ইসরায়েল তার ইতিহাসের বৃহত্তম রাষ্ট্রীয় বাজেট অনুমোদন করেছে, যার মূল লক্ষ্য ধরা হয়েছে প্রতিরক্ষা খাতকে শক্তিশালী করা। প্রায় ২৭১ বিলিয়ন ডলারের এই বিশাল বাজেটে শুধু সামরিক খাতের জন্যই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে রেকর্ড ১৪৩ বিলিয়ন শেকেল (প্রায় ৪৫.৮ বিলিয়ন ডলার)। অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এই বরাদ্দকে ‘মধ্যপ্রাচ্যকে ভেঙে নতুন করে পুনর্গঠনের’ হাতিয়ার হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিরক্ষা খাতে আগের বছরের চেয়ে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত এই বরাদ্দ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইসরায়েল ইরান, লেবানন (হিজবুল্লাহ), সিরিয়া এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে একটি দীর্ঘমেয়াদী ও সর্বাত্মক সামরিক আগ্রাসনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা এটিকে ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ বা বৃহত্তর ইসরায়েলের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ হিসেবে দেখছেন।
সোমবার এই বাজেট অনুমোদনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একটি বড় রাজনৈতিক সংকট ও আগাম নির্বাচনের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পেলেন। ইসরায়েলি আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতের মধ্যে বাজেট পাশ না হলে সংসদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে যেত। তবে অধিবেশনটি ছিল চরম উত্তজনাপূর্ণ; ইরান থেকে ছোঁড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সাইরেনের কারণে বারবার ভোটগ্রহণ বিঘ্নিত হয়। শেষ পর্যন্ত সংসদ সদস্যরা একটি বিকল্প সুরক্ষিত মিলনায়তনে গিয়ে ভোট দেন এবং ৬২-৫৫ ভোটে বিলটি পাস হয়।
ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে নেতানিয়াহু তার কট্টর রক্ষণশীল জোট শরিকদের দাবি পূরণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বাজেটে কট্টরপন্থী দলগুলোর নিয়ন্ত্রিত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ৭৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অতিরিক্ত তহবিল রাখা হয়েছে। এছাড়া, অন্যান্য বেসামরিক মন্ত্রণালয়ের বাজেটে ৩ শতাংশ কাটছাঁট করা হলেও আন্তর্জাতিকভাবে অবৈধ ঘোষিত পশ্চিম তীরের বসতি সম্প্রসারণের জন্য বরাদ্দ কমানো হয়নি। বসতি স্থাপন বিরোধী সংগঠন ‘পিস নাউ’ এই পদক্ষেপকে সরকারি তহবিলের মাধ্যমে একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার ‘প্রকাশ্য দিবালোকে চুরি’ বলে উল্লেখ করেছে।
এই বাজেট ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ একে ‘রাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় চুরি’ এবং ‘ডাকাতি’ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, সাধারণ নাগরিকদের করের অর্থ দুর্নীতিবাজদের তুষ্ট করতে ব্যবহৃত হচ্ছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটও এর কড়া সমালোচনা করে বাজেটকে ‘বেপরোয়া ও জায়নবাদ-বিরোধী’ বলে মন্তব্য করেছেন। বিরোধীদের অভিযোগ, যুদ্ধের সংকটের দোহাই দিয়ে সরকার পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রীয় কোষাগার লুট করছে এবং নাগরিকদের জীবনযাত্রার মানকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
