Tuesday, April 21, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরবেক্সিমকোর ১৫ কারখানা বন্ধের নেপথ্যে কার স্বার্থ?

বেক্সিমকোর ১৫ কারখানা বন্ধের নেপথ্যে কার স্বার্থ?

কারাবন্দী সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন গাজীপুরে বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের ১৬টি পোশাক কারখানা ৪৫ দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে প্রায় ৪০ হাজার কর্মী বেকার হয়ে পড়েছেন। শ্রম আইন অনুযায়ী জানুয়ারি পর্যন্ত এসব শ্রমিককে সুবিধা দেবে বেক্সিমকো। প্রয়োজনীয় এলসি সুবিধা না পাওয়া এবং রপ্তানি আদেশ না থাকায় এসব কারখানা বন্ধ করা হয়েছে বলে বেক্সিমকো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বেক্সিমকোর বন্ধ হওয়া কারখানার শ্রমিকদের বেতন পরিশোদের জন্য সরকার থেকে অর্থ দেয়া হবে। হঠাৎ করে এতোগুলো কারাখানা বন্ধ এবং ৪০ হাজার শ্রমিক বেকার হওয়ায় নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এতোগুলো কারখানা এভাবে বন্ধ করে দেয়া কোনো ভাবেই উচিত নয়। কারণ বেকার ৪০ হাজার শ্রমিক যাবে কোথায়? সোস্যাল মিডিয়ায় এ নিয়ে বিতর্ক চলছে।

কেউ বলছেন, গত শতকের নব্বই দশনে আদমজী জুট মিল বন্ধ করে দেয়ার পর ভারতে কয়েকটি নুতন পাটকল স্থাপন করা হয়। তেমনি বাংলাদেশের গার্মেন্টস সেক্টরের এতোগুলো কারখানা বন্ধ করে দেয়ার নেপথ্যের রহস্য কি? কেউ লিখেছেন, কারাবন্দী সালমান এফ রহমানের কারখানায় সরকারি প্রশাসক বসিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো চালু রাখা উচিত ছিল। কেউ লিখেছেন, কারখানা বন্ধের আগে পরিকল্পনা করতে হয় এবং শ্রমিকদের অন্যত্র কাজ খুঁজে নেয়ার সুযোগ দেয়া প্রয়োজন ছিল। কেউ লিখেছেন, ভারতের ইন্দনে এতোগুলো কারখানা বন্ধ করার বার্তা বিদেশী বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে নিরুস্বাহিত করবে। জানা যায়, বেক্সিমকোসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে প্রশাসন নিয়োগ করে সরকার ওই সব প্রতিষ্ঠান চালু রেখেছিল। সিদ্ধান্তটি প্রশংসিত হয়েছিল। কারণ প্রতিষ্ঠান যারই হোক তা চালু করে উৎপাদন অব্যহত রাখা উচিত। সেগুলো বন্ধ করে দিলে একদিকে শ্রমিকরা বেকার হয়ে যাবে অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস হয়ে যাবে। উপদেষ্টাদের উদ্দেশ্য করে সোস্যাল মিডিয়ায় সোহেল কবির নামে একজন নেটিজেন লিখেছেন, ‘মাননীয় স্যারদের বলছি, কেউ অন্যায় করে থাকলে তার বিচার করুন। কিন্তু এভাবে একটা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে পারেন না। আপনারা সব উপদেষ্টা মিলে বাকি জীবনে বেক্সিমকোর মতো একটা কারখানা তৈরি করে দেখাইয়ের জাতিকে’।

https://reachableads-av.s3.ap-southeast-1.amazonaws.com/inqilab_tag/index.html

জানা যায়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় শ্রমিক ছাঁটাইয়ের পরামর্শ দিয়েছিল। কারণ সরকার অনির্দিষ্টকালের জন্য নগদ সহায়তা দিতে পারছে না। বাধ্য হয়ে গত ১৫ ডিসেম্বর জারি করা বিজ্ঞাপ্তিতে বেক্সিমকো গ্রুপের এসব কারখানার সব কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের ১৬ ডিসেম্বর থেকে ছাঁটাই কার্যকরের কথা জানানো হয়। এতে আরো বলা হয়, ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের কারখানায় রিপোর্ট করার প্রয়োজন নেই। আগামী ৩০ জানুয়ারি আবার কারখানা খোলার সম্ভাব্য তারিখ পর্যন্ত সব ধরনের উৎপাদন কাজ বন্ধ থাকবে।

বন্ধ করে দেয়া কারখানাগুলোর মধ্যে আছে শাইনপুকুর গার্মেন্টস, আরবান ফ্যাশনস, ইয়েলো অ্যাপারেলস, প্রিফিক্স ফ্যাশনস, আরআর ওয়াশিং, বেক্সিমকো ফ্যাশনস, বেক্সিমকো গার্মেন্টস, নিউ ঢাকা ইন্ডাস্ট্রিজ, ইন্টারন্যাশনাল নিটওয়্যার অ্যান্ড অ্যাপারেলস, এসেস ফ্যাশনস, এসকর্প অ্যাপারেলস, ক্রিসেন্ট ফ্যাশন অ্যান্ড ডিজাইন ও ক্রিসেন্ট এক্সেসরিজ লিমিটেড। তবে বেক্সিমকোর ওষুধ ও সিরামিকস কারখানায় উৎপাদন চলমান থাকবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

বেক্সিমকোর অর্থ ও কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স বিভাগের পরিচালক ওসমান কায়সার চৌধুরী বলেন, কাঁচামাল আমদানির জন্য এলসি খুলতে না পারায় উৎপাদন চালানো যাচ্ছে না। তিনি আরো বলেন, ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকরা গত নভেম্বরে পুরো বেতন পেয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

one × two =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য