বেক্সিমকোর ১৬টি কারখানা খুলে দেয়ার দাবিতে গাজীপুর মহানগরের সারাবো এলাকায় চন্দ্রা-নবীনগর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার অবরোধে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েন ওই পথে চলাচলকারীরা।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, বেক্সিমকো ইন্ডস্ট্রিয়াল পার্কের বন্ধ ঘোষণা করা কারখানাগুলো খুলে দেয়ার দাবিতে গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে চন্দ্রা-নবীনগর সড়কের চক্রবর্তী এলাকায় অবস্থান নিয়ে শ্রমিকরা বিক্ষোভ-আন্দোলন শুরু করেন। পরে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে তারা সড়ক অবরোধ শুরু করেন। এক পর্যায়ে তাদের বুঝিয়ে বেলা ১টার দিকে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়া হয়।
কারখানার শ্রমিকরা জানায়, কারখানাগুলোতে ৩০-৪০ হাজার শ্রমিক কাজ করে। মালিকের সমস্যার জন্য বিভিন্ন অজুহাতে কারখানাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এখন হাজার হাজার শ্রমিকদের পরিবার কিভাবে চলবে। তাই তাদের এক দফা এক দাবি বন্ধ হওয়া সবগুলো কারখানা খুলে দিতে হবে। শিল্প পুলিশ জানায়, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চন্দ্রা-নবীনগর সড়কের জিরানী ও চক্রবর্তী এলাকায় কাঠের গুড়ি ফেলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে শ্রমিকরা। এছাড়া আশপাশ থেকে ময়লা আবর্জনা এনে সড়কে ফেলে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয় তারা। এতে ওই সড়কের উভয় দিকে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজটের। বাসের যাত্রীরা রিকশা ও অটোরিকশা নিয়ে গন্তব্যে যাতায়াত শুরু করেন। খবর পেয়ে গাজীপুর শিল্প পুলিশ, কাশিমপুর থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে ঢাকামুখী উত্তরবঙ্গের দূরপাল্লার যানবাহনগুলো ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুর এলাকা ও কালিয়াকৈর-ধামরাই আঞ্চলিক সড়ক ব্যবহার করে যোগাযোগ স্বাভাবিক করা হয়।
শিল্প পুলিশ ও কারখানার শ্রমিকরা আরো জানায়, একই দাবিতে গত বৃহস্পতিবারও একই এলাকায় কয়েক হাজার শ্রমিক বিক্ষোভ করেছিল। সেদিন দুপুর থেকে বিক্ষোভ শুরু করে সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে। খবর পেয়ে সেনাসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরে গিয়ে কারখানার সামনে অবস্থান নিতে বলেন।
বার বার বলার পরও শ্রমিকরা সরে না গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর ক্ষিপ্ত হয়। এক পর্যায়ে কিছু উশৃঙ্খল শ্রমিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। পরে সন্ধ্যায় তাদের ধাওয়া করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শিল্পাঞ্চল পুলিশের সুপার মিজানুর রহমান বলেন, কারখানা খোলার দাবিতে একদিন বিরতি দিয়ে শনিবার সকাল থেকে ফের বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকরা। পরে দুপুরে তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।
