Sunday, May 31, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরমোদি সরকারের নীতির ফলে আদানির মতো বড় সংস্থাগুলোর কি লাভ হচ্ছে?

মোদি সরকারের নীতির ফলে আদানির মতো বড় সংস্থাগুলোর কি লাভ হচ্ছে?

ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ভিরাল আচারিয়া যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ব্রুকিংস ইন্সটিটিউশনের এক নতুন গবেষণাপত্রে দেশের শিল্পনীতি নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, ভারতীয় অর্থনীতিতে বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাধান্য রয়েছে। দেশের বাণিজ্যে বড় গোষ্ঠীগুলোর বড় অংশীদারিত্ব আছে। কিন্তু এটা অর্থনীতির জন্য ঠিক নয়।

গবেষণাপত্রে ভিরাল আচারিয়া লিখেছেন, ‘যদি আমরা চাই যে ভারতে ব্যবসা বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ুক আর বড় ব্যবসায়িক গোষ্ঠীগুলো তাদের উৎপাদিত পণ্য বা পরিষেবা বেশি দামে না বিক্রি করে, তাহলে ওই বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর আকার ছোট করতে হবে।’

বর্তমানে নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টার্ন স্কুল অব বিজনেসের অর্থনীতির অধ্যাপক আচারিয়ার মতে, ১৯৯১ সালে অর্থনীতির উদারীকরণের পর থেকেই ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল কনসেন্ট্রেশন’ কমে আসছিল।

‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল কনসেন্ট্রেশন’ এমন একটা অবস্থা, যেখানে দেশের মোট উৎপাদনের ওপরে কয়েকটি মাত্র সংস্থা আধিপত্য বিস্তার করে।

তবে ২০১৫ সালের পর থেকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল কনসেন্ট্রেশন আবারো বাড়তে শুরু করেছে।

রিলায়েন্স, আদানি, টাটা, আদিত্য বিড়লা ও ভারতি এয়ারটেল- যদি এই পাঁচ বড় শিল্প গোষ্ঠীর ২০২১ সালের অবস্থার দিকে তাকানো যায়, তাহলে দেখা যাবে যে আর্থিক ক্ষেত্রের বাইরে তাদের সম্পত্তির অংশীদারিত্ব প্রায় ১৮ শতাংশে পৌঁছে গেছে। ১৯৯১ সালে এর পরিমাণ ছিল ১০ শতাংশ।

ভিরাল আচারিয়া বলছেন, ‘এই সংস্থাগুলো যে শুধু ছোট ছোট সংস্থাকে শেষ করে দিয়ে নিজেরা বড় হয়েছে, তা নয়। এই পাঁচটি সব থেকে বড় সংস্থা নিজেদেরও ক্ষতি করেই বড় হয়েছে। বাজারে এই সংস্থা পাঁচটির অংশীদারিত্ব ১৮ শতাংশ থেকে কমে নয় শতাংশ হয় গেছে।’

অধ্যাপক আচারিয়ার মতে এর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। বড় সংস্থাগুলো সমস্যায় পড়া ছোট সংস্থা কিনে নেয়া বা অধিগ্রহণ করার ক্রমবর্ধমান আকাঙ্ক্ষা যেমন একটা কারণ, তেমনই আবার সরকারের পক্ষ থেকে এমনভাবেই শিল্পনীতি তৈরি করা হয়, যাতে বড় সংস্থাগুলোকেই সরকারি প্রকল্পগুলো ভাগ করে দেয়া যায়।

আবার ওইসব বড় সংস্থাগুলো তাদের উৎপাদিত পণ্য বা পরিষেবার মূল্য অকল্পনীয়ভাবে কম রাখে, আর সরকারি নিয়ন্ত্রক অ্যাজেন্সিগুলো সাধারণত এসব না দেখার ভান করে।

অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকারক
ভিরাল আচারিয়া লিখছেন, ‘এই প্রবৃত্তি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ক্রোনি ক্যাপিটালিজম তৈরি হয়, যেখানে রাজনৈতিক সম্পর্ককে ব্যবহার করে ব্যবসায়িক প্রকল্প যোগাড় করে ফেলা যায়।’

