জনপ্রশাসন ও শাসনকাঠামোয় বড় রকমের পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন। পুরোনো চারটি বিভাগ নিয়ে আলাদা চারটি প্রদেশ এবং ঢাকা ও আশপাশের এলাকা নিয়ে ‘ক্যাপিটাল সিটি গভর্নমেন্ট বা রাজধানী মহানগর সরকার’ করতে বলেছে কমিশন।
মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি বিসিএস ‘ক্যাডার সার্ভিস’ বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিশন। তারা বলেছে, কাজের ধরন অনুযায়ী সার্ভিসের নাম আলাদা হবে। ২৬টি ক্যাডারকে কমিয়ে ১৩টি প্রধান সার্ভিসে বিভক্ত করার সুপারিশ করেছে। ৪৩টি মন্ত্রণালয় থেকে কমিয়ে ২৫টি এবং ৬১টি বিভাগ থেকে কমিয়ে ৪০টি করার সুপারিশ করা হয়েছে।
সংস্কার কমিশন প্রশাসন ক্যাডারকে ‘বাংলাদেশ প্রশাসনিক সার্ভিস’ করে তাদের পদগুলো মাঠ প্রশাসনে সীমাবদ্ধ রাখা এবং পরীক্ষার মাধ্যমে সব সার্ভিস থেকে বাছাই করা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ‘সুপিরিয়র এক্সিকিউটিভ সার্ভিস (এসইএস)’ গঠনের সুপারিশ করেছে। এসইএসের মাধ্যমে পরিচালিত হবে সচিবালয়।
গতকাল বুধবার দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেন কমিশনের প্রধান আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী।
r
কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন সাবেক সচিব মোহাম্মদ তারেক ও মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. মোখলেস উর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. হাফিজুর রহমান ভূঁইয়া ও সাবেক যুগ্ম সচিব রিজওয়ান খায়ের, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আ কা ফিরোজ আহমদ, স্বাস্থ্য ক্যাডারের সাবেক কর্মকর্তা সৈয়দা শাহিনা সোবহান, নিরীক্ষা ও হিসাব ক্যাডারের সাবেক কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ, শুল্ক ও আবগারি ক্যাডারের সাবেক কর্মকর্তা খোন্দকার মোহাম্মদ আমিনুর রহমান ও ছাত্র প্রতিনিধি মেহেদী হাসান।
সংস্কার কমিশন কুমিল্লা ও ফরিদপুরকে বিভাগ করা, জেলা পরিষদ বাতিল করে উপজেলা ও পৌরসভাকে শক্তিশালী করা, ১৫ বছর চাকরি করলে স্বেচ্ছায় অবসরের সুযোগ দেওয়া, বাধ্যতামূলক অবসরের বিধান বাতিল, স্থায়ী বেতন কমিশন গঠন, উপসচিবদের গাড়ি কেনা ঋণ সুবিধা বাতিল, শূন্য পদ ছাড়া পদোন্নতি না দেওয়া, প্রশাসনিক ন্যায়পাল নিয়োগ করাসহ শতাধিক সুপারিশ করেছে।
গত অক্টোবরে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনসহ ছয়টি সংস্কার কমিশনের প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এর মধ্যে সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা, দুর্নীতি দমন কমিশন ও পুলিশ সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন গত ১৫ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া হয়। গতকাল দেওয়া হলো জনপ্রশাসন ও বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন। ৮ ফেব্রুয়ারি এই ছয় সংস্কার কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। এরপর রাজনৈতিক দল ও জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শরিক বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা।
প্রাদেশিক ও মহানগর সরকার
জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন বলেছে, দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও সরকারের কার্যপরিধি বিস্তৃত হওয়ার ফলে বর্তমান প্রশাসনিক ও স্থানীয় সরকার কাঠামো যথেষ্ট নয়। বিকেন্দ্রীকরণ করার লক্ষ্যে দেশের পুরোনো চারটি বিভাগের (ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও খুলনা) সীমানাকে চারটি প্রদেশে বিভক্ত করে ‘প্রাদেশিক শাসনব্যবস্থা’ চালু করা যেতে পারে।
