Thursday, April 16, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরমন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন : নকল ওষুধ তৈরি করলে যাবজ্জীবন

মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন : নকল ওষুধ তৈরি করলে যাবজ্জীবন

ওষুধে ভেজাল মেশালে এবং নকল ওষুধ তৈরি করলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রেখে ওষুধ ও কসমেটিকস আইন ২০২৩-এর চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এ আইনে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি করলে ২০ হাজার টাকা জরিমানার বিধানও রাখা হয়েছে।

গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদসচিব মো. মাহবুব হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে গতকাল কপিরাইট আইন ২০২৩-এর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতিবছর জাতীয় স্থানীয় সরকার দিবস পালন করা হবে। স্থানীয় সরকার বিভাগ দিবসটি পালনে তারিখ নির্ধারণ করবে।

মন্ত্রিপরিষদসচিব মো. মাহবুব হোসেন জানান, গত বছরের ১১ আগস্ট ওষুধ আইন ২০২২-এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। এরপর তা যাচাই-বাছাইয়ে (ভেটিং) আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। আইন মন্ত্রণালয় কিছু বিষয়ে সংযোজন-বিয়োজনসহ ওষুধ আইন ২০২২-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় পাঠিয়েছিল। মন্ত্রিসভার বৈঠকে আইনের নামসহ বেশ কিছু বিষয়ে পরিবর্তন আনা হয়েছে। বৈঠকে আইনটির নাম রাখা হয়েছে ওষুধ ও কসমেটিকস আইন ২০২৩। এতে প্রসাধনপণ্যে ভেজালের ক্ষেত্রেও অনুরূপ সাজা কার্যকর হবে।

মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, ভেজাল ওষুধ উৎপাদন, বিক্রি, বিতরণ বা বিক্রির উদ্দেশ্যে প্রদর্শন করলে যাবজ্জীবন শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। ওষুধে ভেজাল মেশালে বা ভেজাল ওষুধ উৎপাদন, বিক্রি ও মজুদ করলে এ ক্ষেত্রেও যাবজ্জীবন শাস্তি পেতে হবে। অসৎ উদ্দেশ্যে ওষুধের কৃত্রিম সংকট তৈরি করলেও যাবজ্জীবন পর্যন্ত শাস্তি দেওয়া যাবে। এ ছাড়া লাইসেন্স ছাড়া বা লাইসেন্সে উল্লেখ করা শর্ত না মেনে ওষুধ উৎপাদন করলে, নিবন্ধন ছাড়া ওষুধ উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, বিক্রি, বিতরণ, প্রদর্শন করলে, সরকারি ওষুধ বিক্রি বা বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুদ বা প্রদর্শন করলে, লাইসেন্স ছাড়া বা লাইসেন্সের শর্ত না মেনে ওষুধ আমদানি করলে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া কোনো ওষুধ ক্ষতিকারক হলে তাত্ক্ষণিকভাবে তা বাজার থেকে বাতিল করার বিধান রাখা হয়েছে নতুন আইনে। খসড়া আইনে মোট ৩০টি অপরাধ চিহ্নিত করা হয়েছে। এ জন্য আলাদা শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

মাহবুব হোসেন বলেন, নিবন্ধিত চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপশন) ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি করা যাবে না। কোনো দোকান থেকে ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি করা হলে ২০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। কসমেটিকস বিক্রি, আমদানি ও উৎপাদন করতে হলে লাইসেন্স নিতে হবে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর লাইসেন্সি অথরিটি হিসেবে কাজ করবে। এখন যাঁরা কসমেটিকসের ব্যবসা বা উৎপাদন করছেন তাঁদের লাইসেন্স নিতে হবে। কসমেটিকসের উৎপাদন, বিতরণ ও মজুদ নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এ জন্য ঔষধ প্রশাসন বিধি প্রণয়ন করবে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে তাদের দায়িত্ব ও কর্মপরিধি সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে বর্তমানে আমাদের দুটি আইন আছে। একটি হলো ড্রাগস অ্যাক্ট ১৯৪০ এবং আরেকটি ড্রাগস কন্ট্রোল অর্ডিন্যান্স ১৯৮২। এ দুটি এক করে নতুন এই আইন করা হয়েছে।’ নতুন আইনে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে জানিয়ে মাহবুব হোসেন বলেন, ‘ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মাধ্যমে ওষুধের কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; নতুন ওষুধ, ভ্যাকসিন ও মেডিক্যাল ডিভাইস ডেভেলপ করা। ট্রায়াল চারটি ধাপে যাতে করা হয়, সেটি সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। ফার্মাকো ভিজিল্যান্স বলে ওষুধশিল্পে একটা কনসেপ্ট আছে। ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা ক্ষতিকর দিক পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের সুযোগ নতুন আইনে রাখা হয়েছে। আগের আইনে সেই সুযোগ রাখা হয়নি। ভ্যাকসিনের লটের কোয়ালিটি পরীক্ষার সুযোগ আগের আইনে ছিল না, নতুন আইনে সেই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।’

মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটিকে তদারকি করার জন্য, যাতে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সে জন্য ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি ও ব্যবহার বন্ধ থাকবে। এগুলো শাস্তিযোগ্য অপরাধ হবে। কিছু জিনিস এখানে মেডিক্যাল ডিভাইস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং সেগুলো ওষুধ হিসেবে বিবেচিত হবে। মন্ত্রিপরিষদ ওষুধের ক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যে গাইডলাইন আছে। সেটির যাতে সর্বোচ্চ ব্যবহার হয়, সেই বিষয়ে খুব জোর দেওয়া হয়েছে। এটা সংসদে পাস হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হবে। ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তিনি বলেন, কিছু কিছু ওষুধের দামও নির্ধারণ করে দেবে সরকার।

কপিরাইট আইন না মানলে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা : কোনো ব্যক্তি কোনো কর্মের কপিরাইটের স্বত্বাধিকারী না হয়ে প্রকাশ, পরিবেশন বা সম্পাদন করলে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রেখে কপিরাইট আইন ২০২৩-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

এ ব্যাপারে মন্ত্রিপরিষদসচিব মাহবুব হোসেন বলেন, কপিরাইট আইন ২০০০ সালে প্রণয়ন করা হয়েছিল। এরপর ২০০৫ সালে সেটি সংশোধন করা হয়েছিল। ডিজিটাল যুগের কিছু বাস্তবতার আলোকে এই কপিরাইট আইনকে সংশোধন করে নতুন একটি খসড়া করা হয়েছিল। সেটি ২০২১ সালের অক্টোবরে কিছু অবজারভেশনসহ নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। মন্ত্রিসভা এটির চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। আইনে সময়ের প্রেক্ষাপটে বেশ কিছু সংজ্ঞা সংযোজন ও বিয়োজন করা হয়েছে। অজ্ঞাতপরিচয় বা ছদ্মনামে কর্মের স্বত্বাধিকারী, ডাটাবেইস, পাবলিক ডোমেইন, মনোগ্রাম, প্রডিউসার, ব্যক্তি, লোকগান, লোকসংস্কৃতি, সম্পাদক, সম্পত্তি অধিকার—এসব কিছুর নতুন সংজ্ঞা সংযোজিত হয়েছে। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য যদি কোনো মেধাস্বত্বের বিষয় থাকে, তা নিশ্চিত করার কথা আইনে উল্লেখ রয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, পাইরেসি প্রতিরোধে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ডিজিটাল অর্থাৎ কম্পিউটারভিত্তিক কার্যক্রমকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে, যা আগে ছিল না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

3 − 1 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য