Wednesday, June 3, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবর‘মানবিক করিডোর’ ইস্যুতে সর্বত্র ক্ষোভ

‘মানবিক করিডোর’ ইস্যুতে সর্বত্র ক্ষোভ

মানবিক করিডোর নিয়ে সর্বত্র ক্ষোভ ও বিতর্ক চলছে। করিডোর দিলে বাংলাদেশ নিরাপত্তার ঝুঁকিতে পড়বে কি না তা নিয়েও চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। সকল রাজনৈতিক দল, কূটনৈতিক ও সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

অন্যতায় এটি বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সৃষ্টি করবে। এরই মধ্যে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মিয়ানমারের রাখাইনের জন্য মানবিক করিডোর দেওয়ার নীতিগত সম্মতি দেয়া হয়েছে, এমন খবর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সর্বত্র বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। রাখাইনে মানবিক করিডোর দেওয়ার বিষয়ে দেশের রাজনীতিতেও উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল করিডোর দেওয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছে।

শনিবার ঢাকার গুলশানে একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে করিডোর প্রদান কিংবা বন্দর ব্যবস্থাপনা বিদেশির হাতে তুলে দেওয়াটাকেই বেশি প্রাধান্য বলে মনে হচ্ছে। আমরা আবারও স্পষ্ট করে জানিয়ে দিতে চাই, করিডোর কিংবা বন্দর দেওয়া না দওয়ার সিদ্ধান্ত অন্তর্বর্তী সরকারের কাজ নয়, এই সিদ্ধান্ত নেবে জনগণের ভোটে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ বা জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার।

উল্লেখ্য, মানবিক করিডোর ও চট্টগ্রাম বন্দর প্রসঙ্গে নেতিবাচক মন্তব্য করে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা। এমন সব সিদ্ধান্ত দেওয়ার ইখতিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের আছে কিনা প্রশ্ন বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের। আর এই দুই ইস্যুতে বার বার প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান।

জানা গেছে, রাখাইনে ত্রাণ পাঠানোর জন্য মানবিক করিডোর দিতে বাংলাদেশের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিলো জাতিসংঘ। সংস্থাটির এই প্রস্তাবে সম্মতিও দিয়েছে বাংলাদেশ। তবে বেশ কয়েকটি শর্ত দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। যদিও শর্তগুলো তিনি খোলাসা করেননি। অন্যদিকে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, করিডোর নিয়ে জাতিসংঘের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। তবে জাতিসংঘ চাইলে ত্রাণ সরবরাহে লজিস্টিক সহায়তা দিতে বাংলাদেশ নীতিগতভাবে সম্মত।

সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মিয়ানমারের রাখাইনে ‘মানবিক করিডর’ দেয়া বাংলাদেশের ভৌগোলিক স্থিতিশীলতা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ। মায়ানমারের সামরিক জান্তাদের পাশ কাটিয়ে আরাকানের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সাথে কুটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে রাখাইনে মানবিক করিডোর দিলে তাতে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে বাধ্য এবং তা হবে বৈশ্বিক সাম্রাজ্যবাদের কাছে নতজানু হয়ে গোলামির নবতর সংস্করণ। যা খুবই বিপজ্জনক এবং দেশের স্বাধীনতার প্রতি হুমকি।

সামরিক বিশেষজ্ঞ বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব:) মোস্তফা কামাল ইনকিলাবকে বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মানবিক করিডোর দেয়া হলে মিয়ানমার সরকার এটি ভালভাবে নেবে না। এ পর্যন্ত বিশে^র কোন দেশ মানবিক করিডোর দিয়ে সফল হয়নি। এটা আরো বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করেছে। এটি নিয়ে শুধু দেশের সীমান্তের বাসিন্দারাই নন, সারাদেশের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। দেশের সাধারন মানুষ প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের সাথে কোন সংঘাত চায় না। তাই এ বিষয়ে সকল রাজনৈতিক দল, কূটনৈতিক ও সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।

বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব:) মোস্তফা কামাল আরও বলেন, মিয়ানমারের সাথে চীন, ভারত, রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রয়েছে। এক রাষ্ট্রের পক্ষে সিদ্ধান্ত নিলে অন্যরা এটা সহজ ভাবে নিবে না। এতে অহেতুক নতুন ও অনিয়ন্ত্রিত জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। যা বাংলাদেশের জন্য হুমকি হয়ে দেখা দিতে পারে। এ অবস্থায় সার্বিক সবদিক বিবেচনা মাথায় রেখে করিডোরর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত মেজর এমদাদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে করিডোর হলে সেখানে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেখানে আরাকান আর্মি মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে, এখন মিয়ানমার সরকার যদি দেখে এই করিডোরের ফলে আরাকান আর্মি লাভবান হচ্ছে। তখন তারা কি বসে থাকবে? তখনই সমস্যাটা তৈরি হবে। তখন এই করিডোরই আমাদের জন্য বিপদ ডেকে আনবে। তিনি আরও বলেন, বঙ্গোপসাগর এলাকা দিয়েও রাখাইনে ত্রাণ ও খাদ্য সহায়তা সামগ্রী পাঠানো সম্ভব। তাহলে কেন বাংলাদেশের ওপর দিয়ে এই করিডোর দেয়া হবে?

প্রফেসর ইউনুস হাসান চৌধুরী বলেন, সরকারের করিডোর দেওয়ার সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী। আরাকান আর্মি একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী। তাদের সঙ্গে কোনো নীতিগত আলোচনা গ্রহণযোগ্য নয়। করিডোর ইস্যুতে কক্সবাজারসহ সারাদেশে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এ সংকট নিরসনে জাতীয় ঐকমত্য গঠন করা জরুরি। “উখিয়া-টেকনাফে বিশাল সংখ্যক রোহিঙ্গা বসবাস করছে, যার ফলে পরিবেশ, আইন-শৃঙ্খলা ও জীবনযাত্রায় ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। করিডোর দেওয়া হলে আমাদের মাতৃভূমি হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে।

স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মিয়ানমারের ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সড়ক যোগাযোগ রয়েছে। করিডোর দেয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভবিষ্যতে এ অঞ্চলের শান্তি-শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা জড়িত। মিয়ানমার সরকার এ করিডোরের বিপক্ষে। ফলে করিডোর দেয়া হলে কক্সবাজারসহ পুরো পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে এর নীতিবাচক প্রভাব পড়বে। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে করিডোর হলে সেখানে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেখানে আরাকান আর্মি মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে, এখন মিয়ানমার সরকার যদি দেখে এই করিডোরের ফলে আরাকান আর্মি লাভবান হচ্ছে। তখন তারা কি বসে থাকবে? তখনই সমস্যাটা তৈরি হবে। তখন এই করিডোরই পুরো পার্বত্য চট্টগ্রাম বাসির জন্য বিপদ ডেকে আনবে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এদিকেনাম প্রকাশ না করার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা ইনকিলাবকে জানিয়েছেন, খুব সহজেই এই করিডোর বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। কেননা এই করিডোরের জন্য মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মি উভয়পক্ষের সম্মতি প্রয়োজন। এক পক্ষ রাজি না থাকলে এই করিডোর বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এখন উভয় পক্ষ রাজি হবে কি-না সেটা কেউ নিশ্চিত নন। এটা আলোচনার মাধ্যমেই কেবল সম্ভব। আর এ আলোচনা হতে হবে দেশের জনগনের ভোটে নির্বাচিত সরকারের সাথে। তবেই দেশের মানুষ এটিকে স্বাগত জানাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

15 − 8 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য