Tuesday, April 21, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদাওয়ামুহাম্মাদ (ﷺ)-এর দুনিয়াবিমুখতা

মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর দুনিয়াবিমুখতা

যুহ্দ-১ : ‘ঊছমান ইবনু মায‘ঊন (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে দুনিয়ার সম্পর্ক।

ইবনু সাঈদ মাদানী (রাহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত,

أَنّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ عَلَى عُثْمَانَ بْنِ مَظْعُوْنٍ وَهُوَ فِي الْمَوْتِ فَأَكَبَّ عَلَيْهِ يُقَبِّلُهُ وَيَقُوْلُ رَحِمَكَ اللهُ يَا عُثْمَانُ مَا أَصَبْتَ مِنَ الدُّنْيَا وَلَا أَصَابَتْ مِنْكَ

‘উছমান ইবনু মায‘ঊন (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যখন মৃত্যুশয্যায় শায়িত, তখন রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার নিকট যান এবং তার দিকে ঝুঁকে তাকে চুম্বন করেন এবং বলেন, ‘হে ‘ঊছমান! আল্লাহ তোমার প্রতি সদয় হোন! তুমি দুনিয়ার নিকট থেকে কিছু পাওনি, আর দুনিয়াও তোমার নিকট থেকে কিছু পায়নি’।[১]

যুহ্দ-২ : দুনিয়া সবুজ উদ্যানের ন্যায়।

মুছ‘আব ইবনু সা‘দ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, اِحْذَرُوا الدُّنْيَا فَإِنَّهَا خَضِرَةٌ حُلْوَةٌ ‘দুনিয়ার ব্যাপারে সাবধান হও! কেননা নিশ্চয় দুনিয়া সবুজ উদ্যানের ন্যায় সুমিষ্ট’।[২]

যুহ্দ-৩ : পাপ করা সত্ত্বেও প্রিয় জিনিসগুলো পাওয়া ধ্বংসের কারণ।

‘উক্ববাহ ইবনু ‘আমির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,

إِذَا رَأَيْتَ اللهَ يُعْطِى الْعَبْدَ مِنَ الدُّنْيَا عَلَى مَعَاصِيْهِ مَا يُحِبُّ فَإِنَّمَا هُوَ اسْتِدْرَاجٌ. ثُمَّ تَلَا رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم (فَلَمَّا نَسُوۡا مَا ذُکِّرُوۡا بِہٖ فَتَحۡنَا عَلَیۡہِمۡ اَبۡوَابَ کُلِّ شَیۡءٍ حَتّٰۤی اِذَا فَرِحُوۡا بِمَاۤ اُوۡتُوۡۤا اَخَذۡنٰہُمۡ بَغۡتَۃً فَاِذَا ہُمۡ مُّبۡلِسُوۡنَ

‘যখন তুমি দেখবে আল্লাহ তা‘আলা কোন ব্যক্তিকে তার পাপাচার সত্ত্বেও পার্থিব জীবনে তার প্রিয় বস্তুগুলো দিচ্ছেন, তখন বুঝবে তাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়ার জন্য একটি টোপমাত্র। তারপর রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিম্নোক্ত আয়াত পাঠ করলেন,

فَلَمَّا نَسُوۡا مَا ذُکِّرُوۡا بِہٖ فَتَحۡنَا عَلَیۡہِمۡ اَبۡوَابَ کُلِّ شَیۡءٍ حَتّٰۤی اِذَا فَرِحُوۡا بِمَاۤ اُوۡتُوۡۤا اَخَذۡنٰہُمۡ بَغۡتَۃً فَاِذَا ہُمۡ مُّبۡلِسُوۡنَ

