Tuesday, April 21, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরমধ্যপন্থা প্রতিষ্ঠাই দলের বড় চ্যালেঞ্জ

মধ্যপন্থা প্রতিষ্ঠাই দলের বড় চ্যালেঞ্জ

শেখ হাসিনা সরকার পতন আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আত্মপ্রকাশে নিজেদের মধ্যপন্থার দল বলে দাবি করেছে। শুক্রবার দল ঘোষণার সময় বলা হয়েছে, সবার মতকে প্রাধান্য দিয়ে মধ্যপন্থার ভিত্তিতে দলের কার্যক্রম চলবে। ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ও ‘গণপরিষদ নির্বাচন, সংবিধান পরিবর্তনসহ অনেক বিষয়ই এসেছে দলের আত্মপ্রকাশের সময়। আত্মপ্রকাশের সময় দলটির প্রায় সব শীর্ষ নেতাই তাদের বক্তব্যের ইতি টেনেছেন ইনকিলাব জিন্দাবাদ স্লোগান দিয়ে। তবে দলের গঠনতন্ত্র, ঘোষণাপত্র, সাংগঠনিক কাঠামো বা কর্মকৌশল কোনোটাই এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি।’

এদিকে নতুন দলের আত্মপ্রকাশের অপেক্ষায় যেমন সব মহলে আগ্রহ ছিল, দল ঘোষণার পর তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আলোচনা সমালোচনাও। শিক্ষার্থীদের নতুন দলকে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ প্রায় সবকটি রাজনৈতিক দল স্বাগত জানিয়েছে। পাশাপাশি তারা এরইমধ্যে দলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য স্পষ্ট নয় বলেও সমালোচনা করেছে।

প্রশ্ন উঠেছে দলটিতে ভিন্ন ভিন্ন মতাদর্শ থেকে আসা নেতাদের এক ছাতার নিচে এনে মধ্যপন্থার লক্ষ্য নিয়ে কিভাবে সামনে যাবে। তাছাড়া সেকেন্ড রিপাবলিক হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টি কিভাবে করা হবে? বিএনপির পক্ষ থেকে এরইমধ্যে এনসিপির রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আবার রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, নতুন দলের ঘোষণার মধ্যে এখনও দলটির কর্মপন্থা বা কৌশল কিছুই পাওয়া যায়নি। তারা একটা ধারণা দিয়েছে। তাই তাদের গঠনতন্ত্র এবং কর্মপদ্ধতির চূড়ান্ত ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এই দলের নীতি-আদর্শের বিষয়টি বোঝা যাবে না।

নতুন বাংলাদেশ গড়ার শপথ নিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আত্মপ্রকাশ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারীদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ (দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র) প্রতিষ্ঠার জন্য গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা এই দলের অন্যতম প্রাথমিক লক্ষ্য। তারা বলেছেন, সেকেন্ড রিপাবলিকে জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় শক্তিশালী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। ভেঙে পড়া রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তোলা ও গণতান্ত্রিক চরিত্র রক্ষা করা হবে তাদের রাজনীতির অগ্রাধিকার।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন দলের সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ভিন্ন ভিন্ন মতাদর্শ থেকে আসা নেতাদের একমতের পক্ষে এনে সামনে এগিয়ে যাওয়া।

দলটিতে ভিন্ন ভিন্ন মতাদর্শ থেকে আসা নেতাদের একই চরিত্র ধারণ করে মধ্যপন্থার একই লক্ষ্য নিয়ে এগুনোটাই বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। বিশ্লেষকদের মতে, দুই একটি বিশেষ আদর্শের দল ছাড়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপিসহ প্রায় সবকটি দলই মধ্যপন্থার কথা এভাবে সরাসরি না বললেও তাদের রাজনৈতিক দর্শন একই ধরনের। সেখানে নতুন এই দলটি মধ্যপন্থার রাজনীতির কথা বলে কতটা চমক দেখাতে পারবে তা নিয়ে সবারই আগ্রহ আছে।

