Friday, April 17, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরআন্তর্জাতিকযে ৬ কারণে ভেস্তে গেল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা

যে ৬ কারণে ভেস্তে গেল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা

প্রায় ২১ ঘণ্টাব্যাপী চলমান থাকার পরও কোনো আলোর মুখে দেখেনি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা। আলোচনায় কোনো ফল না আসায় ইসলামাবাদ ত্যাগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা। কিন্তু কী কারণে শান্তি আলোচনায় কোনো অগ্রগতি হয়নি, তা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক আরবি ভাষার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম আল জারিদা জানিয়েছে, মূলত ছয়টি কারণে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনায় কোনো অগ্রগতি হয়নি।

ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ার ছয় কারণ হলো:

১. লেবাননে যুদ্ধবিরতি: ইরান লেবাননে হিজবুল্লাহসহ তার মিত্রদের বিরুদ্ধে সব ধরনের সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ করার দাবি জানায়। তবে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তারা ইসরায়েলের মতো তৃতীয় পক্ষের বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারে না এবং এ ধরনের বিষয় আলাদা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।

২. স্থগিত সম্পদ: নিষেধাজ্ঞা ও ইরানের জব্দকৃত অর্থ নিয়ে আলোচনা হয়, যেখানে তেহরান কিছু অর্থ দ্রুত মুক্তির আশা করছিল। কিন্তু ওয়াশিংটন জানায়, পূর্ণাঙ্গ চুক্তি এবং ইরানের বাধ্যবাধকতা বাস্তবায়নের পরেই এসব সম্পদ মুক্তির বিষয় বিবেচনা করা হবে।

৩. ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ: যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভেতরে সব ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করার দাবি তোলে এবং ৬০ শতাংশের বেশি সমৃদ্ধ প্রায় ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দেয়, যা আন্তর্জাতিক পরমানু শক্তি কমিশনের তত্ত্বাবধানে করা হবে। ইরান এটিকে তার সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করে।

৪. ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি: যুক্তরাষ্ট্র ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের পাল্লা ৩০০ কিলোমিটারের নিচে সীমাবদ্ধ করার প্রস্তাব দেয় এবং আরও কঠোর পরিদর্শন ব্যবস্থার কথা বলে। ইরান মনে করে, এটি তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে দুর্বল করবে।

৫. হরমুজ প্রণালি: যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে সম্পূর্ণ নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেয়, এমনকি সামরিক জাহাজের জন্যও, এবং একটি যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা বলে। ইরান এটি প্রত্যাখ্যান করে এবং প্রণালির ওপর নিজের সার্বভৌমত্বের দাবি বজায় রাখে।

৬. ক্ষতিপূরণ ইস্যু: ফেব্রুয়ারি ২৮ তারিখে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি সামরিক হামলায় ইরানের ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র কোনো ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এছাড়া, বিষয়টি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে তোলার বিরোধিতা করে এবং ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে মত দেয়।

সার্বিকভাবে, এই মৌলিক মতবিরোধগুলোর কারণে আলোচনায় কোনো অগ্রগতি সম্ভব হয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

19 − three =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য