Saturday, June 6, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeযুগ জিজ্ঞাসামুসলিম নারী ও মার্কিন দৃষ্টিভঙ্গি

মুসলিম নারী ও মার্কিন দৃষ্টিভঙ্গি

জানাবির কথা মনে পড়ে আপনাদের? আবির আল জানাবি। ১৪ বছর বয়সী ইরাকি কিশোরী। তখন ২০০৬ সাল‌‌, ইরাকে ‘গণতন্ত্র’ ও ‘মানবাধিকার’ প্রতিষ্ঠা করতে আসা মার্কিন আর্মির কুদৃষ্টির ভয়ে জানাবির বাবা জানাবিকে স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছিলেন। জানাবিকে বাড়িতে থাকতো হতো, ছোট ভাইবোনদের সাথে খেলাধুলায় ভালোই কাটছিলো তার কৈশোরের স্বপ্নীল দিনগুলি।

জানাবিদের ঘর থেকে মাত্র দু’শ মিটার দূরেই ছিল মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা তল্লাশি চৌকির অবস্থান। একদিন এক মার্কিন সৈন্যের চোখ পড়ে যায় জানাবির উপর। আর তাই কাল হয়ে দাঁড়ায় জানাবি ও তার পরিবারের জন্য। প্রথমে কিছু দিন সেনারা তল্লাশির নামে বারংবার জানাবিদের বাড়িতে আসতে থাকে এবং তারপ্রতি কুরুচিপূর্ণ ইঙ্গিত করতে থাকে। একদিন চার সেনা সিদ্ধান্ত নেয় আজ তারা জাবাবিকে ভোগ করবে ও কিছু মুসলিম হ ত্যা করবে।

১২ মার্চের সকালবেলা, দুই ছেলেকে স্কুলে পাঠিয়ে জানাবির বাবা বাগানে তার ছোট মেয়ের সাথে গল্প করছিলেন। জানাবি ও তার মা ছিলেন রান্নাঘরে। এর মধ্যে তারা দেখতে পায় চেকপয়েন্টের আর্মির চারজন লোক তাদের বাড়ি ঘিরে ধরেছে। দুইজন সেনা স্টিভেন গ্রিন ও স্পেইলম্যান জানাবির বাবা ক্বাসিম ও তার ৬ বছর বয়সী ছোট মেয়ে হাদিলকে বাগান থেকে ডেকে ঘরে নিয়ে যায়। জানাবির কাছ থেকে তাদের আলাদা করে ফেলে। গ্রিন তাদের মাথায় গুলি করে তাদের হত্যা করে। অন্যদিকে অপর দুই সেনা কর্টেজ এবং বার্কার পালাক্রমে জানাবিকে ধ র্ষ ন করতে থাকে।

জানাবি নিজেকে উদ্ধারের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে। কিন্তু মানুষরুপী জানোয়ারগুলোর কাছে সে অসহায় হয়ে পড়ে। এরই মধ্যে জানাবির কানে গুলির আওয়াজ আসে এবং নিশ্চিত হয় যে তার বাবা আর বোনকে মেরে ফেলা হয়েছে। একদিকে গণধর্ষণের যন্ত্রণা, অন্যদিকে পরিবারের সবচেয়ে কাছের মানুষগুলো হারানোর শোক- জানাবির অবস্থা কেমন হয়েছিল তা বর্ণনা করা সম্ভব নয়। একে একে ধর্ষণের পর স্টিভেন গ্রিন জানাবির মাথায় কাছ থেকে গুলি করে। মগজ ছিটকে পড়ে দেয়ালে। নিথর জানাবি পড়ে থাকে মেঝেতে। জানাবিকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা করছিলেন তার অসহায় মা, তারা জানাবির নির্মম ভাবে মাকে খু ন করে।

আমেরিকান সৈন্যরা জানাবিকে ধ র্ষ নের পর হ ত্যা ও তার পুরো পরিবারকে হ ত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি। প্রমাণ লোপাটের জন্য মৃতদেহগুলো পুড়িয়ে দেয়। ধ র্ষ ন ও হত্যাযজ্ঞ সুন্নি আত্মঘাতীদের কাজ বলে চালিয়ে দেয়। এতো নিষ্ঠুর অমানবিক কাজ- তাদের এতটুকু অনুশোচনাও হয়নি। উপরন্তু ‘চিকেন উইংস’ পার্টি দিয়ে এই নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ উদযাপন করে তারা।[1]


