Saturday, April 18, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদাওয়ামজুতদারি ও কৃত্রিম সংকট তৈরি ভয়াবহ গুনাহ

মজুতদারি ও কৃত্রিম সংকট তৈরি ভয়াবহ গুনাহ

বর্তমানে বাংলাদেশে জ্বালানি খাতে, বিশেষ করে গ্যাসের তীব্র সংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষকে দিশাহারা করে তুলেছে।

একশ্রেণির অসাধু সিন্ডিকেট কৃত্রিম অভাব দেখিয়ে সিলিন্ডার গ্যাস বা কলকারখানার গ্যাসের দাম বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা জনগণের জীবনযাত্রা ও শিল্প উৎপাদনে নাভিশ্বাস তুলছে। প্রয়োজনীয় সেবাকে পণ্য বানিয়ে এমন কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ।

এ ধরনের মজুতদারদের জন্য পরকালে রয়েছে কঠিন শাস্তি। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘আমদানিকারক রিজিকপ্রাপ্ত আর মজুতদার বা গুদামজাতকারী অভিশপ্ত।’ (ইবনে মাজাহ) অন্য একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি পণ্য গুদামজাত করবে, সে বড় অপরাধী ও গুনাহগার।’ (মুসলিম) উমর ইবনে খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি মুসলমানদের খাদ্যদ্রব্য গুদামজাত করবে, আল্লাহ তাকে কুষ্ঠরোগ বা দারিদ্র্যে আক্রান্ত করবেন।’ (ইবনে মাজাহ)

এমনকি মজুতদারি করা মাল যদি পরে সদকা বা দান করে দেওয়া হয়, তবু সেই গুনাহ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব নয়। আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যদি কোনো ব্যক্তি চল্লিশ দিন খাদ্যদ্রব্য গুদামজাত করে রাখার পর তা সদকা করে দেয়, তবে এই সদকা তার গুনাহের কাফফারা হবে না।’ (রাজিন)

আবু লাইস (রহ.) তার ‘আল জামিউস সগির’ গ্রন্থে গুদামজাতকরণের তিনটি অবস্থা উল্লেখ করেছেন : ১. মাকরুহ, ২. জায়েজ বা বৈধ এবং ৩. নিষিদ্ধ। ইমাম নববি (রহ.)-সহ অন্য আলেমদের মতে, নিম্নোক্ত কারণে গুদামজাত করা নিষিদ্ধ-

১. বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির উদ্দেশ্যে পণ্য মজুত করা।

২. পণ্যের দাম বাড়লে আনন্দিত হওয়া এবং কমলে চিন্তিত হওয়া।

৩. জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে অধিক মুনাফা লাভের আশা করা।

বিশেষ করে কোনো অঞ্চলের প্রধান খাদ্যশস্য গুদামজাত করা মারাত্মক গুনাহের কাজ। পরিশেষে, ব্যবসায়ী সমাজের প্রতি উদাত্ত আহ্বান—আসুন, আমরা হালাল উপায়ে ব্যবসা করি। দুনিয়ার সামান্য লাভের মোহে পড়ে যেন আমাদের পরকাল বরবাদ না করি। সততা ও ন্যায্যমূল্যে পণ্য সরবরাহ করে মানুষের দোয়া ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

1 × 2 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য