এই অবস্থায় করপোরেট সংস্থাগুলোর অভ্যন্তরেই বেআইনি লেনদেন হতে থাকে। সরকার বা রাজনৈতিক নেতৃত্বের সাথে সখ্যতা আছে, এমন সংস্থাগুলোকে ব্যাংকও বেশি বেশি করে ঋণ দেয়।

সংস্থাগুলো সেই ঋণের অর্থে নিজেদের ব্যবসা বাড়িয়ে চলে, অন্যদিকে প্রতিযোগী সংস্থাগুলোর পক্ষে লড়াইটা অনেক কঠিন হয় দাঁড়ায়।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাবেক ভারত-প্রধান জোশ ফেলম্যান এই প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘ এ ধরনের ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন সংস্থাগুলো খুব সহজেই ওভার লেভারেজ হয়ে যায় আর তারপরে একটা সময়ে সংস্থাগুলো ধরাশায়ী হয়ে যায়।’

সম্প্রতি ভারতে আদানি গোষ্ঠীর সম্পর্কিত হিন্ডেনবার্গ রিপোর্টে প্রয়োজনের থেকে বেশি লেভারেজের ব্যাপারেও প্রশ্ন তোলা হয়েছিল।

ফেলম্যান বলছিলেন, ‘এর ফলে একটি দেশের অর্থনীতির ওপরে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যায়। বেশ কিছু এশিয় দেশে আমরা এটা হতে দেখেছি। যেমন ১৯৯৮ সালে ইন্দোনেশিয়ায় হয়েছিল।’

অর্থনীতিবিদ নোরিয়েল রোবিনি ফেব্রুয়ারিতে এক প্রবন্ধে লিখেছেন, ভারতে ‘জাতীয় চ্যাম্পিয়ন’ এবং বড় ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক পরিবারগুলোর হাতে অর্থনীতির একটা বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। এই নীতিতে চলার কারণে ওই সব বড় ব্যবসায়িক পরিবারগুলো নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রটিও দখল করে ফেলেছে আর তা থেকে নিজেরা লাভবান হচ্ছে।

‘জাতীয় চ্যাম্পিয়ন’ সংস্থা তৈরির নীতিতে সমস্যা কোথায়?
ভারতে যেভাবে ‘জাতীয় চ্যাম্পিয়ন’ সংস্থাগুলোকে বাড়তি গুরুত্ব দেয়ার নীতি নেয়া হয়েছে, ১৯৯০ এর দশকে চীন, ইন্দোনেশিয়া আর দক্ষিণ কোরিয়াও একই নীতি নিয়েছিল।

এই ধরনের সংস্থাগুলো কোনো পরিবার দ্বারা পরিচালিত বিশালাকার ব্যবসায়িক গোষ্ঠীই হয়ে থাকে। যেমন স্মার্টফোন প্রস্তুতকারক সংস্থা স্যামসাং একটি পরিবার দ্বারা পরিচালিত গোষ্ঠী।

ভিরাল আচারিয়া বলছেন, ‘ভারতের মতো ওইসব দেশগুলো বড় সংস্থাগুলোকে রক্ষা করার জন্য বড় মাত্রায় শুল্ক চাপানোর পথে হাঁটেনি।’

আবার অন্যদিকে ভারত দেশীয় সংস্থা আর বড় ব্যবসায়িক গোষ্ঠীগুলোকে বিশ্ববাজারের প্রতিযোগিতা থেকে রক্ষা করতে রক্ষণশীল নীতি আরো বেশি করে চালু করছে। আর এইসব নীতির ফলেই বিশ্বের একটা গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে ভারতের উঠে আসার প্রচেষ্টার ওপরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

আচারিয়া ও রোবিনি দুজনেই বলছেন যে ভারত যদি বিশ্ব বাজারে বড় প্রতিযোগী দেশ হয়ে উঠতে চায়, তাহলে তাদের শুল্ক কমাতে হবে আর ‘চায়না প্লাস ওয়ান’ বাণিজ্য প্রবণতার সুবিধা নিতে হবে।