মধ্যপন্থার দল কি বোঝাতে চান এমন প্রশ্নে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা মধ্যপন্থা বলতে বিভাজনের রাজনীতির অবসান হওয়ার কথা বলছি। যেখানে কেউ কাউকে বাদ দিতে পারবে না। তবে জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিষয়গুলো এ মুহূর্তে আমরা দলীয় ক্ষেত্রে বিবেচনা করছি না। এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, সারা দেশে প্রায় ৫০০ উপজেলা-থানায় রয়েছে জাতীয় নাগরিক কমিটি (জানাক)। এ কমিটির সদস্যরা রাজনীতি করবেন এবং অন্যদের সমন্বয়ে হবে এনসিপির কমিটি। সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যারা আসতে চান, তারাও সুযোগ পাবেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আমরা কিছুটা সময় নেব কমিটিগুলো গঠন করতে। এর কারণ হলো- আমরা চাই না বিতর্কিত কেউ কমিটিতে আসুক। তাই সবকিছু যাচাই-বাছাই করেই আমরা কমিটি ঘোষণা করব। আগামী নির্বাচনে তারা ৩শ আসনে প্রার্থী দেবেও বলেও জানান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাশেদা রওনক খান এই প্রতিবেদককে বলেন, নতুন দলটিতে ভিন্ন ভিন্ন মতাদর্শের সংগঠন থেকে লোকজন এসেছেন। মধ্যপন্থার নীতিতে দলকে যেতে হলে অবশ্যই তাদের সবাইকে একই আদর্শের চর্চা করতে হবে। তিনি বলেন, দল গঠনের শুরুতেই কমিটিতে একজনকে নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর দলের গুরুত্বপূর্ণ দুই সংগঠক নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় সামনে নিয়ে এসেছেন। তাই আমার মনে হয়, দলের কার্যক্রম শুরু হলে এ রকম অনেক ধরনের ইস্যু সামনে আসবে। তখন কারা থাকবেন বা কারা বাদ পড়বেন তার ওপর নির্ভর করবে দলের বৈশিষ্ট্য কেমন হবে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, এনসিপির নেতারা যেহেতু ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিয়েছেন, যেখানে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ ছিল। তারা সে কারণে হয়তো মনে করতে পারে সবাইকে রাজনৈতিক ময়দানেও একই ধারা আনা যাবে। কিন্তু রাজনীতির মাঠ ভিন্ন বিষয়। গত শুক্রবারেই অভ্যুত্থানের জনজোয়ারের রেশ দলের অনুষ্ঠানে পুরোপুরি দেখা যায়নি। কারণ আন্দোলনে অনেকের একাত্মতা ছিল, কিন্তু রাজনীতির হিসেব নিকেশ কি সেটা এখনো বোঝা যায়নি।

এনসিপির প্রথম কমিটি ঘোষণার পর কমিটিরই এক নেতার লিঙ্গীয় বৈশিষ্ট্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে দলটির ভেতর থেকেই। এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা ধরনের বিতর্কের পর দলের দুই প্রভাবশালী নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে জানিয়েছেন যে ‘রাজনীতির আগে তাদের পরিচয় তারা মুসলমান।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেন, আমাদের দেশের মানুষ যেহেতু চরমপন্থা বা কোনো একদিকে পুরোপুরি হেলে পড়া পছন্দ করে না বলেই মানুষের মধ্যে জায়গা করার জন্য এখন মধ্যপন্থার কথা বলছে দলটি। কিন্তু বাস্তবতা হলো দলটির সংগঠকদের গত বছর আগস্ট থেকেই মানুষ দেখছে। এর মধ্যে তাদের অনেকে এমন অনেক ঘটনায় সম্পৃক্ত হয়েছেন যেগুলো মধ্যপন্থার চেতনার সঙ্গে যায় না। তাদের ঘোষিত কোনো কর্মসূচিও নেই। ফলে গঠনতন্ত্র এবং কর্মসূচি না আসা পর্যন্ত পরিস্থিতি বোঝা যাবে না।

এদিকে নতুন দলের পরবর্তী কর্মসূচি সম্পর্কে জানা গেছে, আগামী তিন মাসের মধ্যে পুরোপুরি রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে শহর থেকে গ্রামে পৌঁছাতে চায় নতুন দল। একই সঙ্গে মহানগর, জেলা, উপজেলায় কমিটি দিতে চায় তারা। সে ক্ষেত্রে জাতীয় নাগরিক কমিটির ঘোষিত কমিটি এনসিপির কমিটিতে রূপ পাবে। আত্মপ্রকাশের দিন একটি কমিটি প্রস্তুত করা হলেও সেটি নিয়ে অনেকের আপত্তি থাকায় তাতে সংশোধন আনা হচ্ছে বলে দলটির অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে।। এ ছাড়া রমজানের মধ্যেই দলের প্রতীক চূড়ান্ত করে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষ করতে চায় দলটি।