‘অতঃপর তাদেরকে যা কিছু উপদেশ ও নসীহত করা হয়েছিল তা যখন তারা ভুলে গেল, তখন আমরা তাদের জন্য প্রতিটি বস্তুর দরজা উন্মুক্ত করে দিলাম, শেষ পর্যন্ত যখন তারা তাদেরকে দানকৃত বস্তু লাভ করে খুব আনন্দিত ও উল্লাসিত হল, তখন হঠাৎ একদিন আমি তাদেরকে পাকড়াও করলাম, আর তারা সেই অবস্থায় নিরাশ হয়ে পড়ল’।[৩]

যুহ্দ-৪ : দুনিয়া হল গ্রীষ্মকালীন সফরের অল্প বিরতির চেয়ে বেশি নয়।

আব্দুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,

نَامَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى حَصِيْرٍ فَقَامَ وَقَدْ أَثَّرَ فِىْ جَنْبِهِ فَقُلْنَا يَا رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم لَوِ اتَّخَذْنَا لَكَ وِطَاءً فَقَالَ مَا لِىْ وَمَا لِلدُّنْيَا مَا أَنَا فِى الدُّنْيَا إِلَّا كَرَاكِبٍ اسْتَظَلَّ تَحْتَ شَجَرَةٍ ثُمَّ رَاحَ وَتَرَكَهَا

‘রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি মাদুরে ঘুমিয়েছিলেন, যার ফলে তার পার্শ্বদেশে মাদুরের ছাপ লেগে গিয়েছিল। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আপনি কি আমাদেরকে অনুমতি দিবেন না, যে আমরা আপনার নীচে এর চেয়ে অধিক কোমল কিছু বিছিয়ে দেই? তখন তিনি বললেন, এ দুনিয়ার সাথে আমার কিসের সম্পর্ক। এ দুনিয়ার সাথে আমার সম্পর্ক হল- এমন এক অশ্বারোহীর ন্যায় যে প্রচ- গরমের একদিন ভ্রমণে বের হয়ে একপর্যায়ে একটি গাছের নীচে কিছু সময় নিদ্রা গেল, তারপর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে সেখান থেকে আবার চলে গেল’।[৪]

যুহ্দ-৫ : আল্লাহর প্রিয় বান্দার পার্থিব অবস্থা

সালিম ইবনু আবুল জা‘দ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,

إِنَّ مِنْ أُمَّتِيْ مَنْ لَوْ أَتَى بَابَ أَحَدِكُمْ فَسَأَلَهُ دِيْنَارًا لَمْ يُعْطِهِ وَإِذَا سَأَلَهُ دِرْهَمًا لَمْ يُعْطِهِ وَلَوْ سَأَلَهُ فِلْسًا لَمْ يُعْطِهِ وَلَوْ سَأَلَ اللهَ الْجَنَّةَ أَعْطَاهَا اللهُ إِيَّاهُ وَلَوْ سَأَلَ الدُّنْيَا لَمْ يُعْطِهَا إِيَّاهُ لِهَوَانِهَا عَلَيْهِ ذُوْ طِمْرَيْنِ لَا يُؤْبَهُ لَهُ لَوْ أَقْسَمَ عَلَى اللهِ لَأَبَرَّهُ

‘আমার উম্মতের মধ্যে এমন ব্যক্তি আছে, যদি সে তোমাদের কারো দরজায় এসে স্বর্ণমুদ্রা চায়, সে তাকে তা দিবে না; রৌপ্যমুদ্রা চাইলেও দিবে না; এমনকি পয়সা চাইলেও দিবে না। অথচ সে যদি আল্লাহর নিকট জান্নাত চায় আল্লাহ তাকে অবশ্যই দিবেন; কিন্তু সে যদি আল্লাহর নিকট দুনিয়া চায়, তাহলে আল্লাহ তাকে দিবেন না। তাকে দুনিয়া থেকে বঞ্চিত করার কারণে (দিবেন না) তা নয়, বরং তার পদমর্যাদা আল্লাহর নিকট তুচ্ছ। (ঐ ব্যক্তি) দু’খ- জীর্ণ বস্ত্রের অধিকারী, পোশাকের ব্যাপারে তার কোন বিশেষ আকর্ষণ নেই। তবে সে যদি আল্লাহর নামে কোন কিছুই শপথ করে, তাহলে আল্লাহ অবশ্যই তার শপথ বাস্তবায়ন করবেন’।[৫]


