইরাক ধ্বংস হলো গাদ্দাফি গোল্ড দিনারের বাস্তবায়ন চেয়েছিল— তাকে রাস্তায় হত্যা করা হয় ২০১৭ সালে ট্রাম্পের সাথে ১১০ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তি সই করে সৌদি প্রমাণ করে দিল- সেই এই ডলার হেজেমনির সবচেয়ে বিশ্বস্ত গ্যারান্টার³
৩. ইয়েমেন উম্মাহর রক্তে সৌদির হাত!
UN OCHA,(২০২১) এর রিপোর্ট বলছে- ইয়েমেনে ৩ লাখ ৭৭ হাজারেরও বেশি নিহত, যাদের ৬০% সৌদি পরিচালিত যুদ্ধে বিধ্বস্ত দেশটির অমানবিক পরিস্থিতির কারণে⁴ UNICEF এর মতে, ইয়েমেনে প্রতি ১০ মিনিটে একটি শিশু মারা যায়⁵ Yemen Data Project দেখায় — ২৫,০০০-এরও বেশি এয়ারস্ট্রাইক, যার এক-তৃতীয়াংশই হাসপাতাল, স্কুল আর বাজারে⁸ HRW এবং Amnesty এগুলোকে “war crimes” বলে নথিভুক্ত করেছে⁹ সৌদি’র ক্রয়কৃত অ্যামেরিকান বোম্ব গুলো সবচেয়ে বেশী বিস্ফোরিত হয় ইয়েমেনের মাটিতে
With the money of Muslims, bombing Muslims with American bombs, and calling it “regional security”
৪. ‘স্মার্ট সৌদি’ – হারাম কী তাদের জন্য হালাল?
৩৫ বছরের নিষেধাজ্ঞার পর সৌদিতে সিনেমা হল খুলে দেয়া হল¹⁰, উলঙ্গ প্রায় পুরুষরা রেসলিং করল, আবেগে উন্মত্ত হল সৌদি নারী, পুরুষ!¹¹, মারিয়া ক্যারির কনসার্ট হল¹², BTS হল পর্যটন অ্যাম্বাসেডর¹³, মদের অনুমোদিত স্পেস করে দেয়া হল¹⁴, হিজাবের বাধ্যবাধকতা উঠে গেল¹⁵ এসব কিছুই করা হল সংস্কারের নামে আসুন দেখে নেয়া যাক রাসূলুল্লাহ ﷺ কি বলেছেন- “আমার উম্মতের মধ্যে এমন লোক আসবে যারা মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল মনে করবে” এটি স্রেফ কোন ভবিষ্যদ্বাণী নয়, এটাই এখন সৌদি’র সরকারি নীতিমালা
৫. আলেমদের কারাগারে নিক্ষেপ
অপরদিকে যেসব বিদগ্ধ আলেম সৌদি শাসকের এহেন নির্লজ্জ বেহায়াপনার বিরোধিতা করেছেন, জনগণকে সচেতন করতে চেয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধেই সৌদি শাসক কঠোর হয়েছে রাষ্ট্র, সালমান আল-আওদা’র মৃত্যুদণ্ডের দাবি করেছে¹⁶, সাফর আল হাওয়ালি তিন পুত্রসহ গ্রেফতার হয়েছেন¹⁷, আল কারনি ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলায় রাষ্ট্রপক্ষ মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে¹⁸, আব্দুল্লাহ আল হামিদ কারাগারে মৃত্যু বরণ করেছেন¹⁹, মুহাম্মাদ আল গামেদিকে কয়েকটি টুইটের জন্য মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে²⁰ – এসব কিছুই সৌদি রাজপরিবারের বিদগ্ধ, প্রসিদ্ধ উলামাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের সামান্য নমুনা মাত্র
The regime that guards the Kaaba — kills the scholars who guard the Quran
৬. ইমামুল হারামাইনের মুখে অ্যামেরিকা বন্দনা!
২০১৭ সালে মসজিদুল হারামের প্রধান ইমাম সুদাইস বলে বসলেন — “Thank God, the United States and Saudi Arabia are steering the world” এবং বিন সালমান ও ট্রাম্পের জন্য দোয়া করলেন “May God let them succeed”²² এই সেই আমেরিকা, যে আফগানিস্তানে ২ লাখেরও বেশি নিরীহ মুসলিম হত্যা করেছে²³, ইরাকে ১৫ লাখ মৃত্যুর জন্য দায়ী²⁴
‘May god let them succeed…’ – this is the Imam of Kaaba!
