রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে গত শনিবার সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। অন্তত কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হওয়া ওই ভূমিকম্পে রাজধানীতে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে ঘরের বাইরে বেরিয়ে আসে। ভূমিকম্পটি ৫ দশমিক ২ মাত্রার ছিল।
ভূ-পৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার। রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৫.৫। চলতি বছরেই মোট ১০টি ভূমিকম্প দেখেছে দেশ। প্রথম ভূমিকম্প অনুভূত হয় ১৬ ফেব্রুয়ারি।
এখন আমাদের মনে কৌতূহল জাগতে পারে এসব ভূমিকম্প কেন হয়? কুরআন ও সুন্নাহর বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, এগুলোর উদ্দেশ্য হলো- মানবজাতিকে সতর্ক করা, যাতে তারা অন্যায় ও পাপকাজ বর্জন করে। নিজেদের শুধরে নেয়। আল্লাহর প্রতি ধাবিত হয়। আপন কৃতকর্মে অনুতপ্ত হয়ে তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে। আল্লাহর কাছে কাকুতি-মিনতি করে। এসব ছোটখাটো ঘটনা প্রত্যক্ষ করে মহাপ্রলয়ঙ্করী কিয়ামতের কথা স্মরণ করে।
এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন- ‘এখনো কি এই জনপদের অধিবাসীরা এ ব্যাপারে নিশ্চিন্ত যে, আমার আজাব তাদের ওপর রাতের বেলায় এসে পড়বে না অথচ তখন তারা থাকবে ঘুমে অচেতন।’ (সূরা আল-আরাফ-৯৭)
‘তারা কি আল্লাহর পাকড়াওয়ের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হয়ে গেছে? বস্তুত আল্লাহর পাকড়াও থেকে তারাই নিশ্চিন্ত হতে পারে, যাদের ধ্বংস ঘনিয়ে আসে।’ (সূরা আল-আরাফ-৯৯)
সুতরাং সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের ভেতরও নিজ আমল সম্পর্কে মানুষের গাফেল থাকা উচিত নয়; বরং সর্বদা আত্মসংশোধনে যতœবান থাকা চাই। অন্তরে এই ভীতি জাগরূক রাখা চাই যে, সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হলে এই সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য আমার জন্য আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে প্রদত্ত সুযোগও অবসান হতে পারে।
মহান আল্লাহ তায়ালা আরো ইরশাদ করেন- ‘যে বিপদ-আপদই তোমাদের ওপর আসুক না কেন, তা হচ্ছে তোমাদের নিজেদের হাতের উপার্জন।’ (সূরা আশ-শূরা-৩০)
বস্তুত সমাজে যখন অন্যায়-পাপাচার, জুলুম-নির্যাতন বেড়ে যায়। মানুষ বেপরোয়া হয়ে যায়। আল্লাহর সীমারেখা লঙ্ঘন করে। বান্দার হক নষ্ট করে। তখনই আল্লাহ তায়ালা ভূমিকম্পসহ প্রাকৃতিক বিভিন্ন দুর্যোগ দিয়ে থাকেন।
এ প্রসঙ্গে মহানবী সা: এক দীর্ঘ হাদিসে ইরশাদ করেন- ১. যখন গনিমতের মাল ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত হবে; ২. আমানতের খেয়ানত করা হবে; ৩. জাকাত আদায়কে জরিমানা মনে করা হবে; ৪. দুনিয়ার স্বার্থের জন্য ধর্মীয় শিক্ষা অর্জন করা হবে; ৫. পুরুষ স্ত্রীর অনুগত হয়ে মায়ের সাথে বিরূপ আচরণ করবে; ৬. বন্ধু-বান্ধবের সাথে সদ্ব্যবহার করবে, আর পিতার সাথে করবে দুর্ব্যবহার; ৭. মসজিদে উচ্চৈঃস্বরে শোরগোল (কথাবার্তা) হবে; ৮. পাপাচারী সমাজের নেতা হবে; ৯. নিম্নশ্রেণীর লোকেরা দেশের শাসক হবে; ১০. ব্যক্তিকে সম্মান করা হবে তার অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য; ১১. গায়িকা ও বাদ্যযন্ত্রের সয়লাব হবে; ১২. প্রকাশ্যে মদ পান করা হবে; ১৩. পূর্ববর্তী উম্মতদের (সাহাবা, তাবেইন-তাবে তাবেইন) প্রতি অভিসম্পাত করা হবে… ওই সময় তোমরা রক্তিম বর্ণের ঝড়ের (এসিড বৃষ্টি), ভূকম্পনের, ভূমিধসের, রূপ বিকৃতির (লিঙ্গ পরিবর্তন), পাথর বৃষ্টি প্রভৃতির জন্য অপেক্ষা করো। একের পর এক বালা-মুসিবতের অপেক্ষা করো যেমন মুক্তার দানা ছিঁড়ে ফেলা হলে তার দানাগুলো একের পর এক পড়ে যায়।’ (সুনানে তিরমিজি)
তাই ভূমিকম্পসহ সব প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাঁচতে হলে আমাদের পাপ বর্জন করতে হবে। অন্যায়ের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। দান-সদকার প্রতি অগ্রসর হতে হবে।