তথ্যসূত্র :
[১]. হিলইয়াতুল আওলিয়া, ১ম খণ্ড, পৃ. ১০৫; জামি‘ঊল আহাদীছ, হা/১২৭৩৭।
[২]. আয-যুহ্দ, হা/৬১; সনদ ছহীহ, সিলসিলা ছহীহাহ, হা/৯১০; ছহীহুল জামে‘, হা/১৯২।
[৩]. সূরা আল-আন‘আম : ৪৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৭৩৪৯; মিশকাত, হা/৫২০১; সনদ ছহীহ, সিলসিলা ছহীহাহ, হা/৪১৩।
[৪]. তিরমিযী, হা/২৩৭৭; ইবনু মাজাহ, হা/৪১০৯; মিশকাত, হা/৫১৮৮; সনদ ছহীহ, সিলসিলা ছহীহাহ, হা/৪৩৮।
[৫]. ত্বাবারাণী, আল-মু‘জামুল আওসাত্ব, হা/৭৫৪৮; সনদ ছহীহ, সিলসিলা ছহীহাহ, হা/২৬৪৩।

যুহদ-৬ : জান্নাতবাসীদের দুনিয়াবিমুখতা।

আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, أَلَا أُنَبِّئُكُمْ بِأَهْلِ الْجَنَّةِ كُلُّ ضَعِيْفٍ مُتَضَاعِفٍ ذِيْ طِمْرَيْنِ لَوْ يُقْسِمُ عَلَى اللهِ لأَبَرَّهُ ‘আমি কি তোমাদেরকে জান্নাতবাসীদের সম্পর্কে অবহিত করব না? প্রত্যেক দুর্বল ও চরম অবহেলিত ব্যক্তি, দু’টুকরা জীর্ণ বস্ত্রের অধিকারী। সে যদি আল্লাহর নামে কোন কিছুর শপথ করে, আল্লাহ অবশ্যই তার শপথ বাস্তবায়ন করবেন’।[১]

যুহদ-৭ : বিছানা।

হাসান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ فِرَاشُهُ عَبَاءَةً وَوِسَادَةً مُرَقَّعَةً حَشْوُهَا لِيْفٌ ‘রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বিছানা ছিল উলের তৈরি আলখাল্লা-সদৃশ একটি কম্বল ও আঁশভর্তি একটি বালিশ, যা ছিল তালি দেয়া’।[২]

যুহদ-৮ : অহঙ্কার মুক্ত থাকার উপায়।

আব্দুল্লাহ ইবনু শাদ্দাদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,

مَنْ لَبِسَ الصُّوْفَ وَاعْتَقَلَ الشَّاةَ وَرَكِبَ الْحِمَارَ وَأَجَابَ دَعْوَةَ الرَّجُلِ الدُّوْنِ أَوِ الْعَبْدِ لَمْ يُكْتَبْ عَلَيْهِ مِنَ الْكِبْرِ شَيْءٌ

‘যে ব্যক্তি উলের বস্ত্র পরিধান করে, ভেড়া বাঁধে, গাধায় চড়ে ও দরিদ্র মানুষ কিংবা দাসের ডাকে সাড়া দেয়, তার বিরূদ্ধে অহঙ্কারসূচক কিছুই লিখা হয় না’।[৩]

যুহদ-৯ : উম্মুল মুমিনীনগণ ছয়-সাত দিরহাম মূল্যের চাদর গায়ে দিতেন।

হাসান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

كَانَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي فِيْ مُرُوْطِ نِسَائِهِ وَكَانَ مُرُطُهُنَّ أَكْسِيَةً مِنْ صُوْفٍ لَهَا أَعْلَامٌ مِنْ صُوْفٍ أَثْمَانُ سِتَّةِ دَرَاهِمَ أَوْ سَبْعَةِ

