Monday, April 20, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরযেসব আমলে মানুষের অন্তর সুস্থতা লাভ করে

যেসব আমলে মানুষের অন্তর সুস্থতা লাভ করে

মানুষের জন্য শরীর সুস্থ রাখা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি মন সুস্থ রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম মানুষের মন সুস্থ রাখতে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছে এবং বলেছে, মনের সুস্থতা ও অসুস্থতা মানবদেহকেও প্রভাবিত করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, নোমান বিন বশির (রা.) বলেন, আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে ‘জেনে রাখো, শরীরের মধ্যে একটি গোশতের টুকরা আছে, তা যখন ঠিক হয়ে যায়, গোটা শরীরই তখন ঠিক হয়ে যায়। আর তা যখন খারাপ হয়ে যায়, গোটা শরীরই তখন খারাপ হয়ে যায়।জেনে রাখো, সে গোশতের টুকরাটি হলো কলব (অন্তর)।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫২)

সুস্থ মনের পরিচয়

ইসলামের দৃষ্টিতে মনের সুস্থতা বলতে বোঝায় মানুষের বিশ্বাসের পরিশুদ্ধি, ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব, কল্যাণকামিতা ও উদারতার মতো গুণাবলি অর্জন করা এবং হিংসা, বিদ্বেষ, কপটতা, অহংকার ও মিথ্যার মতো মন্দ স্বভাব থেকে মুক্ত থাকা। কেননা উত্তম গুণাবলি মনকে প্রশান্ত করে এবং মন্দ স্বভাব তাকে অস্থির ও অসুস্থ করে তোলে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলা হলো, কোনো ব্যক্তি সর্বোত্তম? তিনি বলেন, প্রত্যেক বিশুদ্ধ অন্তরের অধিকারী সত্যভাষী ব্যক্তি।

সাহাবিরা বললেন, সত্যভাষীকে তো আমরা চিনি, কিন্তু বিশুদ্ধ অন্তরের অধিকারী ব্যক্তি কে? তিনি বলেন, সে হলো পূতঃপবিত্র নিষ্কলুষ চরিত্রের মানুষ, যার কোনো গুনাহ নেই, নেই কোনো দুশমনি, হিংসা-বিদ্বেষ, আত্ম-অহমিকা ও কপটতা।
(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪২১৬)

মন সুস্থ রাখা আবশ্যক কেন

ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষের শরীর ও মনের মধ্যে গভীর সংযোগ রয়েছে। মানুষের মন যদি সুস্থ না থাকে, তবে তাঁর দেহ সুস্থ থাকবে না এবং দেহ সুস্থ না থাকলে সে পার্থিব ও অপার্থিব কাজগুলো ঠিকমতো করতে পারবে না। নিম্নে মন সুস্থ রাখার গুরুত্ব তুলে ধরা হলো—

১. ঈমান ঠিক হয় না : মন সুস্থ না থাকলে ব্যক্তির ঈমান ঠিক হয় না।রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, বান্দার মন ঠিক না হওয়া পর্যন্ত তার ঈমান ঠিক হয় না। আর তার জবান সংযত না হওয়া পর্যন্ত তার অন্তর ঠিক হয় না। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ১৩০৪৮)

২. শরীর সুস্থ থাকে না : মন সুস্থ না থাকলে শরীর বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণভাবে সুস্থ থাকে না। মহানবী (সা.) বলেন, শরীরের মধ্যে একটি গোশতের টুকরা আছে, তা যখন ঠিক হয়ে যায়, গোটা শরীরই তখন ঠিক হয়ে যায়। আর তা যখন খারাপ হয়ে যায়, গোটা শরীরই তখন খারাপ হয়ে যায়।(সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫২)

৩. আল্লাহর অনুগ্রহ : অন্তরের অসুখ থেকে বেঁচে থাকা আল্লাহর অনুগ্রহস্বরূপ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি তাদের অন্তর থেকে বিদ্বেষ দূর করব; তারা ভ্রাতৃত্ববোধ নিয়ে পরস্পরের মুখোমুখি হয়ে আসনে অবস্থান করবে, সেখানে তাদের অবসাদ স্পর্শ করবে না।’ (সুরা : হিজর, আয়াত : ৪৭-৪৮)

