অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যশনাল জানিয়েছে, ইথোপিয়ার সরকারি বাহিনী, আমহারা অঞ্চলের মিলিশিয়া গ্রুপ এবং ইরিত্রিয়ার বাহিনী ইথোপিয়ার উত্তরাঞ্চলের টাইগ্রেতে সংঘাতের সময়ে শত শত নারী ও মেয়েদের ধর্ষণ করছে এবং তাদের উপর অত্যাচার চালাচ্ছে ।
সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যামনেস্টি টিগ্রায়তে ধর্ষণ এবং যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন এমন ৬৩ জনের সাথে কথা বলেছে। তাছাড়া এদের বিষয়ে কাজ করছেন এমন স্বাস্থ্যকর্মীদের সাথেও কথা বলেছে অ্যামনেস্টি। প্রাণে বেঁচে গেছেন যারা তাদের মধ্যে ৩৮ জন বলেছেন ইরিত্রিয়ার সৈন্যরা এই ধর্ষণ করে।
আফ্রিকা শৃঙ্গের জন্য অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যশনালের গবেষক ফিএসহা টেকলে এসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, ‘যারা এ ঘটনার শিকার তাদের ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আটক রাখা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহ ধরে তাদের আটক রেখে সৈন্যরা ধর্ষণ করে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি সৈন্যরা তাদের উপর নৃশংস নির্যাতন চালাচ্ছিল, তাদের প্রহার করছিল এবং তাদের জাতিগত পরিচিতি তুলে অশ্লীল ভাষায় গালি-গালাজ করছিল।
ইথোপিয়া এবং ইরিত্রিয়া উভয়ই এই প্রতিবদেনের বিরুদ্ধে প্রতিক্রয়া জানিয়েছে। ইথোপিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় বুধবার এক বিবৃতিতে বলেছে, সরকার সাংঘর্ষিক পরিস্থিতিসহ সকল পরিস্থিতিতে যৌন সহিংসতার নিন্দা করে এবং এ বিষয়ে সরকারের জিরো-ট্লারেন্স নীতি রয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ইথোপিয়া এর আগেও সশস্ত্র বাহিনীর কিছু সদস্যের যৌন সহিংসতার ঘটনাগুলো স্বীকার করেছে এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কিছু পদক্ষেপও নিয়েছে।
তবে ইথোপিয়া অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সমালোচনা করেছে এই বলে যে, প্রতিবেদনটি ভুল পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়েছে এবং তারা ঢালাও ভাবে উপসংহারে পৌঁছেছে।
ফেব্রুয়ারি মাসে ইথোপিয়ার নারী বিষয়ক মন্ত্রী ফিলসান আব্দুল্লাহ আহমেদ টুইটারে লিখেছেন, টিগ্রায় এলাকায় সরকারি উদ্যোগে তৈরি একটি টাস্কফোর্স এটা নিশ্চিত করেছে যে, সেখানে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।
তিনি আরো বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল এই অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন।
এদিকে ইরত্রিয়ার তথ্যমন্ত্রী ইয়েমেনে গেব্রেমেস্কেল অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যশনালের প্রতিবেদনের সমালোচনা করে বুধবার এক টুইট বার্তায় লিখেছেন, ইরিত্রিয়ার বিরুদ্ধে তাদের বৈরি এজেন্ডা রয়েছে।
সূত্র : ভয়েচ অব আমেরিকা
