Sunday, April 26, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরআন্তর্জাতিকযুদ্ধ পরবর্তী নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলাতে ফিলিস্তিনিদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে মিশর

যুদ্ধ পরবর্তী নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলাতে ফিলিস্তিনিদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে মিশর

যুদ্ধ পরবর্তী গাজ্জায় নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলাতে ফিলিস্তিনিদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে মিশর।

মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে একথা জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক ভাবে ফিলিস্তিনের বৈধ সরকার হিসেবে স্বীকৃত পশ্চিম তীরের মাহমুদ আব্বাস সরকারের অনুগত লোকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে মিশর, যেনো তারা ইসরাইল-হামাস যুদ্ধ শেষে গাজ্জার নিরাপত্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাতে পারে।

ফিলিস্তিনের প্রতিবেশী দেশটি জানায়, ১৯৯৩ এর অসলো চুক্তির ধারা অনুসরণ করে তারা এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করছেন, যেখানে মিসর ও জর্ডান ফিলিস্তিনি পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলো। নতুন করে গত কয়েক মাস যাবত এই প্রশিক্ষণ চলছে। এটি মিশর কর্তৃক যুদ্ধ পরবর্তী গাজ্জা পুনর্গঠন ও শাসনব্যবস্থা বিষয়ক পরিকল্পনার অংশ বলেও জানানো হয়।

গত এপ্রিলে মিশর ও ফিলিস্তিনি গণমাধ্যম জানায়, মিশরের পুনর্গঠন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (PA) ৩০০ নিরাপত্তা কর্মীকে কায়রোতে পাঠানো হয়েছে।যার মধ্যে ১০০ জন ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা, অপর ১০০ জন জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা, ৫০ জন প্রতিরোধ নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং বাকি ৫০ জন গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

একজন মিশরীয় নিরাপত্তা সূত্র মিডল ইস্ট আইকে জানিয়েছেন, “সব প্রশিক্ষণার্থীরাই ফাতাহর সঙ্গে যুক্ত এবং মাহমুদ আব্বাসের গঠিত সরকার পিএ (প্যালেস্টাইন অথোরিটি) এর প্রতি অনুগত।”

তিনি আরো জানান, “কায়রো, মুহাম্মদ দাহলানের প্রতি অনুগত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত না করার চেষ্টা করেছে, যেনো পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ ভিত্তিক সরকারের আপত্তি এড়ানো যায় এবং সৌদি সমর্থন নিশ্চিত করা যায়।”

এছাড়া জর্ডানেও কিছু সংখ্যক ফিলিস্তিনিকে গাজ্জার নিরাপত্তা ও নিরাপত্তা প্রশাসনের দায়িত্ব সামলানোর জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

মিশরের পুনর্গঠন পরিকল্পনা

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজ্জায় ইসরাইলী গণহত্যা অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে মিশর গাজ্জার তরুণদের প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছে। প্রশিক্ষণ নেওয়া এসব ফিলিস্তিনিদের কেউ কেউ মিশরে বসবাস ও পড়াশোনা করছিলেন। কেউ যুদ্ধ শুরুর পর কায়রোতে পালিয়ে এসেছিলেন। আগত ফিলিস্তিনিদের অনেকে এমনও ছিলেন, যারা মূলত গাজ্জার অধিবাসী। কিন্তু থাকেন পশ্চিম তীরে। সকলেই প্রশিক্ষণে এজন্য অংশগ্রহণ করেছিলেন, যেনো তারা নিরাপত্তা প্রশাসন পরিচালনা, পুলিশি দায়িত্ব পালন এবং গাজ্জা শাসনের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে পারেন।

মিশরের কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সূত্র মিডল ইস্ট আইকে জানিয়েছে, এটি মার্চ মাসের আরব শীর্ষ সম্মেলনে প্রস্তাবিত মিশরের পুনর্গঠন পরিকল্পনার অংশ।

এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো জর্ডানের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে ফিলিস্তিনি পুলিশকে প্রশিক্ষণ দিয়ে গাজ্জায় মোতায়েন করা, যা রাজনৈতিক, আর্থিক ও আন্তর্জাতিক সমর্থন পাবে এবং পুনর্বাসন প্রচেষ্টায় অন্যান্য দেশকেও সম্পৃক্ত করবে।

পরিকল্পনায় আরো প্রস্তাব করা হয়েছিলো, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ যেনো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠন ও তার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গাজ্জা ও পশ্চিম তীরে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা বা শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করে, যা একটি বৃহত্তর কাঠামো ও সময়সূচির মধ্যে আবদ্ধ থাকবে।

পরিকল্পনায় যা প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেয় তা হলো, অসংখ্য ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি, যা কেবল একটি বিশ্বাসযোগ্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব। রাজনৈতিক প্রক্রিয়াই পারে এধরণের চ্যালেঞ্জ বা সমস্যার মূল কারণগুলো সমাধান করতে এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে।

তবে অপর এক মিসরীয় কূটনৈতিক সূত্র জানায়, পরিকল্পনাটি এখনও উপসাগরীয় দেশগুলোর, বিশেষত সৌদি আরবের সমর্থন পায়নি।

সূত্রটি আরো জানায়, আরব শীর্ষ সম্মেলনের আগে সৌদি আরবের রিয়াদে এক গোপন বৈঠকে মিশরের প্রেসিডেন্ট আব্দুল ফাত্তাহ আল-সিসি উপসাগরীয় দেশগুলোকে এই পুনর্গঠন পরিকল্পনার জন্য রাজি করানোর চেষ্টা করেছিলেন। পরিকল্পনাটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজ্জাবাসীকে উৎখাত কেন্দ্রিক পুনর্গঠন পরিকল্পনার বিকল্প হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছিলো।

কিন্তু সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত যুদ্ধ শেষ হওয়া ছাড়া এই মিশরীয় পরিকল্পনা ও অন্য বিকল্প পরিকল্পনার জন্য কোনো সহায়তা বা তহবিল দিতে অস্বীকৃতি জানায়। তারা শর্ত দেয় যে, হামাসকে নিরস্ত্র করতে হবে এবং হামাস যোদ্ধাদের গাজ্জস উপত্যকা থেকে সরিয়ে দিতে হবে। তারপরই কোনো পুনর্গঠন প্রক্রিয়া বা কায়রোতে তহবিল স্থানান্তর সম্ভব হবে।

ইতালির ফ্লোরেন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও গবেষক আলি আল-রাজ্জাল এই প্রসঙ্গে বলেছেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে গাজ্জায় মিশরের প্রভাব বেড়ে যাবে। মিশরের নিরাপত্তা স্বার্থের জন্য কায়রো এটিকে গুরুত্বপূর্ণ বলেও মনে করে।

তিনি আরো বলেন, “গাজ্জায় যত গভীরভাবে তাদের নিরাপত্তা উপস্থিতি বাড়বে, তত বেশি তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব বাড়বে, এবং ততই তাদের আঞ্চলিক ভূমিকা বাড়বে। বর্তমান সময়ে এটি একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। বিশেষত, যখন সব আঞ্চলিক ইস্যুতে মিশরের ভূমিকা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।”

Sourceinsaf24

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

nineteen + 7 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য