Sunday, May 31, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদাওয়াআওয়াজবোরকা খুললে স্বাধীন সিদ্ধান্ত, বোরকা পরলে মগজধোলাই কেন?

বোরকা খুললে স্বাধীন সিদ্ধান্ত, বোরকা পরলে মগজধোলাই কেন?

কেউ বোরকা খুলে ফেললে সেটা হয়ে যায় স্বাধীন সিদ্ধান্ত। কেউ বোরকা পরে নিলে সেটা হয় যায় মগজধোলাই।— এমনটা কেন?

হলে দুটোই স্বাধীন সিদ্ধান্ত হবে, নাহলে দুটোই মগজধোলাই। বিকিনি বা শর্টস পরাও তো মগজধোলাই হওয়া উচিত।

মানুষ সামাজিক জীব, মানুষ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় বহুকিছু থেকে প্রভাবিত হতে পারে। পরিবার থেকে, বইপুস্তক থেকে,স্কুলকলেজ থেকে, মুভি থেকে বা মিডিয়া থেকে। আদর্শ মুক্তচিন্তা বা স্বাধীন সিদ্ধান্ত এইজন্য অসম্ভব।

যে মেয়েটা বোরকা খুলে ফেললো সে কেন এমনটা করলো?— কারণ সে এটাকে ‘পশ্চাৎপদতা’ বলে ভাবতে শুরু করেছে, আর এই ভাবনা কে নির্মাণ করলো? পরিবেশ, সমাজ বা মিডিয়া। কারণ মিডিয়া সবসময়ই বোরকাকে ‘পশ্চাৎপদতা’ ও ‘দাসত্ব’ হিসেবে চিত্রিত করেছে। তাহলে বোরকা খুলে ফেলা কি আসলেই স্বাধীন সিদ্ধান্ত?— মোটেও না, এটাও মগজধোলাই। মিডিয়া নির্মিত সিদ্ধান্ত।

বহুজন বলে তারা বিকিনি কিংবা শর্টস পরছে এটা তাদের চয়েজ বা স্বাধীন সিদ্ধান্ত।— আসলেই কি তাই? মোটেওনা।

মিডিয়া, বিশেষ করে মুভি, টিভি সিরিজ ও বিজ্ঞাপন একটি নির্দিষ্ট Ideal নারীচিত্র ও বয়ান বারবার তুলে ধরে— যেমন: ‘শরীর তোমার সিদ্ধান্ত তোমার’, ‘নিজের ইচ্ছায় পোশাক পরো’,’বিকিনি হলো সাহসী পোশাক’ ইত্যাদি।

মিডিয়ার এসব বক্তব্য বারবার শুনে নারীরা প্রভাবিত হয়,তারা ভাবতে শুরু করে—

‘আসলেই তো! আমার শরীর আমার সিদ্ধান্ত। যা খুশি পরবো। মাই চয়েজ।’— অথচ বাস্তবতা হলো, এই ‘চয়েজ’টি বহু বছর ধরে মিডিয়া ও কর্পোরেট ব্র্যান্ডগুলোর তৈরি করা আর সেগুলো নারীদের মাথায় ঢোকানো হয়েছে। ব্রেনওয়াশ।

আসলে কর্পোরেট ব্র্যান্ডগুলো ও ফ্যাসান ইন্ডাস্ট্রি একধরনের বিউটি স্ট্যান্ডার্ড গড়ে তোলে আর নারীরাও সেটাকে ফলো করার চেষ্টা করে। ঐ স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়। যেমন সমুদ্রে গেলে বিকিনি পরে স্নান করা, বিভিন্নরকম শর্টস পোশাক পরা, স্লিম থাকা ও আকর্ষণীয় হওয়ার জন্য বিভিন্ন সার্জারি করা।

মোটকথা আধুনিক নারীরা যেগুলোকে তাদের ‘স্বাধীন সিদ্ধান্ত’ বা ‘চয়েজ’ বলে মনে করছে সেগুলো মোটেও স্বাধীন সিদ্ধান্ত ও চয়েজ নয়, এগুলো মূলত নির্মিত সিদ্ধান্ত যা গড়ে তুলেছে ফ্যাসান ইন্ডাস্ট্রি ও মিডিয়া।