কমিশনের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, রাজধানী ঢাকা মহানগরীর জনসংখ্যা ও পরিষেবার ব্যাপ্তির কথা বিবেচনায় রেখে ভারতের নয়াদিল্লির মতো ফেডারেল সরকার নিয়ন্ত্রিত ক্যাপিটাল সিটি গভর্নমেন্ট বা রাজধানী মহানগর সরকার গঠনের সুপারিশ করা হলো। অন্যান্য প্রদেশের মতোই এখানে নির্বাচিত আইনসভা ও স্থানীয় সরকার থাকবে। ঢাকা মহানগরী, টঙ্গী, কেরানীগঞ্জ, সাভার ও নারায়ণগঞ্জ নিয়ে ক্যাপিটাল সিটি গভর্নমেন্টের আয়তন নির্ধারণ করা যেতে পারে।
বর্তমানে সারা দেশে আটটি প্রশাসনিক বিভাগ রয়েছে। এগুলো হলো ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ। এর বাইরে কুমিল্লা ও ফরিদপুরকে বিভাগ করার সুপারিশ করেছে কমিশন।
কমিশনের সুপারিশে বলা হয়, পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন ওয়ার্ড সদস্যদের ভোটে। বর্তমানে পৌরসভার মেয়ররা সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন। উপজেলাকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়ে কমিশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (প্রস্তাবিত নাম উপজেলা কমিশনার) পরিষদে ন্যস্ত না রাখতে বলেছে। এ ক্ষেত্রে একজন জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে উপজেলা পরিষদের সচিব নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা থাকবেন মাঠে
বর্তমানে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) অধীনে পরীক্ষার মাধ্যমে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) ২৬টি ক্যাডারে নিয়োগ হয়। সংস্কার কমিশন এসব ক্যাডারকে ১৩টি সার্ভিসে বিভক্ত করার সুপারিশ করেছে। এগুলো হলো প্রশাসনিক, বিচারিক, জননিরাপত্তা, পররাষ্ট্র, হিসাব, নিরীক্ষা, রাজস্ব, প্রকৌশল, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, তথ্য এবং তথ্য যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) সার্ভিস।
এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান কিছু ক্যাডার এসব সার্ভিসে একীভূত করার সুপারিশ করা হয়েছে। যেমন বিসিএস খাদ্য ও সমবায়কে প্রস্তাবিত প্রশাসনিক সার্ভিসের (বর্তমানের প্রশাসন ক্যাডার) সঙ্গে একীভূত হবে।
জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে সার্ভিসগুলোর পদসোপান কেমন হবে, তা-ও উল্লেখ করা হয়েছে। ‘প্রশাসনিক সার্ভিসের’ পদগুলো মাঠ প্রশাসনে সীমাবদ্ধ থাকবে। সুপারিশ অনুযায়ী, প্রশাসন কর্মকর্তাদের শুরুর পদের নাম হবে এখনকার মতো সহকারী কমিশনার। মাঠপর্যায়ে তাঁদের শীর্ষ পদ হবে বিভাগীয় কমিশনার; যাঁদের পদমর্যাদা হবে গ্রেড-১; যা সচিবের সমান। তবে এই সার্ভিসের জন্য একটি শীর্ষ পদ থাকবে, নাম হবে ‘প্রধান কমিশনার’; যিনি বিশেষ গ্রেড পাবেন; যা মুখ্য সচিবের সমান। এর সঙ্গে মিল রেখে অন্যান্য সার্ভিসের জন্যও ভিন্ন নামে পদ রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।
সহকারী কমিশনারের ওপরের পদগুলো হবে যথাক্রমে জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার ও উপজেলা কমিশনার (এখনকার ইউএনও), বেতন গ্রেড হবে ৬; তারপর অতিরিক্ত জেলা কমিশনার (এখনকার এডিসি), বেতন গ্রেড-৫; তারপর জেলা কমিশনার (এখনকার ডিসি), বেতন গ্রেড-৩, অর্থাৎ যুগ্ম সচিবের সমান। বর্তমানে তাঁদের বেতন গ্রেড-৫। তার ওপরের পদ হবে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার, বেতন গ্রেড হবে ২। তারপর বিভাগীয় কমিশনার।