‘রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার স্ত্রীদের চাদর গায়ে দিয়ে ছালাত আদায় করতেন। তাদের চাদর ছিল উলের। চাদরের মধ্যেই উল দিয়ে দাম লেখা থাকত, ছয় বা সাত দিরহাম’।[৪]

যুহদ-১০ : শুধু একটি তোশকে শয়ন করতেন।

ইসমাঈল ইবনু উমাইয়া (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত,

أَنَّ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا صَنَعَتْ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِرَاشَيْنِ فَأَبَى أَنْ يَضْطَجِعَ إِلَّا عَلَى وَاحِدٍ

‘আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য দু’টি তোশক বানালেন। নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কেবল একটি তোশকের উপর শয়ন করলেন’।[৫]

যুহদ-১১ : আরামদায়ক বিছানা ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

دَخَلَتْ عَلَيَّ امْرَأَةٌ مِنَ الْأَنْصَارِ فَرَأَتْ فِرَاشَ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَبَاءَةً مُثَنَّاةً فَانْطَلَقَتْ فَبَعَثَتْ إِلَيَّ بِفِرَاشٍ حَشْوهُ الصُّوْفُ فَدَخَلَ عَلَيَّ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ مَا هَذَا؟ فَقُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ فُلَانَةُ الْأَنْصَارِيَّةُ دَخَلَتْ عَلَيَّ فَرَأَتْ فِرَاشَكَ فَانْطَلَقَتْ فَبَعَثَتْ إِلَيَّ بِهَذَا قَالَ رُدِّيهِ فَلَمْ أَرُدَّهُ وَأَعْجَبَنِيْ أَنْ يَكُوْنَ فِيْ بَيْتِيْ حَتَّى قَالَ ذَلِكَ مِرَارًا قَالَ وَاللهِ يَا عَائِشَةَ لَوْ شِئْتُ لَأَجْرَى اللهُ مَعِي جِبَالَ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ فَرَدَدْتُهُ إِلَيْهَا

‘এক আনছার মহিলা আমার কক্ষে প্রবেশ করে দেখতে পেল, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর তোশক হল- দুই ভাজ করা আলখাল্লা-সদৃশ একটি উলের কম্বল। এ দৃশ্য দেখে সে তার ঘরে গিয়ে উলভর্তি একটি তোশক আমার নিকট পাঠিয়ে দিল। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার কক্ষে এসে জিজ্ঞেস করলেন, এটি কী? আমি বললাম, অমুক আনছার মহিলা আমার কক্ষে প্রবেশ করেছিল। সে আপনার বিছানা দেখে এটি পাঠিয়েছে। নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এটি ফেরত পাঠিয়ে দাও। তবে আমি ফেরত পাঠাইনি; তোশকটি আমাকে মুগ্ধ করেছিল; আমি চাচ্ছিলাম, এটি আমার ঘরে থাকুক। শেষ পর্যন্ত এটি ফেরত পাঠাতে নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে তিনবার নির্দেশ দিয়ে বললেন, আয়েশা! এটি ফেরত দিয়ে দাও। আল্লাহর শপথ! আমি চাইলে, আল্লাহ তা‘আলা স্বর্ণ ও রৌপ্যের পাহাড়কে আমার সাথে চলমান করে দিতেন। পরিশেষে আমি তা ফেরত পাঠিয়ে দিই’।[৬]

যুহদ-১২ : তুচ্ছ পাপের ব্যাপারেও সাবধান।

আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বলতেন, يَا عَائِشَةُ إِيَّاكِ وَمُحَقَّرَاتِ الْأَعْمَالِ فَإِنَّ لَهَا مِنَ اللهِ طَالِبًا ‘হে আয়েশা! সেসব পাপের ব্যাপারে সাবধান হও-লোকেরা যেগুলোকে তুচ্ছ মনে করে; কারণ সে সেগুলোর জন্যও আল্লাহরও পক্ষ থেকে কৈফিয়ত তলব করা হবে’।[৭]