ফ্যাসান ইন্ডাস্ট্রি বা মিডিয়া কীভাবে নারীদের সিদ্ধান্তকে কন্ট্রোল করে কয়েকটা উদাহরণ দেখি—

[1] বিশ শতকের শুরুতে পশ্চিমা সমাজে নারীদেহে বগলের লোম ছিল স্বাভাবিক। অশোভন বলে ভাবা হতো না। Gillette 1915 সালে Milady Décolleté নামে প্রথম নারী রেজার বাজারে আনে ।

১৯১৫ সালেই , হার্পার’স বাজার নামক ম্যাগাজিন নারীদের বগলের নীচের লোম অপসারণের জন্য প্রচারণা চালায়, বিভিন্ন পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া শুরু হয়: ‘নারী যদি আধুনিক হতে চায়, তবে বগলের লোম কাটা উচিত।’ এর ফলে নারীদের মধ্যে হিড়িক পড়ে যায় বগলের লোম সাফ করার। এটাকেই তারা বিউটি স্ট্যান্ডার্ড ধরে নেয়। এরফলে দেখা যায় ১৯৬৪ সালের মধ্যে, ১৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সী ৯৮% আমেরিকান মহিলা এধরণের লোম কামিয়ে ফেলেন।

[2] ১৯৪৬ সালে ফ্রান্সে প্রথম বিকিনি তৈরি হয়।

তখন এটাকে অশ্লীল মনে করা হতো। প্রথমে অনেক মডেলই বিকিনি পরে ফটোশুট করতে রাজি হননি। তখন একজন নগ্ন নৃত্যশিল্পী দিয়ে সেটাকে প্রথম প্রদর্শন করানো হয়, এরপর ১৯৬০–৭০-এর দিকে হলিউড, ম্যাগাজিন, এবং টিভি সিরিজের মাধ্যমে বিকিনিকে যৌনতা ও স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে “Glamorize” করা হয়। নারীরা বিকিনিকে এখন স্বাধীনতার প্রতীক বলে মনে করে যেটাকে আগে ঘৃণা করতো।

[3] ১৯২০-এর দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ধুমপান ছিল শুধুই পুরুষদের জন্য স্বাভাবিক, নারীদের ধুমপান করা জঘন্য হিসেবে দেখা হতো। তখন Lucky Strike কোম্পানি বিশাল এক বিজ্ঞাপন ক্যাম্পেইন চালায়:

‘ধুমপান হলো নারী-স্বাধীনতার টর্চলাইট।’

ফলে ধীরে ধীরে নারীদের ধূমপান হয়ে ওঠে একপ্রকার নারী স্বাধীনতার অংশ।

২০১০ সালে গার্ল স্কাউটস ১৩-১৭ বছর বয়সী ১০০ জন মেয়ের উপর একটি অনলাইন জরিপ পরিচালনা করে। তারা যা দেখেছে তা হল, ১০ জনের মধ্যে ৯ জন মেয়ে ফ্যাশন এবং মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রি থেকে রোগা হওয়ার চাপ অনুভব করে। আর এই চাপের জন্য বহুজন রোগা হতে গিয়ে ও সার্জারি করতে গিয়ে প্রাণও হারিয়েছে।

তাহলে আজকের নারীরা যখন বলেন, ‘আমি শর্টস পরি কারণ এটা আমার শরীর, আমার পছন্দ,’ বা ‘বিকিনি আমার অধিকার’, তখন প্রশ্ন ওঠে— এই পছন্দ কি নারীর নিজের? নাকি এটি দীর্ঘ সময় ধরে মিডিয়া ও ফ্যাসান ইন্ডাস্ট্রির তৈরি করে দেওয়া পছন্দ বা সিদ্ধান্ত যেটাকে নারীরা তাদের পছন্দ বলে মনে করছে!

— খাইরুল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

17 + sixteen =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য