একইভাবে অন্যান্য সার্ভিসের পদগুলো হবে যথাক্রমে সহকারী পরিচালক, উপজেলা প্রধান, অতিরিক্ত পরিচালক, পরিচালক, অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও মহাপরিচালক। এর বাইরে প্রতিটি সার্ভিসের জন্য একটি শীর্ষ পদ থাকবে। যেমন ‘চিফ অব হেলথ সার্ভিস’। প্রতিটি সার্ভিসের কর্মকর্তারা পরীক্ষার মাধ্যমে ওই সব পদে পদোন্নতি পাবেন।
সচিবালয়ের জন্য ‘এসইএস’
সব সার্ভিসের মেধাবী ও দক্ষ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে সচিবালয়ে উপসচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব পর্যন্ত পদগুলো নিয়ে একটি ‘সুপিরিয়র এক্সিকিউটিভ সার্ভিস (এসইএস)’ গঠনের সুপারিশ করেছে সংস্কার কমিশন। সব সার্ভিসের কর্মকর্তারা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা দিয়ে এখানে নিয়োগ পেতে পারবেন।
বর্তমানে উপসচিব পদে পরীক্ষা ছাড়াই প্রশাসন থেকে ৭৫ শতাংশ এবং অন্য ক্যাডার থেকে ২৫ শতাংশ পদোন্নতি হয়। জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন বলছে, সব সার্ভিসের মধ্যে সমতা বজায় রাখতে ও জনপ্রশাসনের উচ্চ পদে মেধাবীদের সুযোগ সৃষ্টির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তাবিত প্রশাসনিক সার্ভিসের (বর্তমান প্রশাসন ক্যাডার) ৭৫ শতাংশ কোটা কমিয়ে ৫০ শতাংশ করার বিষয়টি অধিকতর যৌক্তিক হবে। বাকি ৫০ শতাংশ পদ অন্যান্য সার্ভিসের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তবে বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে একটি মামলার রায় এবং পর্যবেক্ষণ রয়েছে। তাই বিষয়টির আইনগত দিক পরীক্ষার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।
পিএসসি পদোন্নতির পরীক্ষা নেবে এবং মৌখিক ও মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা শেষ করে চূড়ান্ত সুপারিশ সরকারের কাছে দেবে। প্রতিবছর একবার করে তিনটি পদের (উপসচিব, যুগ্ম সচিব ও অতিরিক্ত সচিব) জন্য আলাদাভাবে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা হবে। কেউ একবার উত্তীর্ণ হতে না পারলে তিনি পরের ব্যাচে আরেকবার পরীক্ষা দিতে পারবেন। কোনো কর্মকর্তা এসইএসে প্রবেশের পরীক্ষায় পরপর দুবার অকৃতকার্য হলে তিনি আর কোনো সুযোগ পাবেন না।
সংস্কার কমিশন বলছে, কমপক্ষে ১০ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতাসম্পন্ন যেকোনো সার্ভিসের সিনিয়র স্কেল পাওয়া কর্মকর্তা উপসচিব পদের জন্য আবেদন করে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। পদোন্নতির লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর ৭০ শতাংশ। আর বার্ষিক পারদর্শিতার (পারফরম্যান্স) প্রতিবেদনের জন্য ১৫ শতাংশ এবং বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণের জন্য ১৫ শতাংশ নম্বর নির্ধারণ করা হবে।
সংস্কার কমিশন সুপারিশে বলেছে, যেসব কর্মকর্তা বর্তমানে উপসচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব পর্যন্ত পদগুলোতে আছেন, তাঁরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসইএসে অন্তর্ভুক্ত হবেন। সচিব, মুখ্য সচিব ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসইএসের সদস্য হবেন।
পদোন্নতির ক্ষেত্রে পুলিশ বা গোয়েন্দা বিভাগের কাছে রাজনৈতিক পরিচয় জানতে চাওয়ার প্রথা বাতিল করার সুপারিশ করেছে কমিশন।
ডিসিকে মামলা গ্রহণের ক্ষমতার সুপারিশ