[১]. মুসনাদে আহমাদ, হা/১৮৭৫০; সনদ ছহীহ, ছহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৩১৯৬।
[২]. ইমাম আহমাদ, কিতাবুল যুহ্দ, হা/৭১।
[৩]. আদ-দুররুন মানছূর, ৫ম খণ্ড , পৃ. ১২৪; ইমাম আহমাদ, কিতাবুল যুহ্দ, হা/৭৩।
[৪]. সুবুলুল হাদী ওয়ার রাশাদ, ৭ম খণ্ড, পৃ. ৭৯।
[৫]. কিতাবুয যুহ্দ, হা/৭৫।
[৬]. তারকাতুন নাবী, হা/৪২।
[৭]. ইবনু মাজাহ, হা/৪২৪৩; মিশকাত, হা/৫৩৫৬; সনদ ছহীহ, সিলসিলা ছহীহাহ, হা/৫১৩।

যুহদ-১৩ : একত্রিত ছোট পাপসমূহ ধ্বংসাত্মক।
আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,

إِيَّاكُمْ وَمُحَقَّرَاتِ الذُّنُوْبِ فَإِنَّهُنَّ يَجْتَمِعْنَ عَلَى الرَّجُلِ حَتَّى يُهْلِكْنَهُ وَإِنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ضَرَبَ لَهُنَّ مَثَلًا كَمَثَلِ قَوْمٍ نَزَلُوْا أَرْضَ فَلَاةٍ فَحَضَرَ صَنِيْعُ الْقَوْمِ فَجَعَلَ الرَّجُلُ يَنْطَلِقُ فَيَجِىءُ بِالْعُوْدِ وَالرَّجُلُ يَجِىءُ بِالْعُوْدِ حَتَّى جَمَعُوْا سَوَادًا فَأَجَّجُوْا نَارًا وَأَنْضَجُوْا مَا قَذَفُوْا فِيْهَا

‘সে সব পাপের ব্যাপারে সাবধান হও- যেগুলোকে লোকেরা তুচ্ছ মনে করে। কারণ সেগুলো একত্রিত হয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ধ্বংস করে ছাড়বে। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেসব পাপের জন্য একটি উদাহরণ পেশ করেছেন- একদল লোক একটি মরু অঞ্চলে প্রবেশ করল। কাজের পালা আসলে কয়েকজন গিয়ে কিছু কাঠ নিয়ে আসল; অপর কয়েকজন গিয়ে আরো কাঠ সংগ্রহ করল। এভাবে তারা বিপুল পরিমাণ কাঠ একত্রিত করে আগুন জ্বালাল এবং ভালোভাবে রান্না সম্পন্ন করে নিল’।[১]

যুহদ-১৪ : কথা বলার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা।

আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,

إِنَّ أَحَدَكُمْ لَيَتَكَلَّمُ بِالْكَلِمَةِ وَمَا يَرَى أَنَّهَا تَبْلُغُ حَيْثُ بَلَغَتْ يَهْوِي بِهَا فِي النَّارِ سَبْعِيْنَ خَرِيْفًا

‘তোমাদের মধ্যে কেউ এমন কথা বলে, যার ব্যাপারে সে অনুমান করতে পারে না তা কোথায় পৌঁছে যাচ্ছে। কেননা এই কথার কারণে তাকে জাহান্নামের ভেতর সত্তর বছর দূরত্বে নিক্ষেপ করা হবে’।[২]