ইরাকের বর্বর আবু গারিব কারাগারে বন্দিনী বোন ফাতেমার কথা তো আপনাদের মনে থাকার কথা। ইরাকের এক মু জা হি দের বোন ছিলেন ফাতেমা। তাদের বাড়িতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটোর সেনারা ফাতেমার ভাইকে না পেয়ে ফাতেমাকে তুলে নিয়ে যায়। ফাতেমা ছিলেন অত্যন্ত লাজুক ও পর্দাশীন মেয়ে। ফাতেমাকে বন্দী করে ইতিহাসের বিভৎসতম আবু গারিব কারাগারে রাখা হয়, সেখানে নাপাক কা ফে র ন্যাটো সেনারা তাঁকে প্রতিদিন কালাক্রমে ধ র্ষ ণ করতো। সে অমানুষিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে তাদের(নিজেকে ও সঙ্গীদের) মেরে ফেলে কষ্ট থেকে মুক্তি দিতে মুসলিম যুবকদের আহ্বান করে চিঠি লিখেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন,

আল্লাহর কসম কারাগারে আসা পর্যন্ত আমাদের এমন কোন রাত কাটেনি যে রাতে বানর ও শুকুর জাতীয় অমানুষরা আমাদের উপর ঝাপিয়ে পড়েনি। তারা তাদের পূর্ণ স্বাদ মিটিয়ে নিস্তেজ হওয়া অবধি আমাদের দেহকে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করতে থাকে। তারা আমায় একদিন নয়বারেরও বেশি ধর্ষন করেছে। আপনারা কি অনুধাবন করতে পারছেন? চিন্তা করুন আপনাদের এজন বোন ধর্ষিত হচ্ছে। আপনারা কেন ভাবতে পারছেন না আমি আপনাদের বোন? আমার সাথে আরো ১৩ জন মেয়ে আছে। সবাই অবিবাহিত। সবাই সবার সামনে প্রকাশ্য ধর্ষিত হচ্ছে।

আমরা তারাই যারা আল্লাহর ভয়ে সব সময় কুমারিত্ব কে পাহারা দিয়ে থাকি। আল্লাহকে ভয় করুন। আমাদের মেরে ফেলুন। আমাদের ধংস করে দিন। তাদের আনন্দ উপকরন হিসাবে আমাদের রেখে যাবেন না। ভাই আপনাদের আবারও বলছি আল্লাহকে ভয় করুন। আমাদের মেরে ফেলুন। তাহলেই আমরা হয়ত শান্তি পাব। সাহায্য করুন। সাহায্য করুন। সাহায্য করুন। [2]


আ ফি য়া সি দ্দি কা নামটি তো সবাই শুনেছেন আশা করি। অসামান্য ধীসম্পন্ন পি.এইচ.ডি ডিগ্রীধারী এ মহিলার সম্মানসূচক অন্যান্য ডিগ্রী ও সার্টিফিকেট রয়েছে প্রায় ১৪৪টি। যুক্তরাষ্ট্রের ব্রন্ডেইস বিশ্ববিদ্যালয় ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে Neurology বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রী প্রদান করে। তিনি হাফিযে কুর‘আন ও আলিমা। পবিত্র কুর‘আন ও হাদীসে পারদর্শিনী এ মহিলা ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত দ্বীনদার ও পরহেযগার। ছিলেন ইসলামের একজন দায়ী ও সমাজসেবক, মজলুম মুসলিমদের জন্য অর্থ সংগ্রহ করে পৌঁছে দিতেন তিনি। ইসলামী আদর্শ, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতি রয়েছে তাঁর স্ট্রং কমিটমেন্ট।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফ.বি.আই পাকিস্তানী কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় আ ল কা য়ে দা র সঙ্গে যোগাযোগ থাকার কথিত অভিযোগে ২০০৩ সালে ড. আ ফি য়া কে তাঁর তিন সন্তানসহ করাচীর রাস্তা থেকে অপহরণ করে। পাকিস্তানের কোন কারাগারে না রেখে এবং পাকিস্তানী আদালতে উপস্থাপন না করে পাঁচ বছর ধরে তাঁকে আফগানিস্তানের বাগরাম সামরিক ঘাঁটিতে গুম করে রাখা হয়। এরপর চলে তাঁর উপর অমানুষিক শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতন। বাগরামে কুখ্যাত মার্কিন কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিরা বলেছেন, ‘নির্যাতনের সময় একজন নারী বন্দির আর্তচিৎকার অন্য বন্দিদের সহ্য করাও কষ্টকর ছিল………। সেই নারী বন্দী ছিলেন আফিয়া সিদ্দিকা।

আমেরিকান টর্চার সেলে তাকে গ ণ ধ র্ষ ণ করা হয়, দিনের পর দিন। তাকে উলঙ্গ করে কুরআন শরীফের পাতা ছিড়ে মেঝেতে বিছিয়ে রেখে বলা হত, যাও, কুরআনের উপর দিয়ে গিয়ে কাপড় নিয়ে এসো। ড. আফিয়া সেটি করতে পারতেন না কারণ, তিনি মুসলমান। কারণ তিনি কুরআন ভালবাসতেন। ৩০ পারা কুরআন যে তার বুকেও ছিল। তিনি যে একজন হাফেজাও ছিলেন। তখন তার উপর নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যেত আরো।