৪. জান্নাতি মানুষের বৈশিষ্ট্য : জান্নাতে মানুষ সব ধরনের মনের অসুখ থেকে মুক্ত থাকবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, প্রথম যে দল জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের চেহারা পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল হবে আর তাদের অনুগামী দলের চেহারা আকাশের উজ্জ্বল তারকার চেয়েও অধিক সুন্দর ও উজ্জ্বল হবে। তাদের অন্তরগুলো এক ব্যক্তির অন্তরের মতো হবে। তাদের মধ্যে কোনো বিদ্বেষ থাকবে না, কোনো হিংসা থাকবে না। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩২৫৪)

৫. নবী-রাসুলদের বৈশিষ্ট্য : মনের সুস্থতা নবী-রাসুলদের বৈশিষ্ট্য। পবিত্র কোরআনে ইবরাহিম (আ.) সম্পর্কে ইরশাদ হয়েছে, ‘স্মরণ করো, সে তার প্রতিপালকের কাছে উপস্থিত হয়েছিল বিশুদ্ধচিত্তে।’ (সুরা : সাফফাত, আয়াত : ৮৪)

৬. পরকালে মুক্তি লাভের শর্ত : পরকালে মুক্তি লাভের জন্য সুস্থ মন নিয়ে উপস্থিত হওয়া আবশ্যক। আল্লাহ বলেন, ‘যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো কাজে আসবে না; সেদিন উপকৃত হবে শুধু সে, যে আল্লাহর কাছে আসবে বিশুদ্ধ অন্তঃকরণ নিয়ে।’ (সুরা : আশ-শুআরা, আয়াত : ৮৮-৮৯)

যেসব কাজে মন সুস্থ থাকে

কোরআন-হাদিসের আলোকে মানুষের মনের সুস্থতার জন্য অপরিহার্য কয়েকটি আমল হলো—

১. আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক রাখা : আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন বান্দার মন সুস্থ রাখে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা! রাসুল যখন তোমাদেরকে এমন কিছুর দিকে আহ্বান করে, যা তোমাদের প্রাণবন্ত করে, তখন আল্লাহ ও রাসুলের আহ্বানে সাড়া দেবে এবং জেনে রাখো যে আল্লাহ মানুষ ও তার অন্তরের মধ্যবর্তী হয়ে থাকেন। তার কাছেই তোমাদেরকে একত্র করা হবে।’ (সুরা : আনফাল, আয়াত : ২৪)

২. আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা : মন রাখার জন্য মুমিন আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা তাদের পরে এসেছে, তারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের এবং ঈমানে অগ্রণী আমাদের ভাইদের ক্ষমা করো এবং মুমিনদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে বিদ্বেষ রেখো না।’ (সুরা : হাশর, আয়াত : ১০)

৩. কোরআন অনুসরণ করা : আল্লাহ কোরআনকে অন্তরের আরোগ্যস্বরূপ করেছেন। তাই মনের সুস্থতার জন্য কোরআন তিলাওয়াত আবশ্যক। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মানুষ! তোমাদের প্রতি তোমাদের প্রতিপালকের কাছ থেকে এসেছে উপদেশ এবং তোমাদের অন্তরে যা আছে তার আরোগ্য, মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও রহমত।’ (সুরা : ইউনুস, আয়াত : ৫৭)

৪. মন্দ ধারণা থেকে বেঁচে থাকা : মন্দ ধারণা মানুষের অন্তরে ক্লেশ সৃষ্টি করে এবং বহুবিদ রোগের জন্ম দেয়। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা! তোমরা বেশির ভাগ অনুমান থেকে দূরে থাকো; কেননা অনুমান কোনো কোনো ক্ষেত্রে পাপ।’ (সুরা : হুজরাত, আয়াত : ১২)

৫. পার্থিব মোহ ত্যাগ করা : দুনিয়ার মোহ মানুষের মনে লোভ-লালসা, ক্ষোভ-বিদ্বেষ ও অহংকারের মতো ভয়াবহ ব্যাধি সৃষ্টি করে। তাই মন সুস্থ রাখতে মোহ ত্যাগ করা আবশ্যক। আল্লাহ বলেন, ‘তুমি তোমার চক্ষুদ্বয় কখনো প্রসারিত কোরো না তার প্রতি, যা আমি তাদের বিভিন্ন শ্রেণিকে পার্থিব জীবনের সৌন্দর্যস্বরূপ উপভোগের উপকরণ হিসেবে দিয়েছি। এর দ্বারা তাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য। তোমার প্রতিপালক প্রদত্ত জীবনোপকরণ উৎকৃষ্ট ও অধিক স্থায়ী।’ (সুরা : তাহা, আয়াত : ১৩১)

আল্লাহ সবার মন সুস্থ রাখুন। আমিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

one × four =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য