বিলাল ইবনুল হারিছ মুযানী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,

إِنَّ الرَّجُلَ لَيَتَكَلَّمُ بِالْكَلِمَةِ مِنْ رِضْوَانِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ مَا يَظُنُّ أَنْ تَبْلُغَ مَا بَلَغَتْ يَكْتُبُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ لَهُ بِهَا رِضْوَانَهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيَتَكَلَّمُ بِالْكَلِمَةِ مِنْ سَخَطِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ مَا يَظُنُّ أَنْ تَبْلُغَ مَا بَلَغَتْ يَكْتُبُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ بِهَا عَلَيْهِ سَخَطَهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ. قَالَ فَكَانَ عَلْقَمَةُ يَقُوْْلُ كَمْ مِنْ كَلَامٍ قَدْ مَنَعَنِيْهِ حَدِيْثُ بِلَالِ بْنِ الْحَارِثِ

‘কোনো ব্যক্তি এমন কথা বলে, যার ফলে আল্লাহ তা‘আলা সন্তুষ্টি হন। সে ধারণা করতে পারবে না, তার কথা কোথায় কোথায় পৌঁছে যাবে। উক্ত কথার কারণে আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য ক্বিয়ামত পর্যন্ত নিজের সন্তুষ্টির কথা লিখতে থাকবেন। আর কোন ব্যক্তি এমন কথা বলে যা আল্লাহর ক্রোধের উদ্রেক ঘটায়; সে ধারণা করতে পারবে না, তার কথা কোথায় কোথায় পৌঁছে যাবে। উক্ত কথার কারণে ক্বিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহ তা‘আলা তার বিরুদ্ধে নিজের ক্রোধের কথা লিখতে থাকবেন’।[৩]

যুহ্দ-১৫ : পরকালে মুক্তি লাভের উপায়।
আবূ উমামা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উক্ববাহ ইবনু ‘আমির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) জিজ্ঞেস করলেন,

يَا رَسُوْلَ اللهِ مَا النَّجَاةُ قَالَ أَمْسِكْ عَلَيْكَ لِسَانَكَ وَلْيَسَعْكَ بَيْتُكَ وَابْكِ عَلَى خَطِيئَتِكَ

‘হে আল্লাহর রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! নাজাত বা মুক্তি কিসে? নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমার জিহ্বাকে আটকে রাখো, ঘরে যা কিছু আছে তাতেই সন্তুষ্ট থাকো, আর নিজের পাপ স্মরণ করে কাঁদো’।[৪]

যুহ্দ-১৬ : ফজরের ছালাত শেষে সূর্যোদয় পর্যন্ত মুছাল্লায় বসে থাকা।
জাবির ইবনু সামুরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

كَانَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا صَلَّى الْفَجْرَ قَعَدَ فِيْ مُصَلَاهُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ

‘রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফজরের ছালাত আদায় শেষে সূর্যোদয়ের আগ পর্যন্ত সালাতের জায়গায় বসে থাকতেন’।[৫]

যুহ্দ-১৭ : এক রাক‘আত হলেও রাতের ছালাত আদায় করা।
ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, عَلَيْكُمْ بِصَلَاةِ اللَّيْلِ وَلَوْ رَكْعَةً وَاحِدَةً ‘এক রাক‘আত হলেও রাতের ছালাত আদায় করো’।[৬]


তথ্যসূত্র :
[১]. মুসনাদে আহমাদ, হা/৩৮১৮; সনদ ছহীহ, সিলসিলা ছহীহাহ, হা/৩৮৯।
[২]. মুসনাদে আহমাদ, হা/৮৬৪৩, শু‘আইব আরনাঊত বলেন, ছহীহ। এই হাদীছের সনদের সকল রাবী ছিকাহ এবং ছহীহ বুখারী ও ছহীহ মুসলিমের রাবী।
[৩]. মুসনাদে আহমাদ, হা/১৫৮৯০; সনদ ছহীহ, সিলসিলা ছহীহাহ, হা/৮৮৮।
[৪]. তিরমিযী, হা/২৪০৬, সনদ ছহীহ।
[৫]. তিরমিযী, হা/৫৮৫; নাসাঈ, হা/১৩৫৭, সনদ ছহীহ।
[৬]. ত্বাবারাণী, আল-মু‘জামুল আওসাত, হা/৬৮২১, সনদ ছহীহ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

four × three =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য