দলের একাধিক শীর্ষ নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন দলের কর্মকৌশল ঠিক করতে শিগগিরই তিনটি কমিটি গঠন করা হবে বলে জানা গেছে। যারা দলের গঠনতন্ত্র প্রণয়ন, নির্বাচনী প্রস্তুতি ও কেন্দ্রীয়ভাবে দলকে পরিচালনার কাজ করবে। এ বিষয়ে সদস্য সচিব মোহাম্মদ মিরাজ মিয়া বলেন, আমাদের প্রাথমিক কমিটির পর আমরা তিনটি কমিটি করে দেব। প্রথম কমিটিতে যারা নির্বাচন করবে তারা নির্বাচনী কলাকৌশল ও মাঠ গোছানো নিয়ে কাজ করবেন। দ্বিতীয়টি পার্টি শক্তিশালী করা ও গঠতন্ত্র নিয়ে কাজ করবে। আর তৃতীয়টি ন্যাশনাল পলিটিকস নিয়ে কাজ করবে।

শিগগিরই সব জেলা উপজেলায় কমিটি চূড়ান্ত করতে চায় এনসিপি। দলের যুগ্ম সমন্বয়ক আরিফুর রহমান তুহিন বলেন, এ সপ্তাহের মধ্যে দলের অভিষেক হতে পারে। রমজানে আমরা দল গোছানো, কর্মবণ্টনÑ এসব নিয়ে কাজ করব। জেলা, থানা কমিটি নিয়ে কাজ করব। আমাদের সংগঠন গোছানো প্রায় শেষ। সারা দেশে ৪৩০ থানায় নাগরিক কমিটির কমিটি আছে। সেগুলো পর্যায়ক্রমে এনসিপির কমিটি হিসেবে রূপ নেবে। আশা করছি, মার্চের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি শেষ করতে পারব।

দলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) আবু সাঈদ লিয়ন বলেন, ফ্যাসিবাদী খুনি হাসিনার বিগত দিনের স্বৈরশাসনের পরও তাকে এদেশের রাজনৈতিক দলগুলো সরাতে পারেনি। রাজনীতিতে সেই ঘাটতি ছিল। যেটি পোষাতেই আমরা নতুন দল নিয়ে এসেছি। আমরা মনে করি, এনসিপি সেই কাজটি করতে পারবে। রাজনৈতিক যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে সেটি পূরণ করবে। সম্পূর্ণ বাংলাদেশপন্থি একটি দল হবে এনসিপি। তিনি বলেন, রমজানের মধ্যেই আমরা নিবন্ধন ও প্রতীক চূড়ান্ত করার চেষ্টা করব। ডান-বাম-শিবির-কওমি-আদিবাসী-আহতদের সমন্বয়ে কমিটিতে আছেন ২১৬ জন

কমিটি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মধ্য, ডান, বাম, শিবির, কওমিপন্থি এবং আদিবাসী ও ১৫ নারী স্থান পেয়েছেন। এ ছাড়া কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ২ জন, ১৬ যুগ্ম আহ্বায়ক, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ২ জন, ৩৩ যুগ্ম সদস্য সচিব, ১৬ জন যুগ্ম মুখ্য সংগঠক, ৪২ জন সংগঠক, ১ জন সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক, ২৩ জন যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক এবং ৭৬ জন সদস্য রয়েছেন। সব মিলিয়ে দ্বিতীয় দফায় কমিটিতে পদ পেয়েছেন ২১৬ জন।

দলটির আত্মপ্রকাশের দিনে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান তুললেও এনসিপির দলীয় স্লোগান চূড়ান্ত হয়নি। আবার এদিন মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান ‘তোমার দেশ আমার দেশ, বাংলাদেশ বাংলাদেশ’ স্লোগানও অনেক বেশি দিতে দেখা যায়। ফলে এই দুইটির একটিকে নিজেদের স্লোগান হিসেবে রাখা হতে পারে। ইনকিলাব জিন্দাবাদ স্লোগানের মাধ্যমে ’৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধকে আড়ালের অভিযোগ উঠায় স্লোগানটিকে মূল স্লোগান থেকে ‘পাশে রাখা’র চেষ্টা করা হচ্ছে।

এনসিপির এক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, কেউ কেউ বলে ইনকিলাব জিন্দাবাদ স্লোগানে নাকি ’৭১ কে আড়াল করা হচ্ছে। তবে এটা সত্য নয়। তবুও আমরা সবার দিক বিবেচনা করে ৪৭, ৫২, ৭১ ও ২৪ কে একসঙ্গে ধারণ করে এমন কোনো স্লোগান বেছে নেব। এখনো আমাদের স্লোগানের বিষয়ে ফোরামে আলোচনা করা হয়নি। মানুষ এই দুইটি স্লোগান ‘ওন’ করে। এখনো বিষয়টি নিয়ে আমরা সেভাবে আলোচনা শুরু করিনি। সবকিছু বিবেচনা করেই আমরা সিদ্ধান্ত নেব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

nineteen − sixteen =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য