চায়না প্লাস ওয়ান নীতিতে বড় সংস্থাগুলো তাদের উৎপাদন কেন্দ্রসমূহ ভারত আর ভিয়েতনামের মতো দেশে সরিয়ে নিতে চায়।

ভিরাল আচারিয়ার মতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল কনসেন্ট্রেশনের প্রভাব দেশীয় অর্থনীতির ওপরে পড়ার সম্ভাবনা আছে। বাজারে ‘বিগ ফাইভ’ সংস্থাগুলোর ক্রমবর্ধমান শক্তি কোর ইনফ্লেশান রেটের হার চড়িয়েই রাখবে।

আচারিয়া তার গবেষণাপত্রে লিখেছেন, ‘যদিও এ নিয়ে বিস্তারিত গবেষণার সুযোগ আছে, তবে এটা তো দেখাই যাচ্ছে যে বাজারে নিজের শক্তি দেখিয়ে কম বিনিয়োগ করে বেশি লাভ ঘরে তোলার প্রবণতার মধ্যে একটা আন্তঃসম্পর্ক তো আছেই।’

তিনি আরো বলছেন যে ভারতের বড় সংস্থাগুলোর কাছে দাম নির্ধারণের বিশাল ক্ষমতা রয়েছে। এর ফলেই তারা নিজের শিল্পক্ষেত্রে অন্য সংস্থার থেকে অনেক বেশি লাভবান হয়।

দাম নির্ধারণের ক্ষমতা প্রয়োগ করে বড় সংস্থাগুলো দীর্ঘ সময় ধরে তাদের উৎপাদিত পণ্য আর পরিষেবার মূল্য কম করে রাখতে পারে, যার ফলে প্রতিযোগী সংস্থাগুলোর বাজারে টিকে থাকা কঠিন হয়ে যায়।

তবে অন্য কয়েকজন অর্থনীতিবিদ ওই আন্তঃসম্পর্কের ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

ফেলম্যান বলছেন, ‘পাঁচটি বড় শিল্প গোষ্ঠী যদি নতুন কোনো শিল্পে প্রবেশ করে, তাহলে তারা নিঃসন্দেহে আরো বড় হয়ে উঠবে। কিন্তু সেইসব ক্ষেত্রে আগে থেকেই যেসব প্রতিযোগী সংস্থা আছে, তারাও বড় হওয়ার সুযোগ পাবে, আর এর ফলে পণ্য বা পরিষেবার দাম কমবে।’

উদাহরণ হিসেবে তিনি রিলায়েন্স গোষ্ঠীর সংস্থা জিও’র টেলিকম ক্ষেত্রে প্রবেশর কথা বলছিলেন। তারা ওই ক্ষেত্রে প্রবেশ করতেই অন্য সংস্থাও কিন্তু পরিষেবার দাম অনেকটা কমিয়ে দিয়েছিল।

ব্যাংক অফ বড়োদার মুখ্য অর্থনীতিবিদ মদন সবনউইশ মনে করেন, এই তত্ত্বের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় না।

তার কথায়, ‘বিমান চলাচল সেক্টরের দিকে তাকালে দেখা যাবে যে ওই পাঁচটি বড় গোষ্ঠীর কোনোটিই এই সেক্টরে ব্যবসা করে না। সেখানে কিন্তু অনেক ছোট সংস্থারই আধিপত্য রয়েছে। তবুও বিমান ভাড়া কিন্তু বেড়েই চলেছে।’

তিনি বলছিলেন, যে সব শিল্প ক্ষেত্র ‘কোর ইনফ্লেশান’ বাড়িয়ে দেয়, এই পাঁচটি বড় সংস্থার উপস্থিতি সেইসব ক্ষেত্রে নেই। যেমন, বিনোদন শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে ওই সংস্থাগুলোর ব্যবসা নেই।

সূত্র : বিবিসি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

6 + 1 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য