ড.আফিয়ার বিরুদ্ধে প্রহসনের বিচারিক রায় ঘোষণার সময় তাকে কিছু বলতে বলা হলে বিচারকের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছিলেন, “আপনি তাদের ক্ষমতা দিয়েছেন আমাকে রেপ করার, উলঙ্গ করে সার্চ করার! আপনার কাছে কিছুই বলবার নেই আমার। আমি আমার আল্লাহর কাছে যেয়েই যা বলার বলবো। আমি তো সেদিনই মরে গেছি যেদিন আমাকে প্রথম ধর্ষণ করা হয়েছিলো। আমাকে ছেড়ে দিন। আমাকে আমার দেশে যেতে দিন।”

তাঁকে এখনো বন্দী করে রাখা হয়েছে।[3]

পশ্চিমা এই নরপশুদের বর্বরতার শিকার নারীদের তালিকা বেশ দীর্ঘ, হাজার হাজার নয়, লাখো লাখো। আবু গারিব, বা গ রা_ম , গু য়ে ন্তা না মো বে বা অন্য কোথাও নির্যাতনের কারণে আমরা কখনো নিপীড়ক সেনাদের বিচার হতে দেখেনি। এ নিয়ে কখনো সোচ্চার হয়নি জাতিসংঘ কিংবা মানবাধিকার সংগঠনগুলো। আমাদের দেশের শাহবাগীদেরও এসব নিয়ে মাথাব্যথা নেই। আবার তারাই সুযোগ বুঝে নারী অধিকারের গালভরা বুলি আওড়ায়। কোন একদেশে ইসলামপন্থীরা মুসলিম নারীদের হিজাব পড়ার ল করলে এই সেকুশ্রেণী সব গেলো গেলো বলে চিৎকার শুরু করে।

আবার এরাই পশ্চিমা কর্তৃক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে মুসলিম নারীদের ধ র্ষ ণের ব্যাপারে নিরব হয়ে যায়। পশ্চিমা স্ক্যান্ডিনেভিয়ান রাষ্ট্রে বিদ্যালয়ে মুসলিম মেয়েদের বিকিনি পড়ে ছেলে সহপাঠীদের সাথে সুইমিংপুলে নামতে আইন করে বাধ্য করা হলে কোন অসুবিধা নেই, বোরকা নি ষি দ্ধ করলে অসুবিধা নেই, অসুবিধা কেবল ইসলামী রা ষ্ট্রে মুসলিমদের জন্য হিজাব বাধ্যতামূলক হলে। তাদের কাছে নগ্নতায় সমস্যা নেই, সমস্যা কেবল শালীন পোশাকে, সৌন্দর্য বিলিয়ে না বেড়ানোতে।

নগ্নতা, অশ্লীলতা, ব্যভিচার, ধ র্ষ ণ যদি হয় নারী অধিকার, নারী স্বাধীনতা। তাহলে এমন স্বাধীনতা আমাদের প্রয়োজন নেই। নারীরা আমাদের মা, বোন, মেয়ে‌। তোমাদের কাছে নারীর ইজ্জত, আব্রু, সম্মানের মূল্য না থাকতে পারে, আমাদের কাছে আমাদের নারীরা অনেক দামী, অনেক বেশি মূল্যবান।

আমাদের কাছে নারীরা শস্তা বিজ্ঞাপন বা প্রদর্শনের বস্তু নয়। আমরা নারীর রূপ, লাবণ্যকে পুঁজি জ্ঞান করে করে নারীব্যবসা, বিজ্ঞাপনের মডেল তথা পণ্য হিসেবে উপস্থাপনের পক্ষেই নই। আমরা নারীর ইজ্জত আব্রু হেফাজতের পক্ষে‌। আল্লাহ প্রদত্ত হিজাবের পক্ষে। আমাদের নিজ নিজ দৃষ্টি হেফাজতের পক্ষে‌। তাই ইসলামী শা স ন আমাদের জন্য ভীতি বা আতঙ্ক নয়, বেঁচে থাকার উত্তম এক পরিবেশের নাম।

ইসলামী শা স ন আতঙ্ক তো কেবল ব্যভিচারী, মদ্যপ, দূর্নীতিবাজ, চোর-ডাকাত আর নারীলোভীদের জন্য। আপনারা কী তারা যারা এসব অপরাধে জড়িত? না হলে ইসলামী শা স নকে ভয় পাচ্ছেন কেন? নারীদের মেকি বন্ধু সেজে ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছেন কেন? এতো প্যাচিয়ে লাভ কী! আপনারা সেকুরা নারী অধিকারের পক্ষে নাকি নগ্নতার পক্ষে স্পষ্ট করে বললেই তো হয়! এতো নেফাকি-শঠতা কেন? আসল চেহারা জাতির সামনে উন্মোচিত হয়ে যাবে তাই!

[ লেখাটির কিছু অংশ বেশ কয়েকটি সাইট থেকে সংকলন ও সম্পাদনা করা হয়েছে]

মুহতারাম- মনির আহমেদ মনির

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

6 − 3 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য