৭. মার্কিন ঘাঁটি কুরআনের জমিনে কাফেরদের দখলদারি
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন — “আরব উপদ্বীপ থেকে মুশরিকদের বের করে দাও” অথচ সেই পবিত্র ভূমিতে আজ দাঁড়িয়ে আছে ১টি নয়, ২টি নয়- ৫টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি Prince Sultan Air Base (আল-খার্জ — ২,৩০০+ মার্কিন সেনা, B-1B বোমারু ও F-22 মোতায়েন), Eskan Village Air Base (রিয়াদ), King Abdulaziz Air Base (ধাহরান — Gulf War থেকে সক্রিয়), King Faisal Air Base (তাবুক) এবং Riyadh Air Base (রিয়াদ — লজিস্টিক্স কেন্দ্র)²¹
Congressional Research Service নিশ্চিত করেছে — ১৯৯১ থেকে এই ঘাঁটিগুলো থেকেই ইরাক, আফগানিস্তান ও সিরিয়ায় মার্কিন অভিযান পরিচালিত হয়েছে²¹ লক্ষ লক্ষ মুসলিম হত্যা করতে এই ঘাঁটি গুলোই ব্যাবহার করা হয়েছে
৮. সৌদি-ইসরায়েল গোপন রসায়ন!
ফ্রিইডম্যান নিউ ইয়োর্ক টাইমস উল্লেখ করেছে- সৌদি ইসরায়েল চুক্তি ৭ অক্টোবরের আগেই চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল²⁶ রাশিদ খালিদি এর মতে, “এই নরমালাইজেশন ফিলিস্তিনিদের সাথে ঐতিহাসিক বিশ্বাসঘাতকতা”²⁷ গাজার গণহত্যায় সৌদির নীরবতা কোনো নিরপেক্ষতা নয়, এটা ষড়যন্ত্রের নীরবতা
৯. মাদখালি রাজতন্ত্রের ধর্মীয় ব্যান্ড পার্টি
মাদখালি মতবাদের সারকথা হচ্ছে শাসকের সমালোচনা হারাম, আনুগত্য সর্বদা ওয়াজিব আর এই আনুগত্য হচ্ছে সৌদি রাজ পরিবারের কাছে Wiktorowicz, Global Salafism এ আলোচনা করেছে- এটি রাজনৈতিক প্রতিবাদ দমনের সুচতুর ধর্মীয় হাতিয়ার²⁸
ইয়েমেনে বোমা পড়ছে, মাদখালি নীরব আলেম হত্যা হচ্ছে, মাদখালি নীরব মার্কিন ঘাঁটি হারামাইনের মাটিতে, মাদখালি নীরব মদের লাইসেন্স হয়ে যাচ্ছে, মাদখালি নীরব অথচ কেউ শাসকের সমালোচনা করলে সঙ্গে সঙ্গে ফতোয়া হাজির
Madkhalism isn’t scholarship It’s state-sponsored intellectual sedation
১০. বর্তমান যুদ্ধ দায় কার?
পেন্টাগন স্বীকার করেছে — সৌদি ঘাঁটি মার্কিন কৌশলের জন্য “irreplaceable asset”²⁹ লিন্ডসে গ্র্যাহাম স্বীকার করেছে — “Without Saudi Arabia, U S military operations in the Middle East would be impossible”³⁰ বল্টোন তার মেমোয়ারে লিখেছে — সৌদি ঘাঁটি ছাড়া ইরান নীতি বাস্তবায়নই সম্ভব হতো না³¹
লক্ষ্য করুন, আন্তর্জাতিক যুদ্ধ আইন অনুযায়ী — যে দেশ নিজের মাটিতে আক্রমণকারীকে ঘাঁটি দেয়, সে নিজেও যুদ্ধের অংশীদার হয়ে যায় এরপর কান্নাকাটির কোনো নৈতিক ভিত্তি থাকে না
When war breaks out, crying doesn’t undo decades of collaboration
মধ্যপ্রাচ্যের সমস্ত অস্থিরতার সাথে সৌদি রাজতন্ত্রের complicity আছে, এটি দাবী নয় এটি বাস্তবতা এটি আমাদের দাবী নয়, সৌদি’র বন্ধু অ্যামেরিকার স্বীকারোক্তি
উপসংহার
বাইতুল্লাহ আমাদের হারামাইন আমাদের কিন্তু আল-সাউদ পরিবার উম্মাহ’র কিছু নয় তারা ডলারের, পেন্টাগনের, তেল আবিবের এর অংশীদার মাদখালিরা সেই গাদ্দারির ধর্মীয় ঠিকাদার আমরা হারামাইনকে ভালোবাসি বলেই এই সত্য বলা আমাদের জন্য জরুরী — কারণ চুপ থাকা মানে অপরাধে অংশীদার হওয়া
Custodians of the holy land but servants of the American empire The ummah deserves better
