মিসরের মুসলিম শিশুদেরকে ইউরোপীয় খিস্টানদের হাতে তুলে দিয়েছিল ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। মিসরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে ১৯৭০ সালে দেশটির শিশুদেরকে অপহরণ করে ইউরোপীয় খিস্টানদের হাতে তুলে দেয় ইসরাইল। আরাবি পোস্ট বুধবার দখলদার ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের এ অপকর্মের কথা প্রকাশ করেছে। এ সকল তথ্য তখনই প্রকাশ পেয়েছে যখন ইসরাইলের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ এসব বিষয়ে তদন্ত করেছে। দেশটির রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে এভাবে দত্তক দেয়া অবৈধ।
১৯৭০ সালের দিকে উত্তর সিনাইয়ের এল-আরিশ শহরে তিন পরিত্যক্ত শিশুকে পাওয়া যায়। ওই সময় এসব শিশুকে সিনাই দখলকারী ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেয়া হয়। ওই সময়ে সিনাই এলাকার ইসরাইলি সামরিক সরকার ও দেশটির কল্যাণমন্ত্রী ওই মিসরীয় মুসলিম শিশুদের ইউরোপে পাঠিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
বর্তমানে এ বিষয়ে তদন্তের সময় এসব তথ্য প্রকাশ পায়। ইসরাইলের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে একটি আলাদা তদন্তে দেখতে পায় যে বিবাহ বহির্ভূত এক সম্পর্কের কারণে একটি মুসলিম পরিবারে এক শিশুর জন্ম হয়। ওই শিশুটিকে ইউরোপের এক খিস্টান পরিবারের কাছে পাঠায় ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। শিশুটিকে খিস্টান পরিবারের কাছে পাঠানোর ক্ষেত্রে তার মা লিখিত অনুমতি দিয়েছিলেন।
নতুন করে প্রকাশ হওয়া ওই প্রতিবেদন অনুসারে, ওই সময় ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ দু’শিশুকে ইউরোপীয় খিস্টান পরিবারের কাছে পাঠিয়েছিল। আরো দু’শিশুকে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছিল। ইসরাইলের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা দেশটির কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আইন পরামর্শকের এ বক্তব্যে সন্তুষ্ট হয়নি। এ কারণে তারা এ বিষয়টিতে নিজেদের আইন বিভাগের পরামর্শ চায়।
তখন এ বিষয়ে ইসরাইলের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের সহকারী শ্যামুয়েল হল্যান্ডার বলেন, ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ ওই শিশুদের ক্ষেত্রে যে সকল সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা (আন্তর্জাতিক)আইনের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ অবৈধ ছিল। এছাড়া এ বিষয়টি ছিল একটি অনৈতিক কর্মকাণ্ড।
সূত্র : মিডলইস্ট মনিটর
