হঠাৎই অস্থির হয়ে উঠেছে পেঁয়াজের দাম। প্রতি কেজির দাম এখন ৬০ টাকা ছুঁয়েছে। গেল এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ১২ টাকা পর্যন্ত। পেঁয়াজের অস্থিরতা থামাতে এখনই ভারতের বিকল্প উৎসে মনযোগী হওয়ার পরামর্শ ব্যবসায়ীদের। পাশাপাশি ভোজ্যতেলের দাম কমানোর চাইতে আরো ৩০ টাকা কমদামে অর্থাৎ ৮২০ টাকায় ৫ লিটার সয়াবিনের বোতল বিক্রি হচ্ছিল গেল দুই সপ্তাহ আগে থেকেই। ফলে দাম সমন্বয় নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে।
গেল সপ্তাহের শুরুতে প্রতি কেজি পেঁয়াজ সর্বোচ্চ ৪৮ টাকা দরে বিক্রি হয়। কিন্তু হঠাৎই অস্থির হতে থাকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটি। প্রথমে ৫০ টাকায়, পরে ৫৫ টাকায় এবং সর্বশেষ গতকাল ৬০ টাকা দরে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হতে থাকে। নির্দিষ্ট কোনো কারণ বলতে না পারলেও ভারত সীমান্তে দাম বেড়েছে বলে একটাই জবাব। গতকাল সোমবার খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারেই প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৫৫ টাকা দরে। ২ টাকা পরিবহন খরচ যোগ করে আরো ৩ টাকা নিজেদের লাভ ধরে ৬০ টাকা কেজি দরে তা ভোক্তাদের হাতে পৌঁছাচ্ছে।
এদিকে গতকাল সরেজমিন দেখা যায়, ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল ৮২০-৮৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন দোকানে এবং তা গত ১৫ দিন ধরেই। এছাড়া ১ লিটারের পলিব্যাগ সয়াবিন ১৬৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেল ১৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছিল। গত ১৫ দিন ধরে এই দামে ভোজ্যতেল বিক্রির তথ্য জানিয়ে ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, সরকার যে দাম নির্ধারণ করেছে এর সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। সরকার প্রকৃত তথ্য যাচাই না করেই বাজারদরের চাইতে বেশি দাম নির্ধারণ করছে বলেও তাদের দাবি।
বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন গত রোববার জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে মিল রেখে নতুন দর অনুযায়ী, প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিনের দাম পড়বে ১৭৪ টাকা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী বর্তমানে প্রতি লিটার ১৭৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর খোলা সয়াবিনের নতুন দর হবে ১৫৪ টাকা লিটার। বর্তমানে খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৫৯ টাকা। ৫ লিটার বোতলজাত সয়াবিনের দাম ২৩ টাকা কমে দাঁড়াবে ৮৫০ টাকা। অথচ বাজারের বাস্তবতা ভিন্ন। অ্যাসোসিয়েশনের ঘোষিত দরের চেয়ে অনেক কম দামে বাজারে ভোজ্যতেল বিক্রি হচ্ছিল।
ভোগ্যপণ্য ব্যবসায়ী মনসুর আলম জানান, প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৪৮ টাকা পর্যন্ত। আরেক ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম জানান, পেঁয়াজে খুচরা ব্যবসায়ীরা কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ৩ টাকা লাভ করতে পারেন। সীমান্তে ভারতীয় পেঁয়াজের দাম বেড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, গতকাল পাইকারিতে ৫৫ টাকা এবং খুচরায় ৬০ টাকা দরে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে। ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণের আগে বাজার যাচাই করা উচিত জানিয়ে তিনি বলেন, এখন যেভাবে দাম কমানো হয়, বাজারে এর চাইতে কম দামে আগে থেকেই বিক্রি হয়ে আসে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যায় ফলন নষ্ট হওয়ায় এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির অজুহাতে রফতানি মূল্য বৃদ্ধি করছে সেখানকার পেঁয়াজ সরবরাহকারীরা। তাই এখনই বিকল্প বাজারে মনযোগী হতে হবে।
খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির নেতা মোহাম্মদ ইদ্রিস জানান, এক সপ্তাহের ব্যবধানে ৪০-৪৫ টাকা কেজির পেঁয়াজ এখন পাইকারিতেই মানভেদে ৫০-৫৫ টাকায় কিনতে হচ্ছে। বাজারে বর্তমানে পেঁয়াজের তেমন চাহিদাও নেই বলে তিনি জানান।
