আফগানিস্তানে তালেবান পতনের পর যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত নিরাপত্তা বাহিনী Afghan National Security Forces (ANSF) ও যুদ্ধবাজ নেতাদের (Northern Alliance) মধ্যে শিশুদের ওপর ভয়াবহ যৌন নির্যাতনের সংস্কৃতি ‘বাচ্চা বাজি’ ব্যাপকভাবে চালু ছিল। এমন তথ্য উঠে এসেছে মার্কিন ও আন্তর্জাতিক একাধিক তদন্ত প্রতিবেদনে।
আফগানিস্তানে প্রচলিত ‘বাচ্চাবাজি’ নামের প্রথার আক্ষরিক অর্থ ‘ছেলেদের সঙ্গে খেলা’। এই প্রথায় কিছু কিশোরকে জোরপূর্বক নিয়োগ, ক্রয় বা অপহরণ করা হয়। তাদের মেয়েদের মতো সাজিয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সামনে নাচতে বাধ্য করা হয়। পরে এসব কিশোর গুরুতর যৌন নির্যাতনের শিকার হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে একাধিক ব্যক্তির দ্বারা নির্যাতিত হয়।। এই নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটির ভেতরেও।
মার্কিন বিশেষ বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ড্যান কুইন জানান, ২০১১ সালে তিনি আফগান এক পুলিশ কমান্ডারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন, যে একটি কিশোরকে আটকে রেখে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন করেছিল। ওই ঘটনার পর কুইনকে উল্টো তার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
কুইন ফক্স নিউজকে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি একজন কিশোরকে প্রায় সাত থেকে দশ দিন জোরপূর্বক নিজের ঘরে আটকে রেখে ধারাবাহিকভাবে গুরুতর যৌন নির্যাতন চালায়। পরে ভুক্তভোগী ও ছেলেটির মা তাদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানান। এরপর তারা ওই কমান্ডারকে নিজেদের ঘাঁটিতে নিয়ে এসে জবাবদিহির মুখোমুখি করেন।।
CNN ও নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কুইন বলেন,
“আমাদের বলা হয়েছিল চোখ বন্ধ রাখতে। বলা হয়েছিল এটা তাদের সংস্কৃতি, আমরা হস্তক্ষেপ করলে স্থানীয় সরকারের কর্তৃত্ব নষ্ট হবে।”
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের নথি অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে অন্তত ৫,৭৫৩ বার আফগান ইউনিটগুলোর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ পর্যালোচনা করা হয়। কিন্তু একবারও কোনো ইউনিটের বিরুদ্ধে সামরিক সহায়তা বন্ধ করা হয়নি।
২০১৫ সালে মার্কিন সরকারের নিজস্ব সংস্থা SIGAR (Special Inspector General for Afghanistan Reconstruction) এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করে যে আফগান ন্যাশনাল সিকিউরিটি ফোর্সেসের ভেতরে শিশু নির্যাতন ছিল নিয়মিত ঘটনা, এবং মার্কিন সেনারা বিষয়টি জানলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি।
এক সাবেক মার্কিন সেনা বলেন,
“আমরা এমন লোকদের ক্ষমতায় বসিয়েছিলাম যারা তালেবানের চেয়েও ভয়ংকর কাজ করত।”
তালেবান শাসনামলে (১৯৯৬–২০০১) এই প্রথা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ছিল এবং প্রকাশ্যে দমন করা হত। কিন্তু ২০০১ সালের পর যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত অনেক যুদ্ধবাজ আবার এই প্রথা ফিরিয়ে আনে। ২০২১ সালে ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের পর তালেবান সরকার বাচ্চাবাজী প্রথাকে পুনরায় আইনিভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।
পশ্চিমাদের এই নীরবতা হাজার হাজার শিশুর জীবন ধ্বংস করেছে এবং আফগানিস্তানে পশ্চিমা হস্তক্ষেপের নৈতিক ভিত্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
সোর্স: WBUR, নিউইউর্ক টাইমস
