যে যেমন, তার ভাব প্রকাশের মাধ্যমও তেমন। লেখক লিখে, গায়ক গানে মনের ভাব ফুটিয়ে তোলেন। আর যারা চিত্রকর, সম্ভবত চিত্রকর্মে আরো গভীর ও আবেগমিশ্রিতভাবে তাদের মনের ভাষা ফুটে ওঠে। তেমন-ই একটি অভিনব ও মনকাড়া চিত্র এঁকেছেন ফুয়াদ কিবদানি (৩৩) নামের মরক্কান এক চিত্রশিল্পী।
সম্প্রতি তার দেশ মরক্কোতে ভয়াবহ এক ভূমিকম্পে প্রায় তিন হাজার মানুষ মারা গেছেন। পাশাপাশি একই মহাদেশের আরেক মুসলিম দেশ লিবিয়ায় ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে মারা গেছেন অন্তত ২০ হাজার মানুষ এবং ক্ষতিগ্রস্ত অসংখ্য। নিজের দেশ এবং আরেক মুসলিম দেশ লিবিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি সমবেদনা জানিয়েই ফুয়াদ কিবদানি চিত্রকর্মটি তৈরি করেছেন।
বাংলাদেশ সময় শুক্রবার গভীর রাতে ফুয়াদ কিবদানি তার ফেসবুক আইডিতে ওই চিত্রকর্মটি অনুসারীদের সাথে শেয়ার করেন। তাতে দেখা যায়- কান্নারত একটি চোখ। যার নিচে লিবিয়ার বন্যা ও মরক্কোর ভূমিকম্পের পর সেখানকার ভয়াবহতা চিত্রায়িত হয়েছে। এটা দেখেই বেদনায় অশ্রুসিক্ত চোখটি। আর চোখ থেকে যে দু’ফোটা অশ্রু ঝরে পড়ছে, তার একটিতে মরক্কোর পতাকা ও আরেকটিতে লিবিয়ার।
ফুয়াদ কিবদানি দুই দেশের পতাকা সম্বলিত অশ্রু দ্বারা বোঝাতে চেয়েছেন যে, আমি মরক্কোর জন্য যেমন ব্যথিত, ঠিক তেমন-ই দুঃখিত লিবিয়ার দুর্ঘটনাতেও। আমার চোখ দুই দেশের জন্যই কাঁদছে। আর ক্যাপশনে তিনি বিষয়টি লিখেছেন এভাবে- ‘আমাদের বেদনা ও তোমাদের বেদনা অভিন্ন।’ পরে দুই দেশের পতাকা ও উঁচু তর্জনিসহ মুষ্টিবদ্ধ হাতের (এক আল্লাহর প্রতি সাক্ষ্যদানের প্রতীক) ইমোজি। এরপর লিখেছেন, ‘এভাবেই আমি আমার দুঃখ প্রকাশ করলাম।’
মরক্কান যুবকটি তার ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম একাউন্টে চিত্রকর্মটি শেয়ারের পর থেকে অনলাইনে সক্রিয়দের কাছে দারুণভাবে প্রশংসিত হচ্ছেন। আর মন্তব্যের ঘরে চিত্রকর্মটি নিয়ে মুগ্ধতার কথাও জানাচ্ছেন তারা।
ফুয়াদ কিবদানি একজন প্রতিভাবান চিত্রশিল্পী। এর আগে তিনি চালের ওপর কাবা শরিফ ও ডিমের ওপর সম্পূর্ণ সূরা বাকারা, চিনির দানার ওপর সূরা ইখলাস ও পেন্সিলের নিব খোদাই করে আয়াতুল কুরসির ক্যালিওগ্রাফি এঁকেছেন।
ইসলামী ক্যালিওগ্রাফির বাইরেও তার বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় ক্যালিওগ্রাফি রয়েছে। ইতোপূর্বে আলজাজিরাসহ বিশ্বের একাধিক বড় সংবাদমাধ্যম তার এসব আঁকাআঁকি নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