সংস্কার কমিশন জেলা কমিশনারকে মামলা গ্রহণের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। জেলা কমিশনারকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সিআর মামলার মতো অভিযোগগুলো গ্রহণের ক্ষমতা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তিনি অভিযোগগুলো তদন্তের জন্য উপজেলার কোনো কর্মকর্তাকে বা সমাজের স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে সালিসি বা তদন্ত করার নির্দেশ দিতে পারবেন। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ গ্রহণযোগ্য হলে থানাকে মামলা গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারবেন। পরে মামলাটি যথাযথ প্রক্রিয়ায় আদালতে চলে যাবে। সংস্কার কমিশন উপজেলা পর্যায়ে দেওয়ানি ও ফৌজদারি ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট পুনঃস্থাপনের সুপারিশ করেছে।
জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন থানার ‘অফিসার ইনচার্জের’ কাজ ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার তদারকির জন্য উপজেলা পর্যায়ে একজন সহকারী পুলিশ সুপারকে ‘উপজেলা জননিরাপত্তা কর্মকর্তা’ হিসেবে পদায়নের সুপারিশ করেছে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের জন্য আলাদা পিএসসি
নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে তিনটি পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) করার সুপারিশ করা হয়েছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সার্ভিসের জন্য পৃথক দুটি পিএসসি হবে। বাকি সার্ভিসের জন্য একটি পিএসসি হবে। এর নাম হবে পিএসসি (সাধারণ)। বর্তমান বিসিএস ক্যাডার ও নন ক্যাডার নিয়োগে একটি পিএসসি কাজ করছে।
১৫ বছর চাকরি করলে স্বেচ্ছায় অবসরের সুযোগ
কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ১৫ বছর চাকরি করলে সব সুবিধাসহ স্বেচ্ছায় অবসরে যেতে পারবেন বলে সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমানে ২৫ বছর চাকরি করলে পেনশন-সুবিধাসহ স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়ার সুযোগ পান কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
বর্তমানে ২৫ বছর চাকরির পর সরকার ইচ্ছা করলে কাউকে বাধ্যতামূলক অবসরে দিতে পারে। এই বিধান বাতিল করতে বলেছে কমিশন। এ ছাড়া জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ওএসডি না করার সুপারিশ করেছে।
বেতন বাড়ানো ও স্থায়ী বেতন কমিশন
মূল বেতন প্রতিবছর বৃদ্ধির সুপারিশ করে কমিশন বলেছে, তা ৫ শতাংশের বেশি হবে না। এ উদ্দেশ্যে একটি স্থায়ী বেতন কমিশন গঠন করা যেতে পারে।
কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে উপসচিবদের গাড়ি কেনা ঋণ এবং গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এ ব্যবস্থা বাতিল করার সুপারিশ করা হলো।
কর্মকর্তাদের দাবি আদায়ে বিক্ষোভ নয়
কোনো সরকারি কর্মকর্তা যাতে কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে আয়োজিত কোনো কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে না পারেন, সে জন্য নির্দেশনা জারির সুপারিশ করেছে কমিশন। বিশেষ করে সার্ভিসের নামে যেসব সমিতি রয়েছে, তারা কোনো রাজনৈতিক বা নেতার পরিচয় দিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বা দাবি আদায়ের জন্য কোনো বিক্ষোভ বা প্রতিবাদ সমাবেশ করতে পারবেন না।
এ ছাড়া যাঁরা বিভিন্ন সময়ে অর্থ পাচার, দুর্নীতি, ভোট জালিয়াতি, জুলাই-আগস্টের গণহত্যার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত হয়ে জনপ্রশাসনের ভাবমূর্তি ও গণতান্ত্রিক দেশের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে ক্ষুণ্ন করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য স্বাধীন কমিশন গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের একান্ত সচিব তাঁদের অভিপ্রায় অনুসারে সরকারি চাকরির বাইরে থেকে নিয়োগ দেওয়া, আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সহজ ও গতিশীল করাসহ বিভিন্ন ধরনের সুপারিশ করা হয়েছে।
